ISL 2023: লাল হলুদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়াটাই কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: কুয়াদ্রাত
East Bengal FC: গত এপ্রিলেই জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আগামী দুই মরশুমে লাল-হলুদ বাহিনীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন প্রাক্তন আইএসএলজয়ী দলের কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত।

কলকাতা: বছর পাঁচেক আগে বেঙ্গালুরু এফসি-কে সাধারণ জায়গা থেকে শিখরে পৌঁছে দেওয়া কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত যখন ইস্টবেঙ্গল এফসি-র দায়িত্ব নেন, তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। গত তিন বছরে যারা আইএসএল টেবলের একেবারে নীচের দিকে ছিল, কুয়াদ্রাতের মতো সফল কোচ হঠাৎ তাদের দায়িত্ব নিতে গেলেন কেন, এই প্রশ্ন তাদের মনে উদয় হয়েছিল। স্প্যানিশ কোচ অবশ্য স্বীকার করে নিলেন, ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নিয়ে কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছেন তিনি।
কলকাতায় আসার পর প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শনিবার তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “অবশ্যই এটা আমার কোচিং জীবনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। যে কোনও বড় ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আসলে কোনও ফুটবল দলকে তৈরি করা হল একটা প্রকল্পের মতো। আমাদের মনে রাখতে হবে, কাগজে কলমে সেরা দল যে মাঠেও সেরা হবে, তার কোনও মানে নেই। ২০১৬-১৭-র আই লিগে বেঙ্গালুরু এফসি দলে সুনীল ছেত্রী, সন্দেশ ঝিঙ্গন, অমরিন্দর সিং, সন্দেশ ঝিঙ্গন, হরমনজ্যোৎ খাবরা, মন্দার রাও দেশাইয়ের মতো জাতীয় দলে খেলা ভাল ভাল ফুটবলার ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সে বার আমরা চার নম্বরে, আইজল এফসি, মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের পিছনে থেকে লিগ শেষ করি। আসলে দলের সম্পদকে কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে আর ফুটবল দর্শনকে কোচ কী ভাবে কাজে লাগাচ্ছে, তার ওপরেই অনেক কিছু নির্ভর করে। এক্ষেত্রেও সেটাই হবে। আমরা যদি প্রকল্পটা ঠিকমতো বাস্তবায়িত করতে পারি, তা হলে সফল হব। এই প্রকল্পকে কাজে পরিণত করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ”।
গত এপ্রিলেই জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আগামী দুই মরশুমে লাল-হলুদ বাহিনীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন প্রাক্তন আইএসএলজয়ী দলের কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত। আইএসএলে যে বার থেকে খেলা শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল, সেই মরশুম থেকেই তারা ফর্মের অভাবে ভুগছে। অভিষেক মরশুমে তারা ছিল লিগ টেবলের নয় নম্বরে। দ্বিতীয় মরশুমে তারা ছিল সর্বশেষ স্থানে, ১১-য় এবং গতবার ফের সেই নয়ে। এই জায়গা থেকে দলকে আরও ওপর দিকে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত।
কেন ইস্টবেঙ্গলকেই বেছে নিলেন? লাল-হলুদ বাহিনীর সেনাপতির ব্যাখ্যা, “ইস্টবেঙ্গলের ম্যানেজমেন্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বেশ পরিষ্কার। এটা একটা দলের সাফল্যের জন্য খুবই জরুরি। আমি এই ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে খুশি। কারণ, এখানকার সাপোর্ট স্টাফ সবাই খুব পেশাদার ও সব সময় সাহায্য করার জন্য তৈরি। সমর্থকদের এটুকু বলতে পারি যে, আমরা এ বার ভাল ফলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী”।
ভারতে কোচিং করানোর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে ৫৪ বছর বয়সী কুয়াদ্রাতের। ২০১৬ থেকে ২০১৮—ভারতে তাঁর প্রথম পর্বে কুয়াদ্রাত বেঙ্গালুরু এফসি-র সহকারী কোচের পদে ছিলেন ও তাদের ফেডারেশন কাপ, প্রথম হিরো সুপার কাপ জিততে সাহায্য করেন। সেই সময়ে বেঙ্গালুরু এফসি প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে এএফসি কাপের ফাইনালে উঠেছিল।
এর পরে, ২০১৮-য় প্রধান কোচ হিসেবে বেঙ্গালুরু এফসি-র দায়িত্ব নেন তিনি। প্রথম মরশুমেই (২০১৮-১৯) দলকে প্রথম আইএসএল চ্যাম্পিয়ন করেন কুয়াদ্রাত। তাঁরই প্রশিক্ষণে বেঙ্গালুরু একই মরশুমে লিগসেরা ও ট্রফিজয়ী দুইই হয়। পরের বছর তাঁর প্রশিক্ষণে থাকা বেঙ্গালুরুর দল ফের প্লে-অফে ওঠে। অর্থাৎ, তিনি ভারতে কোচিং করতে এসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাফল্যই পেয়েছেন। তথ্য সংগ্রহ: আইএসএল মিডিয়া






















