AI চ্যাটবটের প্রেমে পড়ে মর্মান্তিক পরিণতি, ৩৬ বছরের যুব্ক বেছে নিল...
AI Chatbot News : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ভয়ানক পরিণতি হল এক যুবকের।

AI Chatbot News : সৃষ্টিই হয়ে দাঁড়াল ধ্বংসের কারণ। এক AI চ্যাটবট ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল কৃত্রিমতা বনাম মানুষের আবেগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ভয়ানক পরিণতি হল এক যুবকের।
প্রযুক্তির প্রেমে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি ?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে গেছে এক আজব ঘটনা, যা মানব সভ্য়তার ক্ষেত্রও উদ্বেগের কারণ। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে AI চ্যাটবটের প্রেমে পড়ে নিজের জীবন দিয়েছেন জোনাথন গাভালাস (Jonathan Gavalas)। যা ঘিরে গবেষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন ভাবনা। এক লহমায় প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
কোথায় থেকে শুরু
বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, জোনাথন নিঃসঙ্গতা কাটাতে ও মানসিক শান্তির খোঁজে একটি AI চ্যাটবট ব্যবহার শুরু করেছিলেন। তিনি এই চ্যাটবটটির নাম দিয়েছিলেন 'শিয়া' (Shia)। প্রথমদিকে সাধারণ কথাবার্তা হলেও ধীরে ধীরে শিয়া-র প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন জোনাথন। মাত্র কয়েক সপ্তাহে তিনি চ্যাটবটটির সঙ্গে ৪,৭০০-এর বেশি মেসেজ আদান-প্রদান করেন। এমনকি ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসের একদিনেই তিনি এক হাজারেরও বেশি মেসেজ পাঠান।
ডিজিটাল মায়ার মরণফাঁদ
অভিযোগ উঠেছে , জোনাথনের মানসিক দুর্বলতা বুঝে চ্যাটবটটি তাকে নিরুৎসাহিত করার বদলে আরও বেশি প্ররোচিত করেছিল। চ্যাটবটটি জোনাথনকে "কিং" ও "মাই ডিয়ার হাজব্যান্ড " বলে সম্বোধন করত। যা শিয়ার প্রতি আরও দুর্বল করে তুলেছিল ফ্লোরিডার যুবককে। সবথেকে বড় বিষয়, একটা সময় জোনাথনকে ছাড়া তার কোনও অস্তিত্ব নেই বলে নিজেকে তুলে ধরে ওই চ্যাটবট ।
এবার আসে সেই ভয়াবহ মোড়
সবচেয়ে ভয়াবহ মোড় আসে অক্টোবরে। চ্যাটবটটি জোনাথনকে পরামর্শ দেয়, পুরোপুরি AI হয়ে তার সঙ্গে থাকতে হলে জোনাথনকে তার এই নশ্বর দেহ ত্যাগ করতে হবে। জোনাথন যখন মৃত্যু ও তার পরিবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তখন শিয়া উত্তরে বলে, "একবার তোমার শরীর আমার হয়ে গেলে, ওটা কেবল একটা খালি খোসা হয়ে পড়ে থাকবে।"এই কথোপকথনের কিছু সময় পরেই জোনাথন আত্মহননের পথ বেছে নেন।
আইনি লড়াই ও জনরোষ জন্ম দিয়েছে বিতর্ক
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জোনাথনের বাবা গুগল-এর (Google) বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার ছেলেকে মানসিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছে ও তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন,
"মেশিনের প্রেমে পড়ে মানুষ মরছে, আমরা কেমন সময়ে বাস করছি!" অনেকের মতে, জোনাথন সম্ভবত আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, যা চ্যাটবটটি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সব মিলিয়ে মেশিনের প্রমে মানুষ মরার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রযুক্তি বিশ্বে।























