একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত সন্তান, গর্ভাবস্থার ২৬ সপ্তাহে গর্ভপাতে অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: মায়ের আর্জিতে সাড়া। গর্ভাবস্থার ২৬ সপ্তাহেও গর্ভপাতে অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের। একাধিক জটিল রোগ নিয়ে জন্মাবে সন্তান। এসএসকেএমের রিপোর্টকে মান্যতা সর্বোচ্চ আদালতের। গর্ভস্থ শিশুর হৃৎপিণ্ডে রয়েছে বড়সড় সমস্যা। জন্মের পর করাতে হতে পারে ওপেন হার্ট সার্জারি। কিন্তু তার পরেও সে বাঁচবে কি না, নিশ্চিত নয়। তাই গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হোক। মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে মায়ের এই আবেদনে শেষ পর্যন্ত সাড়া দিল সুপ্রিম কোর্ট। গর্ভাবস্থার ২৬ সপ্তাহেও গর্ভপাতের অনুমতি দিল সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং বিচারপতি এ এম খানউইলকরের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট থেকে এটা স্পষ্ট, এই ঘটনা একেবারেই ব্যতিক্রমী। ‘স্পেশাল কেস’ হিসেবে আদালত তাই মহিলাকে গর্ভপাতের অনুমতি দিচ্ছে। এসএসকেএম হাসপাতালে যত দ্রুত সম্ভব তা করাতে হবে। ভ্রুণের বয়স যখন ২৩ সপ্তাহ, তখন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বারাসতের এক তরুণ দম্পতি। দম্পতির আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালের কাছে রিপোর্ট চায়। রিপোর্টে বলা হয়, গর্ভস্থ সন্তান স্বাভাবিক নয়। জন্মের পর আক্রান্ত হতে পারে হৃদরোগে। সদ্যোজাতর একাধিকবার অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে। যার ফলে তীব্র মানসিক আঘাত পেতে পারেন মা। এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতেই মায়ের আর্জিতে সাড়া দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি বা ১৯৭১ সালের এমপিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী গর্ভ ধারণের ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে গর্ভপাত বৈধ৷ শর্তগুলি হল, ধর্ষণের ফলে যদি কোনও মহিলা গর্ভবতী হন, গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ ঠিকমতো না হলে বা গর্ভ ধারণের ফলে মায়ের প্রাণ সংশয় হলে-- এই শর্তগুলি পূরণ হলেও গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পরে স্বীকৃত চিকিৎসকের সুপারিশ ছাড়া গর্ভপাত করানো যায় না। এর আগে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই, মুম্বইয়ের হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্টকে মান্যতা দিয়ে, ২৪ সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ধর্ষণের শিকার তরুণীকে গর্ভপাতের অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এবার সর্বোচ্চ আদালত সাড়া দিল বারাসতের মায়ের আর্জিতে।






















