Petrol-Diesel Prices Hike : ৯ দিনের মধ্যে তৃতীয়বার, ফের বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম; কলকাতায় বেড়ে কত ?
Kolkata Petrol Diesel Price : এখানে ১ লিটার ডিজেলের কিনতে গেলে পড়বে ৯৭ টাকা ০২ পয়সা।

কলকাতা : ৯ দিনের মধ্যে তৃতীয়বার। ফের বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম। কলকাতায় প্রতি লিটারে পেট্রোলের দাম বাড়ল ৯৪ পয়সা। লিটারপিছু ডিজেলের দাম মহানগরে বাড়ল ৯৫ পয়সা। এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় লিটারপিছু পেট্রোলের নতুন দাম হল ১১০ টাকা ৬৪ পয়সা। অন্যদিকে, এখানে ১ লিটার ডিজেলের কিনতে গেলে পড়বে ৯৭ টাকা ০২ পয়সা।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি। বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে প্রবল আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে গত ১০ মে পেট্রল-ডিজ়েলের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, "ভারতের কাছে বড় বড় তেলের ভাণ্ডার নেই। আমাদের পেট্রোল-ডিজেলের ব্য়বহার কম করতে হবে।"
পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য়ের ভোট মিটে যাওয়ার পর, প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাতেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপরই গত ১৫ মে পেট্রলের দাম বাড়ানো হয় ৩ টাকা ২৯ পয়সা, ডিজেলের দাম বাড়ানো হয় ৩ টাকা ১১ পয়সা। তারপর ৪ দিন যেতে না যেতে ফের জ্বালানির দাম বাড়ে।
ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলা এবং তার জবাবে তেহরানের পাল্টা আক্রমণের পর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? আর কত ধাপে বাড়ানো হবে পেট্রোল ডিজেলের দাম? আর কত বোঝা চাপানো হবে সাধারণ মানুষের ওপর ?
এ প্রসঙ্গে অবশ্য রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ আগে বলেছেন, "গত এক-দেড় বছর ধরে তেলের দাম দুনিয়ায় বেড়েছে। আমাদের তেল কোম্পানিগুলোর লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাও সরকার মানুষের ওপর চাপ আসতে দেয়নি। কিন্তু, পরিস্থিতির কারণে কিছু তো মানুষকেও স্যাক্রিফাইস করতে হবে। সেইজন্য প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছেন, আপনারা খরচ কমান। তেল খরচ কমান। তারজন্য অন্য ব্যবস্থাও সরকার করবে। মিনিমাম যেটুকু না বাড়ালেই নয়। নাহলে কোম্পানিগুলোই উঠে যাবে।"
শুধু তা-ই নয়, জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে বাসে যাতায়াত করতেও দেখা যায় জেলা প্রশাসনের কর্ম-কর্তাদের। গত পরশু ৫ জেলার আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল জেলার বিডিও, এসডিও, অতিরিক্ত জেলাশাসক ও জেলাশাসকের। পাশাপাশি জেলা পুলিশের অধিকারিকদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। দেশে জ্বালানি তেলের সঙ্কট থাকায় আগেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে গাড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের আবেদন জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর নিরাপত্তা ছাড়া আর অন্য কোনও গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই কথা মাথায় রেখেই দুর্গাপুরের বৈঠকে যাওয়ার জন্য জেলার অধিকারিকদের জন্য ২টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়। সেই বাসেই জেলার আধিকারিক থেকে জেলাশাসক সবাই বৈঠকের জন্য রওনা দেন।























