এক্সপ্লোর
ট্রেনে কুলিদের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হন, প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ ভিরালি মোদী

নয়াদিল্লি: বছরদশেক আগে ম্যালেরিয়ার শিকার হয়ে কোমায় চলে যান আমেরিকার বাসিন্দা ভিরালি মোদী। প্রাণে বেঁচে যান ঠিকই কিন্তু আর কাজ করেনি তাঁর মেরুদণ্ড। মাথার নীচ থেকে গোটা শরীর প্যারালিসিসের শিকার মেয়েটি কিন্তু থেমে থাকেননি। প্রাণপণ চেষ্টায় নিজের কাজ নিজে করতে শিখেছেন, অন্যের সাহায্যে হাঁটতে শিখেছেন এমনকী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতেও শিখেছেন। এক সময় মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখা মেয়েটি বছরতিনেক আগে মিস হুইলচেয়ার প্রতিযোগিতায় দেশের মধ্যে দ্বিতীয়স্থান লাভ করেন। ভিরালি মনে করেন না, কারও থেকে কোনও অংশে তিনি পিছিয়ে। বরং বলিউডের ছবিতে কাজ করতেও তিনি আগ্রহী। জীবনের প্রতি ১০০ শতাংশ সৎ ২৩ বছরের মেয়েটি শারীরিকভাবে অসমর্থদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস যোগানোর কাজ করেন। কিন্তু তিনি নিজেই জানাচ্ছেন, নিজে হেঁটে কোথাও যেতে পারার অক্ষমতাই তাঁর জীবনে একাধিকবার অন্ধকার ডেকে এনেছে। ট্রেনযাত্রার সময় একাধিকবার কুলিদের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন তিনি। চিকিৎসাগত কারণে মুম্বই থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন ভিরালি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। স্টেশনে এসে পৌঁছলেও হুইলচেয়ারে বসা মেয়েকে কোনওমতেই ট্রেনে তুলতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়ে দুজন কুলিকে ডেকে টাকার বিনিময়ে তিনি ভিরালিকে ট্রেনে নিজের সিটে বসিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সহযাত্রীদের চোখের সামনে ওই দুই কুলির হাতে শ্লীলতাহানি ঘটে তাঁর। ভয়ে কিছু বলতে পারেননি ভিরালি, যদি তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয় তারা। এরপরেও দুদুবার তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে। স্রেফ তাঁর শারীরিক অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে কুলিরা সকলের সামনে তাঁর শ্লীলতাহানি করে। এর প্রতিবাদে চেঞ্জ ডট ওআরজি-তে একটি পিটিশন ফাইল করেছেন ভিরালি। তা ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে, নজরে পড়েছে রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও দেখা করতে চান তিনি। তাঁর আশা, সরকার শারীরিকভাবে অসমর্থ মানুষের কথা ভেবে তাঁদের ট্রেনে ওঠা নামার ঠিকমত ব্যবস্থা করবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, দেশের ৫০০টি স্টেশনে শারীরিকভাবে অক্ষমদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ভিরালির বক্তব্য, প্রয়োজনের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুই নয়। সরকার এমন কিছু করুক, যাতে ভারতীয় রেলওয়ে শারীরিকভাবে অক্ষমদের পাশে পুরোপুরি দাঁড়াতে পারে। তা শুধু ট্রেনে উঠতে পারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আরও বহু বিষয় রয়েছে, যেদিকে নজর দেওয়া দরকার। কোনও শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তি তা পারবেন না, দায়িত্ব দেওয়া হোক শারীরিক অসমর্থদের। একমাত্র তাঁরাই ভেতর থেকে বুঝতে পারবেন, ট্রেন সকলের জন্য ব্যবহারযোগ্য করতে ঠিক কী কী দরকার।
আরও পড়ুন






















