এক্সপ্লোর
ভারতীয় রেলের খাবার মানুষের খাওয়ার অযোগ্য, উল্লেখ ক্যাগ রিপোর্টে

নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলে যাত্রীদের যে খাবার দেওয়া হয়, তা মানুষের খাওয়ার যোগ্যই নয়। শুক্রবার সংসদে পেশ হওয়া কম্প্রোটার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (ক্যাগ) রিপোর্টে এমনই বলা হয়েছে। ৭৪টি স্টেশনে ৮০টি ট্রেনে সমীক্ষা চালিয়ে এই রিপোর্ট দিয়েছে ক্যাগ। রেলের ক্যাটারিং পরিষেবার নীতি ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখার জন্য এই সমীক্ষা চালানো হয়। এই রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি, ক্রয়ক্ষমতা, মান ও খাবার পাওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানেই পাওয়া গিয়েছে গলদ। ভারতীয় রেলে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ২২ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেল ভারতেই। অথচ সেখানেই খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্যাগ রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনে প্যান্ট্রি কার নেই। ফলে ফেরিওয়ালারা খাবার বিক্রি করছেন। রেল প্রশাসন খাবারের মান বাড়ানোর জন্য যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেটা কার্যকর হয়নি। রেলে যাত্রীদের যে পানীয় দেওয়া হয়, সেটা তৈরি হয় কল থেকে অপরিশোধিত জল দিয়ে। জঞ্জাল ফেলার পাত্র ঢাকা থাকে না। সেগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। খাবারও ঢাকা দেওয়া থাকে না। ফলে খাবারে মাছি, পতঙ্গ মুখ দেয়, ধুলো পড়ে। অনেক ট্রেনে ইঁদুর, আরশোলাও পাওয়া গিয়েছে। খাবারের মানই শুধু নয়, দাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ক্যাগ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, যাত্রীদের খাবারের দামের বিল দেওয়া হয় না। বিভিন্ন ট্রেনে খাবারের দামও আলাদা। বিভিন্ন স্টেশনে অননুমোদিত ব্র্যান্ডের পানীয় জলের বোতল, মেয়াদ উত্তীর্ণ বাক্স ও বোতলবন্দি খাবার ও পানীয়, নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবারও বিক্রি করা হয়। ভারতীয় রেলে খাবারের মান বাড়ানোর জন্য ক্যাটারিং ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর সুপারিশ করা হয়েছে ক্যাগ রিপোর্টে। স্টেশনগুলিতে স্বল্পমূল্যের জনতা মিল এবং পরিচ্ছন্নতা দেখভাল করার জন্য নিয়মিত নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। ক্যাটারিং সংস্থার কর্মীরা যাতে উপযুক্ত বেতন পান এবং একইসঙ্গে খাবারের মান বজায় থাকে, তার জন্য খাবারের দাম নির্দিষ্ট করার কথাও বলা হয়েছে রিপোর্টে।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















