FIFA World Cup 2026: কেপ ভার্দের স্বপ্নের বিশ্বকাপ সফর অব্যাহত, স্পেনের পর উরুগুয়েকেও আটকে দিলেন ভোজিনহারা
Uruguay vs Cape Varde: ম্যাচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে যেমন লিড নিতে সক্ষম হয়েছিল, তেমনই পিছিয়ে পড়েও সমতা ফেরানো গোলও করে কেপ ভার্দে।

মায়ামি: বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফুটবল প্রতিবারই রূপকথার জন্ম দেয়, দেখা যায় অবিশ্বাস্য কিছু মুহূর্ত। এবারের বিশ্বকাপের 'সিনড্রেলা স্টোরি'টা কেপ ভার্দের নামে উৎসর্গ করা যেতেই পারে। আফ্রিকার যে দেশের জনসংখ্যা মেরেকেটে সাড়ে পাঁচ লক্ষ, যে দেশের গোলরক্ষকের পরিবার অর্থের অভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আসতে পারে না, সেই দেশই নাকি বিশ্বের নামীদামি ফুটবল খেলীয় দেশগুলিকে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিচ্ছে, তাও আবার নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে।
কেপ ভার্দের গল্পটা কিন্তু ঠিক এমনই। ধারেভারে কেপ ভার্দের থেকে স্পেন অনেক বড় দল, অনেক বড় নাম। দলে বিশ্ববন্দিত তারকাদের উপস্থিতি, ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন এবং ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামা স্পেনকে নিজেদের বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই আটকে দিয়েছিল কেপ ভার্দে। অনেকে তাঁর পরেও সেটাকে নিছক ফ্লুক বলেই উড়িয়ে দিচ্ছিলেন। তবে তার পরের ম্যাচেই দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিরুদ্ধে (Uruguay vs Cape Varde) নিজেদের পারফরম্যান্সে ভোজিনহারা প্রমাণ করলেন, আত্মবিশ্বাস, দৃঢ় মানসিকতা এবং একত্রিত হয়ে লড়াই করলে যে কোনও যুদ্ধই জেতা যায়।
আরও পড়ুন:- গোল করলেন ইয়ামাল, সৌদি আরবকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল 'ফেভারিট' স্পেন
এদিন মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দে ম্যাচ জিতল না ঠিকই, কিন্তু জিতে নিল সকলের মন। পরাজিত করল সব সংশয়কে। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও তাই উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র করাটা আফ্রিকান দেশটির জন্য অঘটন নয়, বরং সেটা তাদের দক্ষতার পরিচয়বাহক। এক টানটান ম্যাচে ফের সকলের নজর কাড়লেন কেপ ভার্দের ফুটবলার থেকে কার্যত আইকনের পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া লড়াকু যোদ্ধারা।
ম্য়াচের ২১তম মিনিটে কেভিন পিনার দূরপাল্লার ফ্রি-কিক উরুগুয়ের সাজানো ওয়ালের ফাঁক দিয়ে গলে যায়। শুরুটা স্বপ্নের মতো করেই কেপ ভার্দে। এটিই বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের প্রথম গোল ছিল। এদিন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড লাইনে খেলা ফেদ্রিকো ভিনাসকে শুরুতে নিষ্প্রভই দেখাচ্ছিল। তবে ছবিটা বদলায় প্রথমার্ধের শেষ লগ্নে।
ম্যাচে লিড পাওয়ার কেপ ভার্দে অল আউট ডিফেন্স না করে আক্রমণের পথ বেছে নেয়। কিন্তু তাতে রক্ষণভাগে বেশ কিছু স্থান ফাঁকাও থেকে যায়। সেই সুযোগেই ৪৪তম মিনিটে বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যাক্স আরাহো। গত ম্য়াচে সুযোগ না পাওয়া অগাস্টিন ক্য়ানোবিও এরপর কোচে মার্সেলো বিয়েলসার ভরসার মান রাখেন। প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে আরাহোর পাস থেকে গোল করে উরুগুয়েকে ম্যাচে এগিয়ে দেন তিনি। লিড নেওয়ার পর ২-১ পিছিয়ে পড়েই প্রথমার্ধ শেষ করে কেপ ভার্দে।
দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের নাগাড়ে প্রেসিং ফুটবলের বিরুদ্ধে কেপ ভার্দে বড় সুযোগ তৈরি করতে প্রাথমিকভাবে চাপেই পড়ে। তবে লাতিন আমেরিকান দলের রক্ষণভাগের হালকা একাগ্রতা ভঙ্গের সুযোগে কেপ ভার্দে সমতায় ফেরে। ম্যাথিয়াস অলিভেরা নিজের বক্সের মধ্যেই পাস দিতে যান তবে তিনি অপেক্ষারত হেলিও ভারেলাকে লক্ষ্যই করেননি। তিনি বল নিজের দখলে এনে উরুগুয়ের কিংবদন্তি গোলকিপার মুসলেরাকে পরাস্ত করে দলকে ম্যাচে ফেরান।
উরুগুয়ে অধিনায়ক ফেদ্রিকো ভালভার্দে জালে বল জড়িয়ে দিলে উরুগুয়ানরা মনে করেন তাঁরা হয়তো ম্যাচে দ্বিতীয়বার লিড নিয়ে নিয়েছে। তবে সেই গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। ম্যাচের সময় যত গড়ায় উরুগুয়েকে ততই খানিকটা ক্লান্ত দেখায়। তবে কেপ ভার্দে কিন্তু এক পয়েন্টের জন্য থেমে না থেকে জয়ের জন্য ঝাঁপায়। এর জেরেই দুই দলই গোলের সুযোগ পায় এবং সুযোগ নষ্ট করে। সেই সময় গ্যালারিতে উপস্থিত উরুগুয়ে ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজের হতাশা বারংবার ক্য়ামেরায় ধরা পড়ছিল। তবে একেবারে শেষবেলায় রদ্রিগো বেনটানঙ্কুর এক অনবদ্য ট্যাকেল না করলে উরুগুয়ে কিন্তু ম্যাচ হারতেও পারত, কেপ ভার্দে হয়তো জয়সূচক গোলও করে ফেলত। কিন্তু শেষমেশ টানটান ম্যাচ ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয়।





















