ভয়ঙ্কর হল ইবোলা আতঙ্ক ! এখানে শুরু ২১ দিনের আইসোলেশন, কী পরিস্থিতি ভারতে? কেন্দ্র জানাল ...
ইবোলা-আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে ২১ দিন সেলফ-আইসোলেশনে থাকতে হবে

ইবোলা নিয়ে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। Ebola সংক্রমণ ঘিরে ফের উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশে। আফ্রিকার একাধিক দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধি রীতিমতো চোখে পড়ার মতোই। এর মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা ( Canada ) সরকার। ইবোলা আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের জন্য ২১ দিনের বাধ্যতামূলক সেলফ-আইসোলেশন চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডা থেকে আসা অভিবাসন সংক্রান্ত আবেদনগুলির উপরও সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সতর্ক হয়েছে ভারতও ( India ) । কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা ( Jagat Prakash Nadda ) স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, স্ক্রিনিং ও নজরদারি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
কানাডায় ২১ দিনের আইসোলেশন বাধ্যতামূলক
কানাডার পাবলিক হেলথ এজেন্সির আধিকারিক লুক ব্রিজবোয়া জানিয়েছেন, “অতিরিক্ত সতর্কতা” হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী—
- ইবোলা-আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে ২১ দিন সেলফ-আইসোলেশনে থাকতে হবে
- কারও উপসর্গ থাকলে সরাসরি হাসপাতালে পাঠানো হবে
- যাঁদের আলাদা থাকার জায়গা নেই, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করবে সরকার
- আপাতত ২৯ অগাস্ট পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে
এছাড়াও বুধবার থেকে কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার নাগরিকদের ইমিগ্রেশন আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছে কানাডা সরকার। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সময়সীমা বাড়ানো বা কমানো হতে পারে।
ভারতের প্রস্তুতি কতটা?
ইবোলা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সোমবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে কেন্দ্র। বিমানবন্দর, আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাকে সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জোর দেওয়া হয়েছে—
- আন্তর্জাতিক যাত্রীদের স্ক্রিনিং
- সন্দেহভাজনদের দ্রুত টেস্ট
- কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং
- হাসপাতালের আইসোলেশন প্রস্তুতি
- রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতে আতঙ্কের কারণ না থাকলেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের কারণে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কঙ্গোয় ভয়াবহ পরিস্থিতি
Democratic Republic of the Congo-র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইবোলা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ইতুরি প্রদেশে, যেখানে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে, সেখানে একাধিক হাসপাতালে সংক্রমণ ঘটেছে।
কতটা ভয়ঙ্কর ইবোলা?
ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাল রোগ, যার মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। বিভিন্ন মেডিক্যাল সাইটবলছে, ইবোলা মূলত একজন সংক্রামিত, অসুস্থ বা মৃত ব্যক্তির দেহরস (রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মলমূত্র ইত্যাদি) সরাসরি সংস্পর্শে এলে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। সুস্থ মানুষের চোখের, নাকের, মুখের বা ত্বকের ক্ষত অংশের মাধ্যমে এই দেহরস শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে। এছাড়া সংক্রামিত প্রাণী (যেমন- বাদুড় বা বানর) থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।
ইবোলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- এটি মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়াতে পারে
- গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ
- ইবোলায় মৃত্যুহার ক্ষেত্রবিশেষে ২৫% থেকে ৯০% পর্যন্ত পৌঁছেছে
- জ্বর, দুর্বলতা, বমি, রক্তক্ষরণসহ একাধিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে
- দ্রুত আইসোলেশন ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি
বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট ভাইরাসের জন্য টিকা ও চিকিৎসা রয়েছে, তবে সব ধরনের ইবোলার ক্ষেত্রে এখনও পূর্ণাঙ্গ সমাধান তৈরি হয়নি।
বিশ্বজুড়ে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক যাতায়াত, সীমান্ত পেরিয়ে চলাচল এবং সংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ইবোলা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সেই কারণেই কানাডার মতো দেশ আগেভাগে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।ভারতও এখন “ওয়াচ মোডে”। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও দ্রুত প্রস্তুতিই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
Before You Go
Medinipur Hotel: মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর মেদিনীপুরে ২টি হোটেল, একটি শপিং মল সিল





















