Sikkim Landslide: ধসের পর ধস, বিপজ্জনক সিকিমের এই গ্রাম, এখানে ঘুরতে গেলে আর থাকতে পারবেন না
বারবার ধস ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত পশ্চিম সিকিমের এই গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত ৩২টি বাড়ি, সরানো হয়েছে ১০৭ জনকে। গ্রামটি বসবাসের অযোগ্য ঘোষণার ভাবনা।

গ্যাংটক: পাহাড়ের ঢালে বারবার ধস। সঙ্গে হড়পা বান ও কাদামাটির স্রোত। একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কার্যত বিপন্ন পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রাম। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, গ্রামটিকে আর বসবাসের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা যাবে কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর রিম্বিকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিকিমের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকরা।
ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু বাড়ি
প্রবল বর্ষণের জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিকিমের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ধস নামছে। তারই জেরে রিম্বি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৩২টি বাড়ি এবং চারটি সরকারি কোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু কাঠের ও আধা-পাকা বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বহু পরিবার হারিয়েছে ঘরের সামগ্রীও।
পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় ১৩ অগস্ট। প্রথমে গ্রামের দুটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরদিন প্রবল বৃষ্টির পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয় এবং আরও বহু বাড়ি ধসের কবলে পড়ে।
নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে বাসিন্দাদের
ক্রমাগত ধসের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১০৭ জন একটি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। কাছের সিংলিতাম এলাকাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে নয়টি বাড়ি খালি করিয়ে বাসিন্দাদের ত্রাণশিবিরে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, পাহাড়ের ঢাল আরও অস্থির হয়ে পড়লে নতুন করে ধস নামতে পারে। এমনকী আগে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করা হয়েছিল যে সব জায়গাকে, সেখানেও কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মেশানো জলের স্রোত পৌঁছচ্ছে।
বর্ষার পর হবে ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা
রিম্বির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিকিমের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকরা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্ষা শেষ হওয়ার পর বহু-বিষয়ক ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা করা হবে। কেন বারবার ধস নামছে এবং মাটির স্থায়িত্ব কতটা নষ্ট হয়েছে, সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের কমিশনার রিনজিং চেওয়াংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সিংলিতাম থেকে বারবার ধস নামার কারণে রিম্বির বসবাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
সম্পূর্ণভাবে বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়া পরিবারগুলিকে ১.৩ লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। অন্যান্য ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এছাড়া সিকিম হাউজিং স্কিমের আওতায় যেসব পরিবার জমি হারিয়েছে, তাদের বিকল্প জমির পাশাপাশি বাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। যাঁদের জমি এখনও রয়েছে, তাঁদের নতুন বাড়ি তৈরির জন্য সহায়তা করা হবে।
এদিকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সিকিম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকার উপর নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতিতে নতুন করে ধস নামলে যাতে দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।
Before You Go
SRFTI Chaos: বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণের প্রতিবাদ ঘিরে ফের উত্তপ্ত SRFTI






















