Indian Monsoon News : দেশে ঢুকেও উবে গেল বর্ষা? মেঘহীন আকাশ, কাঠফাটা রোদ? ৬৪% বৃষ্টির ঘাটতি, মাথায় হাত আবহবিদদের
Monsoon 2026 : স্যাটেলাইট ছবিতে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য! ভারতের আকাশ থেকে কার্যত গায়েব মৌসুমী বায়ু, কেন এমন হল?

কলকাতা : ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতি হলেও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি দেখে উদ্বেগে আবহবিদরা। স্যাটেলাইট ছবিতে যা দেখা গিয়েছে, তা সত্যিই আতঙ্কের। দেখা গিয়েছে, দেশের বিস্তীর্ণ অংশে কার্যত মিলিয়ে গিয়েছে মৌসুমি বৃষ্টির সক্রিয়তা। দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের বহু অঞ্চলে আকাশ প্রায় মেঘশূন্য, যা জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিক ৫৩.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে হয়েছে মাত্র ১৯.২ মিলিমিটার। অর্থাৎ, গোটা দেশে বৃষ্টির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৪ শতাংশ।
বৃষ্টির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৪ শতাংশ !
কলকাতা : আইএমডির পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টিপাতের যে ঘাটতি (Rainfall Departure) আবহাওয়া মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, মধ্য ভারত, দক্ষিণ ভারত এবং পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা হলুদ ও লাল সতর্কতা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই রংগুলি স্বাভাবিকের তুলনায় কম বা অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাতের ইঙ্গিত দেয়। ফলে কৃষি, জলাধার এবং পানীয় জলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চল বর্ষার জলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়ল দুর্বল মৌসুমী বায়ুর চিত্র
১৫ জুন INSAT-3DS উপগ্রহের তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সাধারণত সক্রিয় বর্ষার সময় যেমন বিস্তৃতভাবে মেঘ ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকে, তার পরিবর্তে দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের বড় অংশই প্রায় পরিষ্কার। বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে মেঘের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে মূলত হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং গঙ্গা সমভূমির উত্তরাংশে। অন্যদিকে, আরব সাগর শাখার মৌসুমী বায়ু অত্যন্ত দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
বর্ষা এগোলেও কেন মিলছে না বৃষ্টি?
সাম্প্রতিক কালে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং মধ্য ভারতের আরও কিছু অংশে মৌসুমী বায়ু অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু মানচিত্রে বর্ষার অগ্রগতি হলেও বাস্তবে বৃষ্টিপাত প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছতে পারছে না। আবহবিদদের মতে, এর মূল কারণ সমুদ্রে আর্দ্রতার অভাব নয়, বরং ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েক কিলোমিটার উপরে বায়ুমণ্ডলে তৈরি হওয়া এক জটিল আবহাওয়াগত পরিস্থিতি।
২০২৬ সালে বর্ষার গতি কমার নেপথ্যে জেট স্ট্রিমের বড় ভূমিকা
এই অদ্ভূত পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে 'ওয়েস্টারলি জেট স্ট্রিম' বা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। এটি বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে প্রবাহিত বায়ুর একটি ধারা, যা এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষিণে অবস্থান করছে। এই অস্বাভাবিক অবস্থান ভারতের মৌসুমি বায়ুর অন্যতম চালিকাশক্তি 'ইস্টারলি জেট'-এর কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সাধারণত ইস্টারলি জেট ভারতের উপরিভাগে বায়ুকে উপরে উঠতে সাহায্য করে, যার ফলে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয় এবং বিস্তৃত অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটে। কিন্তু এ বছর শক্তিশালী পশ্চিমী জেট সেই প্রক্রিয়াকে দমন করছে।
আর্দ্রতা থাকলেও তৈরি হচ্ছে না বৃষ্টির মেঘ
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলেও বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে বিরূপ পরিস্থিতির কারণে মেঘের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে মৌসুমী বায়ু আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে গেলেও, তার সঙ্গে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত আসছে না। আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে 'Monsoon Pause' বা মৌসুমী বায়ুর সাময়িক বিরতি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
কবে ফিরবে সক্রিয় বর্ষা?
পূর্বাভাস মডেলগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই সপ্তাহের শেষভাগে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে। জেট স্ট্রিমের বর্তমান পরিস্থিতি দুর্বল হলে এবং মৌসুমী বায়ুর সঞ্চালন পুনর্গঠিত হলে দেশের বিভিন্ন অংশে আবারও বৃষ্টির কার্যকলাপ বাড়তে পারে। ততদিন পর্যন্ত দেশের বিস্তীর্ণ অংশকে বর্ষার ব্যাপক বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যেমনটা সাধারণত জুন মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায়।
Before You Go
MRC-র নতুন পরিষেবা, মিলবে রোবোটিক থেরাপি ও AI দ্বারা পরিচালিত মেডিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশনের সুবিধা























