Fuel Crisis : ডিজেল ৫২০ ও পেট্রোল ৪৫৮ PKR-র বেশি, জ্বালানি সংকটে আরও জেরবার পাকিস্তান !
Petrol-Diesel Price Hike : ফলে, সে দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে চলেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সংকট। পরিস্থিতি ঘোরাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানে। এক মাসেরও কম ব্যবধানে ফের পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াল পাকিস্তান। ফলে, সে দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে চলেছে।
নতুন করে পাকিস্তানে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৫৪.৯%। পাকিস্তানি মুদ্রায় এই মুহূর্তে ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৫২০.৩৫ PKR । পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৪২.৭%। পাকিস্তানি মুদ্রায় বা PKR ৪৫৮.৪০। আজ শুক্রবার থেকেই বর্ধিত এই মূল্য কার্যকর হবে। সে দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক বলেছেন, "আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই বৃদ্ধি অনিবার্য ছিল।" গত মাসেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছিল পাকিস্তান। সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাকিস্তান মূলত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কাছ থেকে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
পাকিস্তানের ৭০ শতাংশ জ্বালানি পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ সমস্য়া তৈরি করেছে এই সরবরাহে। সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে LNG সরবরাহ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি চললে ১৪ এপ্রিলের পর বড় সমস্য়ায় পড়বে পাকিস্তান। পাকিস্তানের বার্ষিক এলপিজি (LPG) চাহিদার পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ টন। এর মধ্যে ১২ লক্ষ টন আসে বিদেশ থেকে এবং বাকি ৮ লক্ষ টন অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। গত মাসে ২০,০০০ টন এলপিজি নিয়ে তিনটি জাহাজ পাকিস্তানে পৌঁছালেও এই সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগন্য। এর ফলে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানের যুদ্ধ ইতিমধ্য়েই নাজেহাল অবস্থা করেছে পাকিস্তানের। পাকিস্তানে রান্নার গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। পাকিস্তানে ১১.৬৭ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩,৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫,১৩৫ টাকা হয়েছে; যার আগের দাম ছিল ৩,১৫০ টাকা থেকে ৩,৯৫০ টাকার মধ্যে। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহন খাত—সবার ওপরই প্রভাব ফেলছে। রিকশা, বাস এবং মিনিবাসের মতো এলপিজি চালিত যানবাহনের ভাড়াও বেড়ে গেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।





















