Ram Temple Donations: প্রতিদিন রাম মন্দিরের দান থেকে সরত ৬-৮ লক্ষ টাকা? চুরির অঙ্ক দেখে চমকে গেল পুলিশ, তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য
Ram Mandir Donation Theft: রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে প্রতিদিন উধাও ৬-৮ লক্ষ টাকা? হিসেব মিলতেই চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশ: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা নিয়ে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রতিদিন মন্দিরের দান থেকে প্রায় ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অঙ্ক এখনও তদন্তাধীন এবং তদন্তকারীদের অনুমানের ভিত্তিতে সামনে এসেছে।
তদন্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে দানের দৈনিক অঙ্কের হঠাৎ পরিবর্তন ঘিরে। সূত্রের দাবি, চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার আগে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা জমা পড়ত। কিন্তু অভিযোগ সামনে আসার পর সেই দৈনিক জমার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ থেকে ২৬ লক্ষ টাকা।
অর্থাৎ, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার আগে ও পরে দৈনিক জমার অঙ্কে প্রায় ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকার ফারাক দেখা গিয়েছে। এই হিসেবের ভিত্তিতেই তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রতিদিন ওই পরিমাণ টাকা দানের অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
দান গোনার ব্যবস্থায় কারা ছিলেন?
রাম মন্দিরে নগদ দান গোনার প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে ছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা SBI। এই কাজে একটি বেসরকারি সংস্থাকেও যুক্ত করা হয়েছিল। মন্দিরের চারটি দানবাক্সে নগদ অর্থ জমা পড়ত। সেই টাকা গোনার দায়িত্বে ছিল ১৪ জনের একটি দল। তাঁদের মধ্যে ১১ জন ব্যাঙ্ককর্মী এবং তিনজন মন্দির ট্রাস্টের প্রতিনিধি ছিলেন।
তদন্ত এগোতেই কয়েকজন ব্যাঙ্ককর্মীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ গতিপথ জানতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED-র সাহায্য চাওয়া হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
দান গোনার দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী গ্রেফতার
তদন্তে উঠে এসেছে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তবের নাম। অভিযোগ, তিনি দানের টাকা গোনার গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। দানবাক্স থেকে নগদ অর্থ বের করা, তা কাউন্টিং রুমে পাঠানো এবং পরে SBI-র হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া তাঁর তত্ত্বাবধানেই হত।
তদন্তকারীদের দাবি, গয়না ও মূল্যবান সামগ্রীর ক্ষেত্রে কোনও পদ্ধতিগত ও পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখা হত না। ফলে সেগুলি সরিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল কি না, সেই দিকটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সামনে আসে অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম এই অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ, দান গোনার দলের এক সদস্য টাকা চুরির বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে জানিয়েছিলেন। এরপরই বিষয়টি ধীরে ধীরে তদন্তকারীদের নজরে আসে।
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তবও।
ব্যাঙ্ককর্মীদের কী প্রশ্ন করল SIT?
বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT দান গোনার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং কয়েকজন ব্যাঙ্ক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ট্রাস্ট ও ব্যাঙ্কের মধ্যে যে চুক্তি ছিল, তা পুরোপুরি মানা হয়েছিল কি না, নির্ধারিত পদ্ধতিতে কেন পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং কোনও অনিয়মের সন্দেহ হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। নিরাপত্তার কাজের জন্য নিযুক্ত একটি সংস্থাকে নগদ অর্থ গোনার মতো সংবেদনশীল কাজে কেন যুক্ত করা হয়েছিল, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মন্দিরের কাছের পার্কে ভাগ হত টাকা?
তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে। ধৃতদের একজন অবিনাশ শুক্লা পুলিশকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি, মন্দিরের কাছের একটি পার্কে চুরি করা টাকা সহযোগীদের মধ্যে ভাগ করা হত।
তদন্তকারীরা অভিযুক্তকে নিয়ে অযোধ্যার ১৪ কোশী পরিক্রমা রুটের কাছে ভিখাপুর এলাকার ওই পার্কে যান। সেখানে কীভাবে টাকা ভাগ করা হত এবং আর কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।
ট্রাস্টের প্রাক্তন কর্তাদের সম্পত্তিও তদন্তের আওতায়
তদন্তের অংশ হিসেবে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের কয়েকজন শীর্ষ পদাধিকারীকেও ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, আয়ের উৎস এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মন্দির নির্মাণ এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনও কমিশন বা অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখছে SIT। তদন্তকারীরা ট্রাস্টের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট, আর্থিক নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চেয়ে পাঠিয়েছেন। এমনকী, পুরনো অডিট রিপোর্ট ফের অডিট করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
তবে এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। দৈনিক ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অঙ্কটি ব্যাঙ্কে জমা পড়া অর্থের আগে ও পরের পার্থক্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের অনুমান। চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।























