বিরাট বড় 'স্ক্যাম', সরকারি আধিকারিকের ১৮ কোটির বেহিসাবি সম্পত্তি, পরিমাণ ছাড়াবে ১০০ কোটি? গ্রেফতার অভিযুক্ত
ACB সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির সরকারি মূল্য প্রায় ১৭.৯৫ কোটি টাকা। তবে তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, হায়দরাবাদ ও আশপাশের এলাকায় বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই সম্পদের প্রকৃত মূল্য ১০০ কোটিরও বেশি হতে পারে।

হায়দরাবাদ : প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরাট দুর্নীতি। বড় পদক্ষেপ নিল অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো (ACB)। তেলঙ্গানায় রাজ্যের Roads and Buildings Department-এর Engineer-in-Chief মোহন নায়েক জরুপলাকে (Mohan Naik Jarupla) গ্রেফতার করেছে ACB। অভিযোগ, সরকারি চাকুরে হয়েও এই ব্যক্তির সম্পত্তির বহর দেখে চক্ষু চড়কগাছ। নিজের বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল সেই সম্পত্তি। তাতেই কপালে চোখ সকলের। দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়েরের পরই মোহন নায়েকের অফিস, বাড়ি এবং তাঁর আত্মীয়, ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগীদের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ACB। আর সেই তল্লাশিতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ACB সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির সরকারি মূল্য প্রায় ১৭.৯৫ কোটি টাকা। তবে তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, হায়দরাবাদ ও আশপাশের এলাকায় বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই সম্পদের প্রকৃত মূল্য ১০০ কোটিরও বেশি হতে পারে। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা নগদ, ১.৪৪ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ডিপোজিট, প্রায় আড়াই কেজি সোনার গয়না যার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এছাড়াও প্রায় ৬ কেজি রুপোর সামগ্রী, দামি ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, ৯টি মোবাইল ফোন, ৪টি ল্যাপটপ এবং দুটি বিলাসবহুল গাড়ির হদিশ পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নিজামাবাদ জেলার মুলাঙ্গি গ্রামে প্রায় ১৯.৩৮ একর কৃষিজমি রয়েছে অভিযুক্তের নামে। পাশাপাশি কোমপল্লি ও গাচিবাউলিতে মোট ৭টি ফ্ল্যাটের খোঁজ মিলেছে, যার সরকারি মূল্য প্রায় ৭.৩৫ কোটি টাকা। এছাড়া মিয়াপুরে একটি ট্রিপ্লেক্স ভিলা, কুকাটপল্লিতে নতুন বাড়ি এবং নিজামপেটে আরও একটি বিলার জন্য ১ কোটি টাকার অগ্রিম দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। ACB জানিয়েছে, এখনও সম্পত্তির পূর্ণ হিসাব যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। আধিকারিকদের দাবি, আরও বহু অঘোষিত সম্পত্তির তথ্য সামনে আসতে পারে।
অভিযুক্ত মোহন নায়েক জরুপলাকে গ্রেফতার করে হায়দরাবাদের বিশেষ ACB আদালতে তোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই তেলেঙ্গানার প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।






















