NASA Galaxy Image: মহাকাশে ভেসে উঠল বিশাল বিস্ময়চিহ্ন! নাসার প্রকাশিত ছবিতে লুকিয়ে রয়েছে কোটি বছরের মহাজাগতিক রহস্য
নাসার এক্স-রে অবজারভেটরি ও হাবল স্পেস টেলিস্কোপের একত্রে তোলা ছবিতে মহাকাশে দেখা গেল বিশাল '!' চিহ্নের মতো দৃশ্য। এটি আসলে Arp 302 নামে দুটি সংঘর্ষরত গ্যালাক্সি। জানুন এর পিছনের বৈজ্ঞানিক রহস্য।

কলকাতা: মহাকাশে কখনও প্রশ্নবোধক চিহ্ন, কখনও সর্পিল গ্যালাক্সি—এবার নাসার ক্যামেরায় ধরা পড়ল যেন একটি বিশাল বিস্ময়চিহ্ন (!)। সম্প্রতি NASA-এর Chandra X-ray Observatory এবং Hubble Space Telescope-এর যৌথ পর্যবেক্ষণে এমন একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেখে প্রথম নজরে মনে হবে আকাশে কেউ যেন একটি বিরাট বিস্ময়চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। তবে এটি কোনও অপটিক্যাল ইলিউশন নয়, বরং দুটি বিশাল গ্যালাক্সির সংঘর্ষের এক বিরল দৃশ্য।
এই মহাজাগতিক জুটির নাম Arp 302। বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি গ্যালাক্সি বর্তমানে সংঘর্ষের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরে তারা পরস্পরের মহাকর্ষীয় টানে আরও কাছে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত একটিমাত্র বৃহৎ গ্যালাক্সিতে পরিণত হবে। এই বিশেষ কোণ থেকে দেখার কারণে পুরো গঠনটি বিস্ময়চিহ্নের মতো দেখাচ্ছে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, ছবির উপরের অংশে থাকা গ্যালাক্সির ভিতরে চন্দ্রা এক্স-রে অবজারভেটরি একটি দ্রুত বেড়ে ওঠা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল-এর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছে। ঘন মহাজাগতিক ধুলো ও গ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকলেও এক্স-রে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। অন্যদিকে হাবল টেলিস্কোপের দৃশ্যমান আলোর তথ্য দেখিয়েছে, একই সংঘর্ষে জড়িত হলেও দুটি গ্যালাক্সির বিবর্তনের গতি এক নয়।
নাসার বিজ্ঞানীরা হাবলের দৃশ্যমান আলোর ছবি এবং চন্দ্রার এক্স-রে তথ্য একত্রিত করে এই রঙিন কম্পোজিট ছবি তৈরি করেছেন। এর ফলে মহাজাগতিক ধুলোর আড়ালে থাকা কাঠামোও স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ধরনের পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করে, গ্যালাক্সিগুলি সংঘর্ষের সময় কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং নতুন নক্ষত্র ও ব্ল্যাক হোলের সৃষ্টি কীভাবে ঘটে।
View this post on Instagram
ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে সাড়া পড়ে যায়। অনেকেই এটিকে মহাবিশ্বের শিল্পকর্ম বলে বর্ণনা করেছেন। কেউ লিখেছেন, "মহাকর্ষের ধৈর্যই যেন প্রেমের আরেক নাম", আবার কেউ বলেছেন, "এত সুন্দর দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।"























