IIT প্রাক্তনী থেকে ধর্মীয় 'বাবা' ! কথায় ভুলিয়ে 'গন্ধর্ব বিয়ে', যৌন নির্যাতন !
তরুণ-তরুণীদের নিজের গোষ্ঠীতে টেনে এনে তাঁদের ‘ব্রেনওয়াশ’ করতেন এবং ধর্মীয় আচার ও তথাকথিত সামাজিক রীতির আড়ালে যৌন নির্যাতন চালাতেন এই আইআইটির প্রাক্তনী।

আগ্রা: IIT রুরকির প্রাক্তন ছাত্র। পরে স্বঘোষিত ধর্মগুরু। শেষ পর্যন্ত যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ৩০ বছরের অভিষেক মিশ্র ওরফে আদিকর্তা নারায়ণ দাস। অভিযোগ, আধ্যাত্মিক শিক্ষার নাম করে তরুণ-তরুণীদের নিজের গোষ্ঠীতে টেনে এনে তাঁদের ‘ব্রেনওয়াশ’ করতেন এবং ধর্মীয় আচার ও তথাকথিত সামাজিক রীতির আড়ালে যৌন নির্যাতন চালাতেন এই আইআইটির প্রাক্তনী।
মথুরা (গ্রামীণ) জেলার পুলিশ সুপার সুরেশ চন্দ্র রাওয়াত জানিয়েছেন, সোমবার রাতে গোবর্ধনের রাধাকুণ্ড এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। মূলত ভুবনেশ্বরের বাসিন্দা অভিষেক IIT রুরকি থেকে পাশ করার পর দিল্লি NCR-এর একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। পরে তিন বছর আগে মথুরায় এসে নিজেকে ধর্মগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা শুরু করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ইউটিউব এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ধর্মীয় বক্তৃতার মাধ্যমে অনুসারী বাড়াতেন অভিষেক। দাবি করতেন, নারী-পুরুষকে ‘আধ্যাত্মিক শিক্ষা’ দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। ধীরে ধীরে তরুণ-তরুণীদের নিজের গোষ্ঠীতে টেনে এনে তাঁদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতেন বলে অভিযোগ।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত তথাকথিত ‘গন্ধর্ব বিবাহ’-এর ধারণা প্রচার করতেন। এই ধরনের বিবাহে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান, অগ্নিসাক্ষী বা সাক্ষীর প্রয়োজন নেই বলে বোঝাতেন তিনি। এরপর ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেন বলে অভিযোগ। এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার সূত্রপাত। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, তিনি তাঁর দিদির কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁর দিদি একটি PSU-তে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন এবং অভিষেকের গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, ‘প্রসাদ’ বলে দেওয়া দুধে মাদক মিশিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে সেই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
গোবর্ধন থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(১) ধারা (ধর্ষণ), ৩৫১ ধারা (ভয় দেখানো) এবং ৭৫(২) ধারা (যৌন হেনস্থা)-সহ একাধিক ধারায় FIR দায়ের হয়েছে। তদন্তে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে একাধিক পুরুষ ও মহিলার অশ্লীল ছবি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অন্তত তিনজন মহিলাকে অভিযুক্তের আশ্রম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়জন নারী-পুরুষ যৌথভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও সূত্রের খবর।






















