Supreme Court: ফাঁসির দড়ি, না প্রাণনাশক ইঞ্জেকশন? মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি নিয়ে মামলা, ‘সময়ের সঙ্গে পাল্টাতে হয়’, কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট
Capital Punishment by Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলছিল আদালতে।

নয়াদিল্লি: গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কার্যকর করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে যেমন, তেমনই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও এবার সেই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হল। মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর পরিবর্তে, প্রাণনাশক-ইঞ্জেকশন দেওয়া যায় কি না, সেই নিয়ে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উঠে আসছিল। সেখানে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করল শীর্ষ আদালত। (Capital Punishment by Hanging)
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলছিল আদালতে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অন্তত বেছে নেওয়ার সুযোগ যাতে দেওয়া হয়, সেই নিয়ে সওয়াল করেন আবেদনকারীর আইনজীবী ঋষি মালহোত্র। তিনি বলেন, “সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অন্তত বেছে নেওয়ার অধিকার তো দেওয়া হোক…যে ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে, না কি প্রাণনাশক ইঞ্জেকশন নেবে। প্রাণনাশক ইঞ্জেকশন দ্রুত কাজ করে, এই পদ্ধতি মানবিক এবং শালীন। ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো নির্মম, বর্বরোচিত এবং প্রলম্বিত পদ্ধতি।” (Supreme Court)
আবেদনকারী জানান, ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো অসম্ভব যন্ত্রণাদায়ক একটি পদ্ধতি। এর পরিবর্তে প্রাণনাশক ইঞ্জেকশন বা গুলি করে শেষ করে দেওয়া, বিদ্যুতের শক দিয়ে বা গ্যাস চেম্বারে ঢোকানো যেতে পারে। এতে অন্তত কয়েক মিনিটের মধ্য়েই সব মিটে যায়। ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। আমেরিকার ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪৯টিতেই যে প্রাণনাশক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়, তাও জানান আবেদনকারী।
আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে আবেদনকারী জানান, ভারতে ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোডের ৩৫৪ (৫) ধারাটি বৈষম্যমূলক এবং সেটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর পরিপন্থী, যেখানে জীবনের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়ায় মৃত্যুবরণের অধিকার মৌলিক অধিকারের মধ্য়ে পড়ে বলেও জানান তিনি। রাষ্ট্রপুঞ্জও যে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তা তুলে ধরেন।
সেনাবাহিনীতে মৃত্যুদণ্ডের সাজার ক্ষেত্রে যেখানে বেছে নেওয়ার উপায় রয়েছে, নাগরিক সমাজে কেন তা থাকবে না, প্রশ্ন তোলেন আবেদনকারীর আইনজীবী মালহোত্রও। কিন্তু এর পাল্টা হলফনামা দিয়ে কেন্দ্র দাবি করে, বেছে নেওয়ার সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। এতে কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ। মৌখিক ভাবে বলা হয়, “সময়ের সঙ্গে পাল্টাতে প্রস্তত নয় সরকার। সমস্যা হল, সরকার বিবর্তনের জন্য প্রস্তুত নয়। এটা (ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো) অতি প্রাচীন পদ্ধতি। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে।”
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আদালতে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সনিয়া মাথুর। তিনি জানান, বন্দিদের বেছে নেওয়ার সুবিধা দেওয়া হবে কি না, তা নীতিগত সিদ্ধান্ত। আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এই মামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।






















