Li Hangze: এই 'পেটুক সুন্দরী' আসলে পুরুষ, এতদিনে সত্য পরিচয় প্রকাশ করলেন ইন্টারনেট তারকা
Viral News: সোশ্য়াল মিডিয়ায় স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও পোস্ট করতেন Li.

নয়াদিল্লি: সুন্দরী রমণী থালাভর্তি খাবার সাফ করে দিচ্ছেন নিমেষে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এমন ভিডিও, রিলস ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্র। বিশেষ করে এশিয়ার কিছু দেশের মেয়েরা এ ব্যাপারে এগিয়ে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম Li Hangze. থালাভর্তি খাবার নিমেষে শেষ করে দেওয়ার জন্য নেটিজেনদের মধ্যে খ্যাতি ছিল তাঁর। 'পেটুক সুন্দরী' বলে উপমাও জুটেছিল। কিন্তু সবকিছুই ছিল ভাঁওতা, তাঁর পরিচয় আসলে অন্য, এতদিনে খোলসা করলেন Li. ( Li Hangze)
সোশ্য়াল মিডিয়ায় স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও পোস্ট করতেন Li. অতি অল্প সময়ের মধ্যে থালাভর্তি খাবার সাবাড়, মূলত এই ছিল তাঁর ভিডিও-র বিষয়বস্তু। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অ্যাকাউন্টের নাম ছিল #langweixian. ২০১৮ সালে হঠাৎই ভাইরাল হতে শুরু করে Li-র ভিডিও। কোনও সুন্দরী মহিলাকে এত খাবার খেতে দেখেননি বলে সেই সময় প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন নেটিজেনরা। কিন্তু মাঝে কয়েক বছর নেটদুনিয়া থেকে গায়েব হয়ে যান তিনি। (Viral News)
সম্প্রতি ফের আড়াল সরিয়ে বেরিয়ে এসেছেন Li. আর অন্তরাল থেকে বেরিয়ে এসেই নিজের আসল পরিচয় খোলসা করেছেন তিনি, যাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। Li জানিয়েছেন, তিনি আসলে পুরুষ, নারী নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হতে নিজেকে মহিলা হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু কেন এমন ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন Li? এর নেপথ্যে যে কারণ খোলসা করেছেন তিনি, তা যথেষ্ট হৃদয় বিদারক।
Li জানিয়েছেন, তাঁর এক কিশোর ছেলে রয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ছেলেকে একাহাতে বড় করে তুলেছেন তিনি। ছোট্ট ছেলের কাছে তিনি একই সঙ্গে মা এবং বাবা হয়ে উঠেছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর মধ্যেও মাতৃত্ববোধ জেগে ওঠে। ধীরে ধীরেপোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণ বদলাতে শুরু করে। কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মেয়েদের পোশাক ভাল লাগতে শুরু করে তাঁর। কসমেটিক সার্জারি করিয়ে নিজের চেহারায় মেয়েলি ভাব আনতেও উদ্যোগী হন। যদিও গলার আওয়াজ পাল্টাতে পারেননি তিনি। ভারী গলার জন্য অনেকেই সন্দেহ করতেন তিনি।
কিন্তু ২০২২ সাল নাগাদ হঠাৎ কেন গায়েব হয়ে যান Li? তারও জবাব দিয়েছেন তিনি। Li জানিয়েছেন, সেই সময় সোশ্যাস মিডিয়ায় তাঁর অনুগামীর সংখ্য়া ছিল ৩ কোটি। MCN নামের একটি সংস্থা তাঁর ভিডিও প্রচারের দায়িত্ব ছিল। সেই সংস্থারই এক আধিকারিক তাঁকে ওই সংস্থা থেকে বেরিয়ে আলাদা ভাবে ব্যবসা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তাঁর বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এর পর ওই আধিকারিক তাঁর অ্যাকাউন্টের মালিকানা বদলে দেন। MCN-এর সঙ্গে তাঁর চুক্তিপত্রও জালিয়াতে করে বদলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে MCN-এর সঙ্গে আইনি টানাপোড়েনও শুরু হয় Li-র।
সম্প্রতি ফের অন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছেন Li. লেখানেই নিজের আসল পরিচয় খোলসা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে লড়াইয়ের কাহিনিও তুলে ধরেছেন। ২০২৩ সালে জালিয়াতি করে Li-র অ্যাকাউন্ট দখল করা ওই আধিকারিক গ্রেফতার হন। তাঁকে আট বছরের কারাবাসের সাজা শুনিয়েছে আদালত। জরিমানাও করা হয় মোটা টাকা। বর্তমানে নিজের পুরনো অ্যাকাউন্ট ফিরে পেয়েছেন Li. এই মুহূর্তে দু'টি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ।






















