Rajasthan school roof collapse: মাথায় পাথর পড়ছে, আগেই বলেছিল ছাত্ররা, পাত্তা দেননি শিক্ষকরাই, তারপরই মাথায় ভঙে পড়ল স্কুলের ছাদ
উঠে এল ভয়াবহ সত্য। শিক্ষকরাও যদি ছাত্রদের কথায় কর্ণপাত করতেন, তাহলেও বেঁচে যেত এতগুলো প্রাণ !

জয়পুর : অঝোর ধারায় বৃষ্টি। তারপরে বিকট একটা শব্দ। হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ক্লাস রুমের ছাদ। আর ভারী চাঙরের নিচে পিষে গেল একের পর এক পড়ুয়া। রাজস্থানের ঝালাওয়ারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা খবরে আতঙ্কিত সকলেই। কী দোষ ছিল , ছোট্ট শিশুগুলোর। কেন এমন জরাজীর্ণ স্কুল বাড়িতে চলছিল ক্লাস? কেন মেরামতি হয়নি , দিনের পর দিন ? ইত্যাদি প্রশ্নের মাঝেই উঠে এল ভয়াবহ সত্য। শিক্ষকরাও যদি ছাত্রদের কথায় কর্ণপাত করতেন, তাহলেও বেঁচে যেত এতগুলো প্রাণ !
ওই স্কুলের এক পড়ুয়া ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে জানায়, শুক্রবার সকালে তখন স্কুলে এসে প্রাতঃরাশ করছিলেন শিক্ষকরা। এক পড়ুয়ার কথা অনুযায়ী, তখন মাস্টার মশাই , দিদিমণিরা আলাদা ঘরে বসে খাচ্ছিলেন পোহা। সেই সময়ই হঠাৎ মাথাক উপর সিমেন্ট , বালি, ছাদের কিয়দাংশ ভেঙে ভেঙে পড়ছিল। সেই সময়ই শিক্ষকদের কাছে ছুটে যায় পড়ুয়ারা। বলে, ছাদ থেকে কী সব যেন পড়ছে ! তখন শিক্ষকরা সে-কথায় কান না-দিয়ে সজোরে ধমক দেন....বলেন, যাও ক্লাসে যাও। আবার শুরু করে দেন খাওয়া - দাওয়া। তখন যদি তাদের সরিয়ে আনা যেত, তাহলে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হয়ত এড়ানো সম্ভব হত । ক্লাস এইটের এক ছাত্রের কথায়, ক্লাসের ভেতরে প্রার্থনার জন্য বসানো হয়েছিল পড়ুয়াদের। শিক্ষকরা খাবার খাচ্ছিলেন। ভেতরে নুড়িপাথর পড়তে শুরু করল। তখনই পড়ুয়ারা শিক্ষকদের তা জানায়। শিক্ষকরা উল্টে বাচ্চাদের ধমক দিয়ে ক্লাসে ফিরে যেতে বলেন। এরপর, দেয়াল ভেঙে পড়ে এবং তাসের ঘরের মতো ছাদটা শিশুদের মাথার উপর পড়ে। অনেক শিশু এদিক-ওদিক দৌড়াতে থাকে ভয়ে। আর কেউ কেউ ওই সব বিরাট চাঙড়ের নীচে চাপা পড়ে যায়। অনেক কষ্টে গ্রামবাসীদের সহায়তায় শিশুদের বের করে আনা সম্ভব হয়।
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আগেই এই বাড়িটির খারাপ পরিস্থিতির বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু তাতে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ঘটনার পরপরই, পাঁচ শিক্ষককে অপরাধমূলক অবহেলার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনায় গতকালই সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু।
ঝালাওয়ার জেলা কালেক্টর অজয় সিং রাঠোর জানান, প্রশাসন জুন মাসেই সতর্ক করেছিল। নির্দেশ দেওয়া হয়, কোনও জরাজীর্ণ স্কুল বাড়িতে যেন শিশুদের বসতে দেওয়া না হয়। এমন বেশ কয়েকটি ভবন মেরামতও করেছে প্রশাসন। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবহেলা ছিল। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















