‘বিজেপি-বাম-কংগ্রেস এক হয়েও আমাদের ধরতে পারবে না’, বিরোধীদের কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: বৃহস্পতিবারই রাজ্যের দুটি উপনির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরের দিনই, তারই প্রতিফলন দেখা গেল শাসক দলের মন্তব্যে। শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, বিজেপি, কংগ্রেস ও বাম এক হয়েও তৃণমূলকে ধরতে পারবে না। বিধানসভায় এদিন রাজ্যপালের বক্তৃতার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই বিরোধীদের আক্রমণ শুরু করেন। মুখ্যমন্ত্রী যখন নিজের বক্তব্য পেশ করতে ওঠেন। তখন বিরোধী বেঞ্চ থেকে হই-হট্টগোল শুরু হয়। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিরোধীদের তর্জন-গর্জনই সার। কাকে বলতে দেবেন সেটা ঠিক করা অধ্যক্ষের কাজ। হিংসা করলে হয় না। এদিন আগাগোড়াই রণংদেহি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ২০১৬-র ভোটে দেখেছি বিরোধীরা কী করেছেন। বিধানসভায় বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেন বিরোধীরা। মমতার দাবি, ওঁরা আমাকে ভয় পান, বিধানসভার মুখোমুখি হতে ভীত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হচ্ছে। এদিন বাম জমানার প্রসঙ্গ টেনে এনে মমতা প্রশ্ন করেন, আশা কর্মীদের আয়ের ব্যবস্থা কেন পাকা করেননি বামেরা? ওঁদের টাকা দিই, সেটা কি আমার অপরাধ? বামেদের সঙ্গে এদিন প্রদেশ কংগ্রেসকেও একাসনে বসান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, সিপিএম-কংগ্রেস মেড ফর ইচ আদার। আমিও কংগ্রেস করার সময় অসুবিধায় পড়েছি। মমতার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া দিল্লিতে চলে না কংগ্রেসের। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভাল ফলের জন্য আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আমিও ওঁদের অভিনন্দন জানিয়েছি, কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বকে বুঝতে হবে। সদ্য প্রকাশিত উপনির্বাচনের ফলাফলকে টেনে এনে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মমতা বলেন, তৃণমূলের যত অন্ধ বিরোধিতা করছেন, মানুষ তত দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বিজেপি-বাম-কংগ্রেস এক হয়েও আমাদের ধরতে পারবে না। কালকেই হেরেছেন, আজ চুপ থাকতে পারছেন না? মানুষের রায়কে অবহেলা করবেন না। তিনি যোগ করেন, রাজ্যে কিছু স্বার্থপর দৈত্য তৈরি হয়েছে। বিরোধী নেতারা কর্ণাটকের প্রশংসা করেন, রাজ্যের করেন না! ছোট মুখে বড় কথা বলতে জুড়ি নেই বিরোধীদের। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন তিনি বহুক্ষেত্রে তৎকালীন সরকারকে সাহায্য করেছেন। কিন্তু, এখন বিরোধীদের থেকে সেই সাহায্য তিনি পান না। বলেন, বিরোধী থাকার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা সরকারকে সাহায্য করেছি। তাঁর প্রশ্ন, করিমপুরে বাস দুর্ঘটনার সময় কী করেছিলেন সিপিএমের বন্ধুরা? কাকদ্বীপে নৌকাডুবিতে কত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল? মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, চাঁদ-সূর্য উঠেছে কেন, এমন প্রশ্নেও এখন সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে? সম্প্রতি দৌলতাবাদকাণ্ডে সরকারের পরিষেবা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয় বিরোধীরা। এদিন তারও জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘কেন দৌলতাবাদে দুর্ঘটনার পর গণ্ডগোল হয়েছে? গণ্ডগোলের জন্য উদ্ধার শুরু করতে কেন দেরি হয়েছে? জেলাশাসকের অফিসে বসে আগাগোড়া মনিটর করেছি। একটা সরকার দেখান, যাঁরা এধরণের পরিষেবা দেন। সব কাজ ঠিক করি না, তবে চেষ্টার ত্রুটি থাকে না। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভাঙড়ে তৃণমূলের মধ্যে কোনও গণ্ডগোল ছিল না। দলে কেউ গণ্ডগোল করলে, আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, সিপিএমের আমলে লক্ষ্মণ শেঠ, সুশান্ত ঘোষেরা গ্রেফতার হয়েছেন? দুর্ঘটনা ঘটলে শুভেন্দু অধিকারী কেন পদত্যাগ করবেন? বামেদের সময়ে দুর্ঘটনা ঘটলে ওঁরা কী পদত্যাগ করেছেন? সরকারের অন্ধ বিরোধিতা বন্ধ করা উচিত বিরোধীদের বলে বার্তা দেন মমতা। বলেন, বাংলা ভাল থাকলে হিংসে হয় বিরোধীদের। একইসঙ্গে বিরোধীদের হুঁশিয়ারিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বিরোধীরা সাইকেল টেন্ডার নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করলে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস আনা হবে। শুধু বাম-কংগ্রেস নয়, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল বিজেপিও। বলেন, ১ লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ধার শোধ করেছি। কত টাকা ফেরত এসেছে নোট বাতিলের পর, আজ পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি কোনও শ্বেতপত্র। কেন্দ্রীয় বাজেটকেও একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কৃষকদের আয় রাজ্য আড়াই গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্র এখন দেড় গুণ আয় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কৃষকদের বকেয়া ঋণ মাফ করে দিলেই তাঁদের উন্নতি হবে। এনসিআরবি রিপোর্ট নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনায় মুখর ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট দিল্লি ছাপিয়েছে আমাদের সঙ্গে কথা না বলে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট ছাপানো হয়েছে। এনসিআরবি-কে দুঃখপ্রকাশ করতে নোটিস পাঠাচ্ছি। বিরোধী-সমালোচনার পাশাপাশি, সরকারের কাজের প্রশংসাও ছিল এদিন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। বলেন, কোনও মেয়েকে যেন কাঁদতে না হয়, এজন্যই চালু হয়েছে রূপশ্রী প্রকল্প। ৮১ লক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে, আরও ২০ লক্ষ হবে। অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য আড়াই হাজার পেনশন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।






















