তালিবান দমনে আমেরিকার দেওয়া অস্ত্রই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে পাকিস্তান, জানাল সেনা

নয়াদিল্লি: জঙ্গি মোকাবিলা করার জন্য আমেরিকার থেকে কেনা অস্ত্রই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। এমনটাই জানাল ভারতীয় সেনা। এই মর্মে যাবতীয় প্রমাণ ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিয়েছে নয়াদিল্লি।
গত রবিবার, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি ও পুঞ্চ সেক্টরে বিনা প্ররোচনায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তিলঙ্ঘন করে পাকিস্তান। ভারতীয় সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে ভারী গোলাবর্ষণ করে পাক সেনা। ওই হামলায় সেনার এক তরুণ ক্যাপ্টেন ও তিন জওয়ান শহিদ হন।
কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, ওই হামলায় ভারতীয় আউটপোস্টগুলিকে নিশানা করতে পাকিস্তান অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) ব্যবহার করে। এর আগে পাকিস্তান মর্টার ও মেশিন গান ব্যবহার করত। এবার এটিজিএম ব্যবহার করে।
সেনা জানিয়েছে, যেখানে হামলা হয়েছে, সেখান থেকে মিসাইলের টুকরো সংগ্রহ করে নয়াদিল্লিতে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, টুকরোগুলি মার্কিন নির্মিত ‘টাও-২এ’ ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ। সেনার দাবি, তালিবানের মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে কিনেছিল পাকিস্তান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে ২০০০টি ‘টাও-২এ’ এটিজিএম ইসলামাবাদকে বিক্রি করার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস। উদ্দেশ্য ছিল, আত্মসুরক্ষা ও আফগানিস্তানে তালিবানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে সাহায্য করা।
সেনার দাবি, সেগুলি এখন ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। সঙ্গে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণও জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটনকে বলা হয়েছে, অতীতে যখন এই সামরাস্ত্র বিক্রি করা হচ্ছিল, তখনও তার বিরোধিতা করেছিল ভারত। কিন্তু, আপত্তি সত্ত্বেও ইসলামাবাদকে এই এটিজিএম বিক্রি করে মার্কিন প্রশাসন।
ভারতের এই উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ কারণ, সম্প্রতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ধোঁকাবাজির অভিযোগ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১ জানুয়ারি টুইটারে তিনি বলেছিলেন, গত ১৫ বছরে পাকিস্তানকে বোকার মতো ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে আমেরিকা। পরিবর্তে তারা আমাদের নেতাদের বোকা ভেবে মিথ্যে ও ধোঁকা দিয়ে গিয়েছে। আফগানিস্তানে যখন আমরা জঙ্গি মোকাবিলা করে চলেছি, তখন ওদের নিরাপদ রাস্তা দিয়েছে পাকিস্তান। আর নয়।






















