Prashant Kishor: বিহারের নির্বাচন বাতিল করতে আর্জি, প্রশান্ত কিশোরের দলকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট
Jan Suraaj Party: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে ওই আবেদন জমা পড়েছিল।

নয়াদিল্লি: আদর্শ আচরণ বিধি জারি হওয়ার পর ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি নিয়ে গোড়াতেই আপত্তি তুলেছিলেন বিরোধীরা। বিষয়টি নিয়ে সটান আইনি লড়াই লড়তে গিয়েছিল একদা ভোটকুশলী তথা রাজনীতিক প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ পার্টি’। বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে বাতিল করতে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। (Prashant Kishor)
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে ওই আবেদন জমা পড়েছিল। শুক্রবার সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন ‘জন সুরাজ পার্টি’র অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলে সর্বোচ্চ আদালত। বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৪২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তারা খাতা খুলতে পারেনি। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। (Jan Suraaj Party)
এদিন আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, নির্বাচনের ফলাফল বদলানোর জন্য দেশের বিচারব্য়বস্থাকে কোনও ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। আদালত প্রশ্ন করে, “কত ভোট পেয়েছেন আপনারা? মানুষ প্রত্যাখ্যান করল, আর তাতেই রেহাই পেতে বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে চলে এলেন! তখনই ওই প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ জানানো উচিত ছিল। আমাদের কাছে সেই আবেদন আসেনি। আপনারা চান আমরা ওই নির্বাচনকে বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণা করি।”
‘জন সুরাজ পার্টি’র আবেদনের গুরুত্ব যাচাই করতেও অস্বীকারকরে আদালত। আদালত জানায়, একটি রাজ্যের বিষয় যেহেতু, তাই এব্যাপারে হাইকোর্টে যেতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে খয়রাতি সংক্রান্ত কিছু গুরুতর বিষয় সামনে এসেছে। সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। নির্বাচন বাতিল করার পাশাপাশি, নির্বাচনের সময় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা নিয়ে বিধিনিয়ম বেঁধে দেওয়া হয় যাতে, সেই নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিতেও আবেদন জানিয়েছিল ‘জন সুরাজ পার্টি’।
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি এবং সংযুক্ত জনতা দল। ফের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন নীতীশ কুমার। যদিও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গোড়া থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছিল বিরোধীরা। SIR-এর নামে বিরোধীদের ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে, আদর্শ আচরণ বিধি চালু থাকাকালীন সরকারি প্রকল্পের নামে হাতে হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’, যার আওতায় ভোটগ্রহণের ঠিক আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আরও ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
অভিযোগ, JEEVIKA নেটওয়র্কের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল ওই প্রকল্প, যার মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আদর্শ আচরণ বিধি জারি হওয়ার ঠিক আগে ১ কোটির বেশি মহিলার নাম নথিভুক্ত করা হয়। সবমিলিয়ে দেড় কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া হয়। আদর্শ আচরণ বিধি কার্যকর থাকাকালীন টাকা ঢোকে বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে। এভাবে নির্বাচন হওয়া কাম্য নয় বলে জানায় প্রশান্তর দল। কিন্তু তাদের আর্জি খারিজ করে হাইকোর্টে যেতে বলা হল।
























