Supreme Court: মৃত্যুর পর কালিমামুক্ত হলেন মনমোহন সিংহ, ক্লিনচিট দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলল, ‘যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছিল না’
Manmohan Singh: বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মনমোহনকে মরণোত্তর ক্লিনচিট দিল।

নয়াদিল্লি: মৃত্যুর পর কয়লা খনি বণ্টন মামলায় ক্লিনচিট পেলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। ২০১৫ সালেই মনমোহনের বিরুদ্ধে মামলা বন্ধের সুপারিশ করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু তাদের সেই ক্লোজার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা CBI-এর বিশেষ আদালত। মনমোহনকে সমন পাঠায় CBI আদালত, বিচারের মুখোমুখি হতে বলে। কিন্তু বুধবার বিশেষ CBI আদালতের সেই নির্দেশ খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিল, কয়লা খনি বণ্টন দুর্নীতি মামলায় মনমোহনের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ বা কার্যকারণই ছিল না। (Manmohan Singh)
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মনমোহনকে মরণোত্তর ক্লিনচিট দিল। আদালত জানিয়েছে, সাধারণত আবেদনকারীর মৃত্যুর দরুণ মামলা অকার্যকর হয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার ক্লোজার রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থার ক্লোজার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করা বা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার মতো জোরাল কোনও কারণই ছিল না সংশ্লিষ্ট বিচারকের কাছে। (Supreme Court)
আরও পড়ুন: ঝাঁপ বন্ধ হচ্ছে Paytm ব্যাঙ্কের, সব গুটিয়ে নিচ্ছে RBI, Wallet, UPI, QR Code ব্যবহারকারীদের কী হবে?
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মারা যান মনমোহন। কিন্তু কয়লা খনি বণ্টন দুর্নীতি মামলায় তাঁর সম্পর্কে বিশেষ আদালত যে বিরূপ মন্তব্য করেছিল, তার রেশ কাটেনি শেষ দিন পর্যন্ত। আদালতে সেই নিয়ে সওয়াল করছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁরা জানান, ২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট এবং ২১ অক্টোবরই ক্লোজার রিপোর্ট পেশ হয়। কিন্তু তার পরও বিশেষ আদালতের বিচারক সেই ক্লোজার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন এবং মনমোহনের বিরুদ্ধে মামলা বহাল রাখেন। ২০১৫ সালের ১১ মার্চ মনমোহনকে সমন পাঠানো হয়, বলা হয় বিচারের মুখোমুখি হতে।
এদিন আদালতে সিব্বল যুক্তি দেন যে, বিশেষ আদালত মামলা পরিচালনার অনুমতির অপেক্ষা পর্যন্ত করেনি। আগ বাড়িয়ে সেটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরই মনমোহনকে ক্লিনচিট দিয়ে আদালত বলে, “বিশেষ আদালতের বিচারক কেন ক্লোজার রিপোর্ট প্রত্য়াখ্য়ান করেছিলেন, তার সপক্ষে কোনও জোরাল কারণ দেখতে পাচ্ছি না আমরা। মামলার গুরুত্ব বিচার করে আমরা ওই নির্দেশ খারিজ করছি এবং মামলা বন্ধে সায় দিচ্ছি।” আদালত আরও বলে, “তদন্তকারী সংস্থার ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু মানদণ্ড রয়েছে। ক্লোজার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে মামলা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও যুক্তিযুক্ত কারণ ছিল না।”
আরও পড়ুন: ‘কুৎসিত-কদাকার, বাড়ির বউ হওয়ারও যোগ্য নয়’, NEET-আন্দোলনকারীদের আক্রমণ বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের
২০০৫ সালে ওড়িশার তালাবিরা ২ কয়লা খনি বণ্টন দুর্নীতি মামলায় মনমোহন, শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লা, প্রাক্তন কয়লা সচিব পিসি পরখ এবং আরও তিন জনকে অভিযুক্ত হিসেবে সমন পাঠায় বিশেষ আদালত। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪০৯ (সরকারি কর্মী/ব্যাঙ্কার/মার্চেন্ট/এজেন্ট দ্বারা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে সমন পাঠানো হয় তাঁদের। সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তীতে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে এবং সমনে স্থগিতাদেশ দেয়। বিষয়টি নিয়ে আবেদন জানান মনমোহনও। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ওড়িশার ওই কয়লা খনি বণ্টনের সিদ্ধান্তে তিনি কোনও রকম অপরাধমূলক কাজকর্মে যুক্ত ছিলেন না। কংগ্রেসও জানায়, আদালত কাউকে সমন পাঠালেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে যান না। কিন্তু বরাবর ‘জেন্টলম্যান’ হিসেবে পরিচিত মনমোহনের ভাবমূর্তি নিয়ে ততদিনে প্রশ্ন উঠে যায়। রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত, মৃত্যুর পর কালিমামুক্ত হলেন মনমোহন।























