ভারতীয় ক্রিকেট ‘সুপারস্টার সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত, সৌরভ, গাওস্কর, ধোনি, দ্রাবিড়কে তোপ দেগে বললেন রামচন্দ্র গুহ

মুম্বই: প্রশাসক কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সময় বিস্ফোরক রামচন্দ্র গুহ। তাঁর আনা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে বিদ্ধ সৌরভ, দ্রাবিড়, গাওস্কর। বাদ গেলেন না ধোনিও।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই-এর প্রশাসক কমিটি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন গতকালই। আর, নিজের পদত্যাগ প্রসঙ্গে এদিন বিস্ফোরক রামচন্দ্র গুহ। এদিন প্রশাসক কমিটিকে পাঠানো চিঠিতে একাধিক স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তুলেছেন এই ইতিহাসবিদ।
চিঠিতে তিনি এক-এক করে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কদের একহাত নেন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রামচন্দ্র গুহর রোষে যাঁরা পড়েছেন তাঁরা হলেন— সুনীল গাওস্কর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, মহেন্দ্র সিংহ ধোনি ও রাহুল দ্রাবিড়ও।
এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক, কার সম্বন্ধে ঠিক কী কী অভিযোগ এনেছেন রামচন্দ্র গুহ—
সুনীল গাওস্কর—গুহর মতে, সুনীল গাওস্কর বিসিসিআইয়ের ধারাভাষ্যকার। আবার, তাঁরই ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ শিখর ধবনের মতো একাধিক ক্রিকেটারের হয়ে ম্যানেজমেন্টের কাজ করে। আবার গাওস্কর কমেন্ট্রি করার সময় শিখরদের নিয়ে মন্তব্য করেন। গুহর অভিযোগ, গাওস্করের এই ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে স্বার্থের সংঘাতের সামিল।
রামচন্দ্রর দাবি, হয় তাঁর ওই ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। না হলে বোর্ডের ধারাভাষ্যকারের পদ ছাড়া উচিত। অথচ, তাঁর (গাওস্করের) বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়— সুনীল গাওস্করের মতোই রামচন্দ্রের তোপের মুখে প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সিএবি সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ক্রিকেট-বিশেষজ্ঞ হিসেবে বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটারদের উপর মতামত দেওয়ার জন্য সৌরভের বিরুদ্ধেও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ এনেছেন রামচন্দ্র।
মহেন্দ্র সিংহ ধোনি— গুহর দাবি, ‘সুপারস্টার সিনড্রোমে’ আক্রান্ত ভারতীয় ক্রিকেট। তাঁর মতে, ক্রিকেটার যত বড়, ততই তাঁর ক্ষমতা রয়েছে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোর। ইতিহাসবিদ বলেন, ধোনি যখন থেকে ভারত অধিনায়ক, তখন থেকেই দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের প্রতিনিধিত্ব করা একটি সংস্থায় অংশীদার ছিলেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। টেস্ট ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া সত্ত্বেও কেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে এ-গ্রেডেশনে রাখা হবে? সেই প্রশ্নও তোলেন রামচন্দ্র। তাঁর মতে, ক্রিকেট-বিশ্বের কাছে ঘটনাটা মোটেই ভাল বার্তা দিচ্ছে না।
রাহুল দ্রাবিড়— একইসঙ্গে ভারতীয় এ দলের কোচ ও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজ দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের কোচ হওয়ায় রামচন্দ্রের চোখে স্বার্থের সংঘাতে অভিযুক্ত রাহুল দ্রাবিড়ও। যদিও, প্রকাশ্যে দ্রাবিড়ের নাম করেননি তিনি।
গুহ বলেন, ইচ্ছে করেই এক কোচকে ১০ মাসের চুক্তি দেওয়া হয়। যাতে তিনি বাকি ২ মাস আইপিএল দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করতে পারেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ওই ব্যক্তি আবার দলেরই এক ক্রিকেটারকে কোচিং করান, যখন সেই ক্রিকেটার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ছিলেন।
শুধু তাই নয়। কোচ ও ধারাভাষ্যকার নিয়োগে অধিনায়কের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রামচন্দ্রের প্রশ্ন, অধিনায়ক বা সিনিয়র ক্রিকেটারেরা যদি এ-সব ব্যাপারে মতামত দেন, এরপর তো নির্বাচন কমিটি বা বোর্ড-কর্তা নিয়োগেও হস্তক্ষেপ করবেন তাঁরা।
কোচ হিসেবে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের নিরিখে অনিল কুম্বলের মেয়াদ বাড়ানো উচিত ছিল। তা তো করা হলই না, বরং নতুন কোচ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হল। কুম্বলের সঙ্গে বোর্ডের এই ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না।
প্রশাসক কমিটিতে তাঁর পরিবর্তে জাভাগল শ্রীনাথের অন্তর্ভূক্তির সুপারিশ করেছেন তিনি। লোঢা কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার দায়িত্ব ছিল প্রশাসনিক কমিটির উপর। কিন্তু, সেজন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত প্রশাসনিক কমিটির। বোর্ডের কাজে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এই কাজটা করতেই হবে। পদত্যাগপত্রে জানিয়েছেন খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় বোর্ডের শুদ্ধিকরণের উদ্দেশেই তৈরি হয়ে ছিল প্রশাসক কমিটি। তার সদস্যের কমিটিতে রামচন্দ্র গুহ ছাড়াও ছিলেন প্রাক্তন ক্যাগ বিনোদ রাই, প্রাক্তন ক্রিকেটার ডায়না এদুলজি ও ব্যাঙ্কার বিক্রম লিমায়ে। কিন্তু, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই প্রশাসক কমিটি থেকে হঠাত্ ইস্তফা দেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ।
তাঁর আকস্মিক ইস্তফা নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর জল্পনা ছিল বিসিসিআইয়ের অন্দরমহলে। আর, শুক্রবার ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহের পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আসতেই ক্রিকেট মহলে ঝড়। এবার রামচন্দ্র গুহর এই অভিযোগ ফের বোর্ডের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল।






















