Supreme Court: ‘ভোট এলেই বিনামূল্যে রেশন, নগদের ঘোষণা’, খয়রাতির রাজনীতিতে অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট
Supreme Court on Freebies before Election: বিনামূল্যে রেশন থেকে হাতে নগদ টাকা মিলছে বলে মানুষ আর পরিশ্রম করতে চাইছেন না বলে মত শীর্ষ আদালতের।

নয়াদিল্লি: নির্বাচনের এলেই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছোটে নেতা-নেত্রীদের মুখে। একের পর এক জনমোহিনী প্রকল্পের ঘোষণা হতেই থাকে। বিনামূল্য বিদ্যুৎ, বিনামূল্যে রেশন থেকে হাতে হাতে নগদ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করতে হিড়িক পড়ে যায় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। সেই নিয়ে এবার অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিনামূল্যে রেশন থেকে হাতে নগদ টাকা মিলছে বলে মানুষ আর পরিশ্রম করতে চাইছেন না বলে মত শীর্ষ আদালতের।
বুধবার বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জের বেঞ্চ এই মন্তব্য করেছে। শহরাঞ্চলে গৃহহীন মানুষের মাথার উপর আশ্রয় না থাকা নিয়ে একটি মামলার শুনানি চলছিল। সেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরমনী জানান, শহরাঞ্চলকে দারিদ্রমুক্তি করতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। শহরের দরিদ্র, গৃহহীন মানুষের মাথার উপর ছাদ গড়ে তুলতে, তাঁদের অন্য় সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ হচ্ছে। (Politics of Freebies)
এতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি গাভাই। তিনি বলেন, "ভোট এলেই বিনামূল্যে রেশন, টাকা দেওয়ার ঘোষণা হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় যে এসবের জেরে মানুষ পরিশ্রম করতে চান না। বিনামূল্যে রেশন এসে যাচ্ছে, কাজ না করে টাকাও এসে যাচ্ছে হাতে। এসবে না গিয়ে দরিদ্র মানুষদের সমাজের মূলস্রোতে শামিল করলে আরও ভাল হয়। এর ফলে তাঁরাও দেশের উন্নয়নে শামিল হতে পারেন। আমরা কি পরজীবী শ্রেণি তৈরি করছি না?" শহরের গৃহহীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা কবে হবে, তা জানাতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেয় আদালত। ছ'সপ্তাহ পর ফের এ নিয়ে শুনানি হবে।
নির্বাচনের আগে জনমোহিনী প্রকল্পের ঘোষণা নিয়ে এর আগেও কড়া মন্তব্য করেছিল আদালত। অন্য একটি মামলায় বিচারপতি গাভাই জানান, আদালতের বিচারপতিদের বেতন, পেনশন বাকি রয়ে যাচ্ছে। অথচ রাজনৈতিক দলগুলি খয়রাতির ঘোষণা করে চলেছে। অল ইন্ডিয়া জাজেস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের শুনানিতে ওই মন্তব্য করেন বিচারপতি গাভাই। তিনি পরিষ্কার বলেন, "খয়রাতি এবং জনকল্যাণের মধ্যে ফারাক আছে। বিচারপতিদের টাকা দেওয়ার কথা উঠলে অর্থনৈতিক সঙ্কটের কথা জানানো হয়। কিন্তু নির্বাচনের সময় 'লড়কি বহিন'-এর মতে প্রকল্পের ঘোষণা শুনতে পাই। নির্বাচনে জিততে দিল্লিতেই ২১০০, ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা হচ্ছে।"
বাড়ির মহিলাদের হাতে নগদ তুলে দেওয়ার ঘোষণা হালফিলে তৃণমূলের হাত ধরেই শুরু হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের সূচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে ওই প্রকল্পের আওতায় বাড়ির মহিলাদের ৫০০ টাকা করে দেওয়া হতো, পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ১০০০ টাকা। তফসিলি জাতি, জনজাতিরা আবার বেশি পান, ১২০০ টাকা করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই বরাদ্দ বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। বিজেপি আবার জানিয়েছে, তৃণমূল যদি ১৫০০ টাকা দেয়, তারা ক্ষমতায় এলে ৩০০০ করে দেবে।
দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেও একই ছবি। মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং দিল্লি, নির্বাচনে জিততে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে খয়রাতি। সেই আবহেই ফের তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল আদালত।
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
