Mausam Benazir Noor : কংগ্রেসে ফিরেই মৌসমকে 'সুখের পায়রা' বলে কটাক্ষ দলেরই বর্ষীয়ান নেতার
Abdul Hannan Attacks Mausam Benazir Noor : তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরতেই কটাক্ষের মুখে গনিখান পরিবারের সদস্য মৌসম

কলকাতা: কংগ্রেসে ফিরেই কটাক্ষ শুনতে হল মৌসম বেনজির নুরকে। তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফেরেন গনিখান পরিবারের সদস্য মৌসম। তারপর এদিনই তাঁকে সুখের পায়রা বললেন মালদার কংগ্রেস নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল হান্নান। তদন্ত করে দেখব, ফোনে এবিপি আনন্দকে বললেন ঈশা খান চৌধুরী। মালদা জেলা কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব যখন সামনে চলে এসেছে, তখন কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। যদিও গোটা বিষয় নিয়ে মৌসম বেনজির নুরের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন, দিলীপের পছন্দ 'খড়গপুর', হিরণ বললেন, 'যদি আমাকে এখান থেকে লড়তে বলে..' ?
শনিবার দিল্লিতে তৃণমূল ছে়ড়ে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল গনিখান পরিবারের সদস্য মৌসম বেনজির নুরের। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বেসুরো বাজল মালদার কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশ!মৌসম বেনজির নুরকে সুখের পায়রা বলে কটাক্ষ করলেন মালদা জেলা পরিষদের কংগ্রেস সদস্য আবদুল হান্নান। মালদা জেলা পরিষদ কংগ্রেস নেতা ও সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, আমি মনে করি উনি কংগ্রেসের আসল লোক নয়। উনি যেদিকে সুবিধাবাদী সেখানেই গিয়েছিলেন। আবার সুবিধা আসতে চলেছে বলে উনি চলে এলেন। সুখের পায়রা যেখানে সুখ পায়, সেখানেই থাকে। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন মৌসম।তাঁকে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে মালদার জেলার সভানেত্রী হন তিনি।তৃণমূলের রাজ্য়সভার সাংসদও হন।
গত ২৯ ডিসেম্বর, মালদা জেলায় দলের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে মৌসম বেনজির নুরকে হবিবপুর, সুজাপুর, মোথাবাড়ি ও বৈষ্ণবনগর- এই চার বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বও দেয় তৃণমূল। কিন্তু এর ৫ দিনের মাথায় শনিবার কংগ্রেসে যোগ দেন মৌসম বেনজির নুর! তৃণমূলত্য়াগী কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নুর বলেন, আমার মনে হয়, পশ্চিমবঙ্গেও পরিবর্তন প্রয়োজন। কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ পার্টি। আমি চাই পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আসুক। সেই পরিবর্তন আমাকে দিয়ে শুরু হোক।
প্রশ্ন: প্রধান রাজনৈতিক শত্রু কারা হতে পারে?
মৌসম বেনজির নুর, তৃণমূলত্য়াগী কংগ্রেস নেত্রী : আমাদের কংগ্রেসের যারা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী সবসময় বিজেপিই রয়েছে। বিজেপিই থাকবে।
কিন্তু কংগ্রেসে ফিরতেই দলের অন্দরে কটাক্ষের শিকার হতে হল মৌসম বেনজির নুরকে!মালদা জেলা পরিষদ কংগ্রেস নেতা ও সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, কংগ্রেসের লাভ লোকসান তো দূরের কথা, আমি মনে করি, কংগ্রেস ছিল, এখনও আছে, আগামীতেও থাকবে। যেমন উনি ছিলেন না, আমাদের সাংসদ বেড়েছে। আমাদের সাংসদ অল ইন্ডিয়া বেসিসে বেড়েছে। ৪২টা ছিল প্রায় ৯৯টা হয়েছে। কিন্তু উনি এসে যে ৫৪২টা হয়ে যাবে আমার মনে হয় না। দুঃখের সময় যে না থাকে, তাকে আমি মনে করি না যে কংগ্রেসের একজন সৈনিক বা কংগ্রেসের একজন আসল লোক।
মালদা দক্ষিণ কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী বলেন, আমি অবাক হয়েছি যে উনি এধরনের কথা বলেছেন। মৌসমকে আনার দুটো কারণ। একটা হচ্ছে মালদার দলটা এক হয়ে যাক মানে পরিবারটা এক হয়ে যাক। আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, এতে হাইকমান্ড যুক্ত আছে, এটা জাতীয় কংগ্রেস দলের সিদ্ধান্ত। সবাইকে পার্টির সিদ্ধান্ত মানতে হবে। উনি কেন এরকম বলেছেন, আমি মালদায় এসে, কিছুদিনের মধ্যে তো আসছি, আমি অবশ্যই বিষয়টা তদন্ত করব।
মৌসম বেনজির নুরকে ফেরানো নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে দ্বন্দ্ব সামনে চলে আসায়, আক্রমণ করতে ছাড়েনি তৃণমূলও। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কো অর্ডিনেটর আশিস কুণ্ডু বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিনকে তাঁর মা রুবি নুর প্রয়াত হয়েছিলেন,সেদিনকে বিধায়িকার যে নির্বাচন সেখানে কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেয়নি। তাঁর মা-কে সম্মান জানানো হয়েছিল। সেগুলো ভুলে গেলেন মৌসম নুর। আজকে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তামাক খেয়ে কংগ্রেসে জয়েন করলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল বুঝিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে ৬ বছর ধরে সুবিধা ভোগ করলেন। এরা সুবিধাবাদী। আমরা দেখিনি কোনওদিন মৌসম নুরকে তৃণমূলের জন্য লড়াই আন্দোলন সংগঠিত করতে। এরা শুধুমাত্র নিতে এসেছেন।' কংগ্রেসে ফিরে কটাক্ষের মুখে পড়লেও, এখনও এ নিয়ে মৌসম বেনজির নুরের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।






















