Operation Sindoor: অধিকৃত কাশ্মীরে ৫, পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে ৪ ঘাঁটি ধ্বংস, সন্ত্রাসের শিকড়ে আঘাত ভারতের
India Strikes in Pakistan: মঙ্গল-বুধ রাত ১.০৫ থেকে ১.৩০টার মধ্যে, মাত্র ২৫ মিনিটে পাকিস্তানের ন'টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতের সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা।

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে ঢকে সন্ত্রাসের শিকড়ে আঘাত হানল ভারত। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ১৫ দিনের মাথায় পাকিস্তানে চলল স্ট্রাইক। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটিগুলিকে চিহ্নিত করে, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্মার্ট বোমার সহযোগে ভারতের তিন বাহিনী পহেলগাঁওয়ে নিহতদের পরিবারকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিল। কী ভাবে জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে শনাক্ত করা হল, সেখানে কী কী হতো, তার খুঁটিনাটিও প্রকাশ করল ভারতীয় সেনা। (Operation Sindoor)
মঙ্গল-বুধ রাত ১.০৫ থেকে ১.৩০টার মধ্যে, মাত্র ২৫ মিনিটে পাকিস্তানের ন'টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতের সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা। এই অভিযানের নাম রাখা হয় Operation Sindoor. ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, জঙ্গিদের ন'টি ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। গত তিন দশক ধরে সেখানে সন্ত্রাসের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছিল। ওই ঘাঁটিগুলিকে সেগুলিকে ব্যবহার করেই জঙ্গি নিয়োগ করা হতো, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। ভারতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের লঞ্চপ্যাড ছিল সেগুলি। (India Strikes in Pakistan)
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল জঙ্গিঘাঁটিগুলি। সেনাবাহিনী বেশ কিছু জঙ্গিঘাঁটিকে শনাক্ত করে--- ১) সাওয়াই নালা, ২) সৈয়দ না বিলাল, ৩) মসকর-ই-আকসা, ৪)চেলাবন্দি, ৫) আবদুল্লা বিন মাসুদ, ৬) দুলাই, ৭) গরহি হাবিবুল্লা, ৮) বতরসি, ৯) বালাকোট, ১০) ওঘি, ১১) বোই, ১২) সেনসা, ১৩) গুলপুর, ১৪) কোটলি, ১৫) বরালি, ১৬) দুংগি, ১৭) বরনালা, ১৮) মেহমুনা জোয়া, ১৯) সরজল, ২০) মুরিদকে, ২১) বাহওয়ালপুর।
গোয়েন্দাসূত্রে প্রাপ্ত তথ্য থেকেই শিবিরগুলিকে চিহ্নিত করা হয়। সেগুলি যাতে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় এবং নিরীহ নাগরিকদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে সেনা।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের যে জঙ্গিঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত, সেগুলি হল---
সাওয়াই নালা ক্যাম্প, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফ্ফরাবাদ: নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেটি ছিল লস্কর-ই-তৈবার প্রশিক্ষণ শিবির। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর, ২৪ অক্টোবর এবং গত ২২ জানুয়ারি পহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গিরা হামলা করে, তারা সেখানেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।
বিলাল ক্যাম্প, মুজফ্ফরাবাদ: জইশ-ই-মহম্মদের স্টেজিং ছিল ক্যাম্পটি। সেখানে হাতিয়ার মজুত থাকত, মজুত থাকত বিস্ফোরক। জঙ্গলে বেঁচে থাকার, টিকে থাকার প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো জঙ্গিদের।
গুলপুর ক্যাম্প, কোটলি: নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে ৩০ কিলিমিটার দূরত্ব। লস্করের ঘাঁটি ছিল সেটি। সেখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গিরা কাশ্মীরের রাজৌরি, পুঞ্চে সক্রিয় ছিল। ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল এবং ২০২৪ সালের ৯ জুন তীর্থযাত্রীদের বাসে হামলা চালানো জঙ্গিরা এখান থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।
বরনালা, ভিম্বার: নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। সেখানে বিস্ফোরক, হাতিয়ার মজুত থাকত। প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো জঙ্গলে টিকে থাকার।
আব্বাস ক্যাম্প, কোটলি: নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। লস্করের ফিদায়েঁ জঙ্গিদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র। একসঙ্গে ১৫ জন জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
পাকিস্তানের ভিতরে যে ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা হয়েছে---
সরজল, সিয়ালকোট: আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে দূরত্ব ৬ কিলোমিটার। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের চার জওয়ান জঙ্গি হামলায় মারা যান। সেই জঙ্গিরা এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।
মেহবুনা জোয়া, সিয়ালকোট: সীমান্ত থেকে দূরত্ব ১৮-১২ কিলোমিটার। সেটি হিজবুল মুজাহিদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা সেখান থেকেই এসেছিল।
মরকজ তইবা, মুরিদকে: সীমান্ত ছেকে ১৮-২৫ কিলোমিটার দূরত্ব। ২৬/১১ মুম্বই হামলার জন্য আজমল কসাভ ও ডেভিড হেডলি এখান থেকেই প্রশিক্ষণ পায়।
মরকজ সুভানআল্লা, বাহওয়ালপুর: সীমান্ত থেকে দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। জইশের সদর দফতর। জঙ্গি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, দীক্ষাদান সব চলত। শীর্ষস্তরের সন্ত্রাসবাদীদের আনাগোনা ছিল।
Operation Sindoor অভিযানের আওতায় পাকিস্তানের কোনও সামরিক কেন্দ্রে আঘাত হানেনি ভারত। নিরীহ নাগরিকদের নিশানা করা হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনা।





















