Jagdeep Dhankhar : দু'দফায় জ্ঞান হারালেন, দিল্লির এইমসে ভর্তি করা হল প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে !
Jagdeep Dhankhar Health Issue : এর আগে কছ, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও দিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় ধনকড়ের ব্ল্যাক-আউটের সমস্যা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নয়াদিল্লি : সপ্তাহান্তে দু'বার জ্ঞান হারিয়েছেন। তাই, সোমবারই দিল্লির এইমসে ভর্তি করা হল ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে। সংবাদ সংস্থা PTI-এর খবর অনুযায়ী, গত শনিবার স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় বছর ৭৪-এর ধনকড়ের। বাথরুমে যাওয়ার পর দু'দফায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে তাঁকে চেকআপের জন্য AIIMS-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকার তাঁর আরও পরীক্ষা-নিরাক্ষার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর MRI হতে পারে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এর আগে কছ, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও দিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় ধনকড়ের ব্ল্যাক-আউটের সমস্যা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকারের সঙ্গে পদে পদে সংঘাত বাধে তাঁর। সাংবিধানিক পদে থেকে ধনকড় নির্বাচিত সরকারের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করছেন, বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইভাবে উপরাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েও বার বার বিতর্কে জড়ান ধনকড়। বিরোধী শিবিরের সাংসদদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে গত বছর ২১ জুলাই হঠাৎই পদত্যাগপত্র জমা দেন ধনকড়। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে, তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিরোধীরা। ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে বেশ কিছুদিন লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন ধনকড়। তিনি কোথায় আছেন, কী করছেন, কেন তা গোপন রাখা হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। সেই নিয়ে চর্চার মধ্যেই পেনশনের আবেদন জানান ধনকড়।
উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে সেভাবে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি ধনকড়কে। তবে গত নভেম্বরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি। একটি বই উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি যা বলেন, তা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে RSS-এর যুগ্মসচিব মনমোহন বৈদ্যর লেখা বই উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন ধনকড়। সেখানে রাজনীতিতে, উপরাষ্ট্রপতি থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “চার মাস পর এখন আর ইতস্তত করার কিছু নেই আমার।”
উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সেই প্রথম প্রকাশ্যে বক্তৃতা করেন তিনি। বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই, মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’বছর আগে তিনি ইস্তফা দেন বলে সেই সময় চর্চা শুরু হয়েছিল। সেই নিয়ে কম কাটাছেঁড়া হয়নি। সেই জল্পনা আরও উস্কেই দেন ধনকড়। নিজের বক্তৃতায় ধনকড় বলেন, “ঈশ্বর না করুন, ভাষ্যের বেড়াজালে যে কেউ আটকে পড়তে পারেন। একবার চক্রব্যূহে আটকে পড়লে, বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে যায়।” এর পর যদিও হেসে ওঠেন ধনকড়। বলেন, “নিজের উদাহরণ দিচ্ছি না।”






















