সুখোই-৩০ বিমানে ব্রহ্মোসের এয়ার-ভার্সান পরীক্ষা চলতি সপ্তাহেই

নয়াদিল্লি: দেশের সামরিক শক্তিকে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এক বড় পরীক্ষা করতে চলেছে ভারত।
খবরে প্রকাশ, চলতি সপ্তাহেই বায়ুয়েনার জন্য উপযোগী ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের এয়ার-ভার্সনের পরীক্ষা করা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরের ওপর এই পরীক্ষা চলবে।
বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রহ্মোসের হাল্কা এয়ার-ভার্সন পরীক্ষা করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য বায়ুসেনার সবচেয়ে ক্ষিপ্র ‘সুখোই-৩০’ যুদ্ধবিমানকে বাছা হয়েছে।
দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও এই বিমানেই ব্রহ্মোসের এই বিশেষ ভার্সানকে মোতায়েন করে পরীক্ষা চালাতে উদ্যোগী। কারণ, বর্তমানে দেশের সেরা যুদ্ধবিমান হল রুশ-নির্মিত সুখোই-৩০।
প্রথমবার এই পরীক্ষা করতে চলেছে। সফল হলে, বিশ্বের মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় চলে আসতে পারবে ভারত। এক লাফে দেশের সামরিক সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
এমনিতেই শব্দের চেয়ে তিনগুণ দ্রুতগতিতে চলা ব্রহ্মোসকে ইন্টারসেপ্ট (ধরতে পারা) শত্রুদেশের পক্ষে অসম্ভব। তার ওপর এবার আকাশ থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ক্ষমতা ভারতের হাতে এলে, পরিস্থিতি একেবারে পাল্টে যাবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টিকে বলছে ‘গেম চেঞ্জার’। কারণ, ওই উচ্চগতিতে ব্রহ্মোস নির্ভুলভাবে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে ভূমিতে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম।
ইতিমধ্যেই, ব্রহ্মোসের ল্যান্ড (ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ) মিসাইল সেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে। নেভাল (জাহাজ ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ) ভার্সানগুলিও পরীক্ষায় উতরেছে। সেগুলিও নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বাকি ছিল, বায়ুসেনার ব্যবহারের জন্য ব্রহ্মোসকে সক্ষম করে তোলা। প্রযুক্তির হেরফের করে এই মিসাইলের ওজন অন্য দুই সংস্করণের থেকে হাল্কা রাখা হয়েছে। যাতে বিমান বহন করতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, এই মিসাইলের ওজন প্রায় ২.৪ টন। বাকি সংস্করেণ তুলনায় প্রায় ০.৫ টন কম। তবে, এক সামরিক কর্তা জানিয়েছেন, নতুন এয়ার-ভার্সানটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বাহিনীর তিনটি বিভাগই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
ব্রহ্মোসের এই এয়ার-ভার্সন তৈরির জন্য সরকার প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।






















