8th Pay Commission : কোভিডকালের ১৮ মাসের বকেয়া ডিএ কি পাবেন সরকারি কর্মীরা ? এই নিয়ে সরকারের অবস্থান কী ?
8th Pay Commission : কোভিডকালের ১৮ মাসের বকেয়া ডিএ কি পাবেন সরকারি কর্মীরা ? স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিল সরকার

Salary News : অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) কাছে ফের বকেয়া ডিএ-র (DA) প্রস্তাব তুলল সরকারি কর্মী সংগঠন। সূত্রের খবর, কোভিডকালের (Covid 19) বকেয়া ১৮ মাসের ডিএ-র কথা উঠেছে বৈঠকে। ইতিমধ্য়েই এই নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সরকার।
অতীতে কী কারণে বন্ধ হয়েছিল এই ডিএ ?
২০২০ সালে করোনাকালে ডিএ বন্ধ রেখেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কোভিড ১৯ অতিমারীর কারণে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল কেন্দ্র। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিন দফায় মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ দেয়নি কর্মীদের। ঠিক কবে কবে এই ডিএ দেওয়া হয়নি।
১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২০
১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০
১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে ৩০ জুন ২০২১
এতে সরকারের কী সুবিধা হয়েছিল
অতিমারীর সময় তিনবার মহার্ঘ ভাতা বন্ধ করার সুবিধা পেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই ১৮ মাসের মহার্ঘ ভাতা স্থগিত রাখায় সরকারের প্রায় ৩৪,৪০২.৩২ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও কোভিড মোকাবিলায় ব্যয় করা হয়েছিল।
কবে কোথায় দাবি উঠেছে
সম্প্রতি দেহরাদুনে অনুষ্ঠিত অষ্টম বেতন কমিশনের সাম্প্রতিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের সহযোগী সংগঠনগুলি পুরনো ১৮ মাসের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবি তুলেছিল।
কী জানাচ্ছে অর্থ মন্ত্রক ?
এই নিয়ে এবারও অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে পুরো বকেয়ার দাবি তুলেছে কর্মী সংগঠনগুলি। বার বার এই দাবির মুখেও এই বকেয়া টাকা দেওয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, অতিমারীর সময়ের ওই ১৮ মাসের ডিএ/ডিআর (DA/DR) বকেয়া বাবদ কোনও অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দেওয়া হবে না।
সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাজেটের ওপর তৈরি হওয়া অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও পরবর্তী অর্থবছরগুলিতে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কারণেই এই বকেয়া টাকা মেটানো সম্ভব নয়। বর্তমানে এই বকেয়া টাকা রিলিজ করার কোনও প্রস্তাব সরকার বিচার করছে না।
এপ্রিলেই প্রকাশিত হয়েছিল এই বিজ্ঞপ্তি
অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য পুরনো বকেয়া DA ও DR-এর বকেয়া অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়। Department of Expenditure এই বিষয়ে ১৫ এপ্রিল, ২০২৬-এ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে (ফাইল নং ২০/১/২০২৬-ই.২(বি)), মন্ত্রকের DA/DR-এর বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে এই জবাব দিয়েছে। ওই আবেদনে ২০২০ সালের জানুয়ারি, ২০২০ সালের জুলাই এবং ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বকেয়া থাকা DA/DR-এর স্থগিত কিস্তিগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছিল। ডিপার্টমেন্ট অফ এক্সপেন্ডিচারের তরফে আন্ডার সেক্রেটারি মনোজ কুমার জৈন এতে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেন।
সরকার সেই সময়কার বিজ্ঞপ্তিতে কী বলেছিল ?
সরকারের এই বিষয়ে আগেই অবস্থান স্পষ্ট ছিল। কোভিডকালের ডিএ-র বকেয়া নিয়ে অতীতে মুখ খুলেছিল সরকার। ২০২০ সালে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, “কোভিড-১৯ থেকে উদ্ভূত সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের প্রদেয় ডিএ ও কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগীদের ডিআর-এর অতিরিক্ত কিস্তি, যা ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে প্রাপ্য, তা দেওয়া হবে না। ১ জুলাই ২০২০ ও ১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে প্রাপ্য DA ও DR অতিরিক্ত কিস্তিও দেওয়া হচ্ছে না।”
কবে চালু হতে পারে অষ্টম বেতন কমিশন ?
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন ও পেনশন কাঠামো সংশোধনের জন্য সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে কমিশনকে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ ও রিপোর্ট তৈরি করার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে পারে।
পরবর্তীকালে রিপোর্ট জমা পড়ার পর তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে অষ্টম পে কমিশনের সুপারিশ দেশজুড়ে পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।























