East Bengal: টিম টিম করে জ্বলছে প্লে-অফে পৌঁছনোর আশার আলো, পাঞ্জাবকে তাদেরই ঘরের মাঠে দুরমুশ করল ইস্টবেঙ্গল
ISL 2024 25: পাঞ্জাব এফসিকে হারিয়ে এক ধাক্কায় লিগ তালিকায় দুই ধাপ উপরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল।

নয়াদিল্লি: আইএসএলের (ISL 2024 25) শেষ বেলায় ঝড় তুলছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। গত ম্যাচে মহমেডান স্পোর্টিং-কে হারানোর পর শনিবার তারা নয়াদিল্লিতে পাঞ্জাব এফসি-কে (East Bengal vs Punjab FC) ৩-১-এ হারিয়ে পয়েন্ট টেবলের দশ নম্বরে উঠে এল তারা। এ দিন দাপুটে ফুটবল খেলে তারা পাঞ্জাব এফসি-কে ১১ নম্বরে নামিয়ে দেয়। যদিও তাতে সেরা ছয়ে যাওয়ার রাস্তা সহজ হয়ে গেল না লাল-হলুদের। কিন্তু এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের কোায়ার্টার ফাইনালের আগে এই জয় তাদের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
এ দিন ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় গ্রিক ফরোয়ার্ড দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকসের গোলে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ বাহিনী। ৪৭ মিনিটের মাথায় ফের গোল করে ব্যবধান বাড়ান নাওরেম মহেশ সিং। মহেশের গোলের সাত মিনিট পর তৃতীয় গোল করে দলকে জয়ের দিকে অনেকটা এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার লালচুঙনুঙ্গা। ৬২ মিনিটের মাথায় পাঞ্জাবের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নরবের্তো ভিদাল একটি গোল শোধ করলেও আর কোনও গোল করতে পারেনি লুকা মাজেনরা।
এ দিন দুই দলই চারটি করে শট গোলে রাখে। তবে ইস্টবেঙ্গলের মোট শটের সংখ্যা বেশি ছিল (৬-৮)। ইস্টবেঙ্গল যেখানে আটটি গোলের সুযোগ তৈরি করে, সেখানে পাঞ্জাব সাতটি গোলের সুযোগ তৈরি করে। প্রতিপক্ষের বক্সে পাঞ্জাব যেখানে ১৭ বার বল ছোঁয় পাঞ্জাব, সেখানে ইস্টবেঙ্গল ২২ বার বল পায় পাঞ্জাবের বক্সে।
এ দিন দলে দু’টি পরিবর্তন করে প্রথম এগারো নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোন। নন্দকুমার শেকরের জায়গায় সউল ক্রেসপো ও নির্বাসন কাটিয়ে নিশু কুমারের জায়গায় এ দিন দলে ফেরেন লালচুঙনুঙ্গা। অন্যদিকে, পাঞ্জাব এফসি চারটি পরিবর্তন করে দল নামায়।
এই নিয়ে টানা তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত থেকে প্লে-অফের আশা ক্ষীণ হলেও বাঁচিয়ে রেখেছে লাল-হলুদ বাহিনী, যদিও তা কেবলমাত্র অঙ্কের হিসেবে সম্ভব। আপাতত ২১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের ১০ নম্বরে রয়েছে, যেখানে পাঞ্জাব এফসি সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে সমান পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ১১ নম্বরে নেমে গিয়েছে। দুই দলই ষষ্ঠ স্থানে থাকা মুম্বই সিটি এফসির (৩২ পয়েন্ট) থেকে আট পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।
এ দিন প্রথমার্ধে শুরু থেকেই বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণ তৈরি শুরু করে ইস্টবেঙ্গল এফসি। তবে পাঞ্জাব এফসির রক্ষণভাগ সতর্ক ছিল। ১৫ মিনিটের মাথায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। গ্রিক ফরোয়ার্ড দিয়ামান্তাকস বাঁ দিক থেকে জোরালো কোণাকুনি শট নেন, যা গোলরক্ষক রবি কুমারের পায়ের ফাঁক দিয়ে গলে জালে জড়িয়ে যায় (১-০)।
এটিই এ মরশুমে ম্যাচের ১৫ মিনিটের মধ্যে ইস্টবেঙ্গল এফসি-র করা প্রথম গোল। শেষ নটি লিগ ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম গোল করলেন দিয়ামান্তাকস। ডিসেম্বরে জামশেদপুর এফসির বিপক্ষে ১-০-য় জেতা ম্যাচে শেষ গোলটি করেছিলেন তিনি।
দিয়ামান্তাকসের সামনে আরও একটি গোলের সুবর্ণ সুযোগ আসে ৪৪তম মিনিটে। রাফায়েল মেসি বৌলি তাঁর মার্কারকে পরাস্ত করে নীচু ক্রস দেন। তবে ৩১ বছর বয়সী গ্রিক ফরোয়ার্ড গোলে শট নেওয়ার আগেই ইভান নভোসেলেচ তাঁর পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলের খেলায় আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আনেন পাঞ্জাবের কোচ দিলম্পেরিস। তিনি লুকা মাজেন ও নিহাল সুদীশকে নামান আসমির সুলজিক ও আশিস প্রধানের জায়গায়। ৪৭ মিনিটের মাথায় পাঞ্জাব এফসি-র রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় গোল পায় ইস্টবেঙ্গল।
দীর্ঘ থ্রো-ইনের মাধ্যমে এই আক্রমণ শুরু হয়, যেখানে মেসি বৌলি বল ধরে পিভি বিষ্ণুকে ক্রস বাড়ান। বিষ্ণুর শট নভোসেলেচ ব্লক করলেও ফিরতি বলে ঠান্ডা মাথায় জালে বল জড়িয়ে দেন নাওরেম মহেশ (২-০)।
তৃতীয় গোলটি আসে ৫৪ মিনিটের মাথায়, লালচুঙনুঙ্গার পা থেকে। মহেশের কর্নার প্রথমে বক্স থেকে বার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন গোলকিপার রবি কুমার। কিন্তু বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন পাঞ্জাব এফসির ডিফন্ডাররা। ফলে বল বক্সের সামনের দিকে থাকা লালচুঙনুঙ্গার পায়ে পড়ে এবং চমৎকার এক জোরালো শটে বল গোলে পাঠান (৩-০)।
ম্যাচের শেষ দিকে একাধিকবার উত্তেজনা চরমে ওঠে। ৬১ মিনিটের মাথায় পাঞ্জাব এফসি গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যখন খাইমিনথাঙ লুঙডিমের লম্বা পাস থেকে লুকা মাজেন হেড করেন, কিন্তু প্রভসুখন গিল দুর্দান্ত সেভ করে তাঁর সেই চেষ্টা বানচাল করেন। তবে পরের মিনিটেই গোল শোধ করে ‘হোম টিম’। ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস ইস্টবেঙ্গল এফসির ডিফেন্স লাইনের সামনে পড়ে। সেখানে প্রথমে বলের নাগাল পান ভিদাল এবং দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন, যেখানে গোলকিপার গিল কিছুই করতে পারেননি (৩-১)। শেষ দিকে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সময় খুব কম ছিল পাঞ্জাব এফসির কাছে। ফলে তারা মরশুমের ১১ নম্বর হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
(তথ্য: আইএসএল মিডিয়া)
আরও পড়ুন: ঘরের মাঠে এখনও অধরা প্রথম জয়, জামশেদপুরের কাছে হার সত্ত্বেও ইতিবাচক দিক খুঁজছেন মহামেডান কোচ






















