NEET আন্দোলনের প্রধান মুখ ! মারাঠি মিডিয়াম স্কুলে পড়া অভিজিৎ দীপকে নিজে কতদূর পড়েছেন? কেমন রেজাল্ট?
এই অভিজিৎ কে? কী তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা? কীভাবেই বা এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে তিনি জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এলেন?

কিছুদিন আগেও নামটা প্রায় কারও জানা ছিল না। মুখ চেনা তো দূরের কথা, জাতীয় রাজনীতির আলোচনাতেও তাঁর কোনও উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু দিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের পর সেই ছবিটা বদলে গেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিজিৎ দীপকে। আন্দোলনের মুখ হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব, বক্তব্য এবং নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ এখন দেশজুড়ে চর্চার বিষয়। নতুন রাজনৈতিক দল—Cockroach Janta Party (CJP) র প্রতিষ্ঠাতা এই অভিজিৎ কে? কী তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা? কীভাবেই বা এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে তিনি জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এলেন?
ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি গঠিত Cockroach Janta Party (CJP)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর ২০২৬ সালের মে মাসে এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ।
দীপকে ও 'Cockroach Janta Party'
দল ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই অভিজিৎ দীপকে শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে সরব হন। পরীক্ষায় অনিয়ম, সরকারি শিক্ষার মান এবং শিক্ষা মন্ত্রকের জবাবদিহির দাবিতে দিল্লির জंतर মন্তরে আন্দোলনের ডাক দেন তিনি। প্রথমদিকে আন্দোলনে অংশ নেন অল্প কয়েকজন ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং ধারাবাহিক জনসভারের মাধ্যমে আন্দোলনের পরিধি দ্রুত বাড়তে থাকে। তাঁর দাবি ছিল, শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যার সাময়িক সমাধান নয়, প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে যোগ দেন এবং বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
আম আদমি পার্টির সমর্থক ?
অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক পথচলা একেবারে নতুন নয়। ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি একসময় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সঙ্গেও কাজ করেছেন। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা দীপকে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছেন এবং একাধিকবার শিক্ষা সংস্কারের দাবি তুলেছেন।
মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে জাতীয় রাজনীতিতে
১৯৯৬ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম অভিজিৎ দীপকের। দলীয় ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত মারাঠি পরিবারে বড় হওয়া অভিজিতের। তাঁর বাবা রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা এখনও একটি ছোট হোম টিউশন সেন্টার চালান। দীপকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন মারাঠি মাধ্যম স্কুলেই। পরে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু করেন। দলীয় ওয়েবসাইটে দাবি , উচ্চমাধ্যমিকে তিনি ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন । তবে একই ওয়েবসাইটে তাঁর উচ্চমাধ্যমিক বোর্ড সম্পর্কে দুটি ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। একদিকে বলা হয়েছে তিনি সিবিএসই বোর্ডে পড়েছেন, অন্যদিকে মহারাষ্ট্র স্টেট বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ফলে এই তথ্য নিয়ে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি
২০১৮ সালে ঔরঙ্গাবাদের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে স্নাতক হন দীপকে। কলেজজীবনে বিতর্সভায় ঝড় তুলতেন অভিজিৎ। লিখতেন ব্লগ। "Tier-2 Engineer" নামে ব্লগে, আইআইটি ও এনআইটির বাইরের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরতেন। স্নাতক হওয়ার পর প্রায় চার বছর পুণের দুটি স্টার্টআপে ব্যাকএন্ড ডেভেলপার হিসেবে কাজ করেন। এরপরেই তিন উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে তিনি বোস্টন ইউনিভার্সিটির Pardee School of Global Studies-এ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। তাঁর পড়াশোনার মূল ক্ষেত্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অর্থনীতি। দলীয় ওয়েবসাইটের দাবি, তিনি আংশিক বৃত্তি পেয়েছেন এবং ছাত্র ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
রাজনীতিতে অভিজিৎ দীপকের উত্থানের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষা নিয়ে তাঁর অবস্থান। তিনি বারবার দাবি করেছেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। আন্দোলন, রাজনৈতিক দল গঠন এবং জনসভা—সব ক্ষেত্রেই শিক্ষা ইস্যুকেই তিনি সামনে রেখেছেন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা কতটা দীর্ঘ হবে, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ছাত্র আন্দোলন থেকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসা অভিজিৎ দীপকে এখন নিঃসন্দেহে দেশের অন্যতম আলোচিত তরুণ রাজনৈতিক মুখ।























