LPG : LPG নিয়ে বড় আপডেট ! রান্নার গ্যাস নিয়ে আর চিন্তা নয়, দাম কমার দিকে এগোচ্ছে দেশ?
প্রায় ৪০টি জাহাজ ভারতের উদ্দেশে হরমুজ প্রণালী পেরোনোর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা বোধ হয় রান্নার গ্যাস বা LPG-বোঝাই জাহাজগুলির দিকে।

কলকাতা : পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি আদৌ বজায় থাকলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচল। আর তাতেই বড় স্বস্তি পেতে পারে ভারত। ভারতে এখনও এলপিজি সরবরাহ নিয়ে অনেকেই চিন্তায়। সরকার ক্রমাগত আশ্বাস দিলেও, সম্প্রতি ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে চিন্তায় ফেলেছে। তাহলে কি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে দাম? নাকি স্বস্তি দেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাধাহীন নৌ-চলাচল? এই মুহূর্তের বড় খবর, বর্তমানে প্রায় ৪০টি জাহাজ ভারতের উদ্দেশে হরমুজ প্রণালী পেরোনোর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা বোধ হয় রান্নার গ্যাস বা LPG-বোঝাই জাহাজগুলির দিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ভারতের LPG আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। ফলে এখন দ্রুত মজুত পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, "LPG আমদানি যুদ্ধ-পূর্ব স্তরের প্রায় ৫১ শতাংশে নেমে এসেছিল। ফলে এই খাতে পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।" ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বহু জাহাজ আটকে পড়ে, সরবরাহে বিলম্ব ঘটে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
যদিও এই সংকটের মধ্যেও ভারত তুলনামূলকভাবে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু LPG আমদানিতে বড় ধাক্কা লাগে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে যে কোনও অস্থিরতার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পুনরুদ্ধার এক ধাপে হবে না। বিভিন্ন জ্বালানির ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধারের গতি আলাদা হতে পারে। LPG আমদানিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে, কারণ এই বাণিজ্য বিশেষ ধরনের ট্যাঙ্কার, নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং সীমিত সংখ্যক সরবরাহকারীর উপর নির্ভরশীল। ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহ তুলনামূলক দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি টার্মিনালগুলি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরলে এবং আরও জাহাজ পরিষেবায় যোগ দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংকটের মধ্যেও অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বহু তেলবাহী জাহাজ সংঘাত তীব্র হওয়ার আগেই রওনা দিয়েছিল। পাশাপাশি উৎপাদক দেশগুলি অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দেয় এবং ভারতীয় রিফাইনারিগুলিও একাধিক উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ফলে তেল আমদানির গতি কিছুটা কমলেও তা কখনও সম্পূর্ণ থেমে যায়নি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা মার্চের শুরুর পর সর্বনিম্ন স্তরগুলির মধ্যে অন্যতম।






















