Nitish Kumar Resigns: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন সম্রাট চৌধরি, নাম জড়িয়েছিল খুনের মামলায়, নীতীশ ইস্তফা দিতেই নাম ঘোষণা
Samrat Choudhary New Bihar CM: বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন সম্রাট চৌধরি। নীতীশ কুমারের জায়গায় আসীন হচ্ছেন। বিজেপি থেকে এই প্রথম কেউ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। কাল শপথগ্রহণ।

পটনা: নীতীশ কুমার ইস্তফা দিতেই বিহারের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর নাম সামনে এল। নীতীশের জায়গায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধরি। এই প্রথম বিজেপি-র কেউ বিহারের মসনদে বসছেন। ঘটনাচক্রে, নীতীশকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবিতে একসময় সরব ছিলেন সম্রাট। (Samrat Choudhary New Bihar CM)
দু’দশকে ১০ বার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পর মঙ্গলবারই ইস্তফা দিয়েছেন নীতীশ। রাজ্যপাল, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনেন-এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। মন্ত্রিসভা আগেই ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথও নিয়ে ফেলেছেন গত সপ্তাহে। তবে নীতীশ জানিয়েছেন, বিহারের নতুন সরকারকে সবরকম ভাবে সহযোগিতা করবেন তিনি। (Nitish Kumar Resigns)
কাল শপথ নেবেন সম্রাট চৌধুরী
নীতীশের পর বিজেপি থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলে জল্পনা ছিল গোড়া থেকেই। শেষ পর্যন্ত সম্রাটের নামেই সিলমোহর পড়ল। বুধবার তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। গত বছর বিধানসভা নেতৃত্বে বিহারে অভূতপূর্ব সাফল্য পায় বিজেপি, যাকে সম্রাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই থেকেই বিজেপি এবং নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দলের মধ্যে সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। এমনকী নীতীশ যে বেশিদিন মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না, বিজেপি তাঁকে সরিয়ে দেবে, সেই সময়ই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বিরোধীরা।
বিধানসভায় বিজেপি-র দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব হাতে পান সম্রাট। পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বই তাঁর হাতে ওঠে। সেই থেকেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
রাজনীতিতে রকেটের মতো উত্থান
আদতে মুঙ্গেরের লখনপুরের বাসিন্দা সম্রাট নয়ের দশকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সেই সময় লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের শামিল ছিলেন। সম্রাটের বাবা শকুনি চৌধরিও বিহারের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। একাধিক বার তারাপুর থেকে জয়ী হন তিনি। নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ে নামেন। কংগ্রেস, সমতা পার্টি হয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দলে যান।
রাবড়ি দেবীর সরকারেই মন্ত্রী হন সম্রাট। সেই সময় বিধায়কও ছিলেন না, বিধান পরিষদের সদস্যও ছিলেন না। পাশাপাশি, বয়স নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয় সম্রাটকে। ২০১৪ সালে ১৩ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দল ছেড়ে নীতীশের দলে যোগ দেন সম্রাট। ২০১৪ সালে জিতন রাম মাঝির সরকারে মন্ত্রী হন।
VIDEO | Patna: “(Bihar Deputy CM) Samrat Choudhary should be immediately arrested as he was convicted in a murder case in 1995 but released after the court wrongly ruled that he was a minor,” says Jan Suraaj founder Prashant Kishor, addressing a press conference.
— Press Trust of India (@PTI_News) September 29, 2025
(Full video… pic.twitter.com/l4MmhzdtJJ
২০১৭ সালে বিজেপি-তে যোগ দেন সম্রাট। অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপি-র রাজ্য সহ-সভাপতি হয়ে যান। ওবিসি ভোটব্যাঙ্কের জেরেই বিজেপি-তে গুরুত্ব বাড়ে সম্রাটের। ২০২০ সালে বিহার বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত হন তিনি। ২০২৩ সালে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালে ‘মহাজোট’ ছেড়ে নীতীশ NDA-তে ফিরলে উপমুখ্যমন্ত্রী হন সম্রাট।
সম্রাটকে ঘিরে বিতর্ক
তবে রাজনীতিতে সম্রাটের উত্থানের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে তাঁকে ঘিরে থাকা বিতর্ক। ১৯৯৫ সালে তারাপুর মামলায় নাম জড়ায় সম্রাটের। বিধানসভা নির্বাচনের সময় গ্রেনেড হামলায় মারা যান কংগ্রেসের প্রার্থী সচ্চিদানন্দ সিংহ এবং তাঁর সহযোগীরা। সেই মামলায় নাম জড়ায় সম্রাট এবং তাঁর বাবার। প্রমাণের অভাবে যদিও ছাড়া পেয়ে যান তাঁরা। কবে বিতর্ক থামেনি। গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের সময় সম্রাটের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তোলেন ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রশান্ত কিশোর। হেরফের ঘটিয়ে সম্রাট নিজেকে নাবালক হিসেবে তুলে ধরেন এবং আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান বলে দাবি করেন প্রশান্ত। নির্বাচনী হলফনামাতেও সম্রাট হেরফের ঘটিয়েছেন, অপরাধমূলক মামলা থেকে রেহাই পেতে বয়স কমিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন।
পরবর্তীতে সম্রাট জানান, তারাপুর মামলায় আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জগঠন হয়নি। বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতায় হেরফের ঘটানোর অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।























