পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বাড়ায় ভারতের অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকট, ডলারের দাপট বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের আয় হ্রাস - এই তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
Iran Israel War: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাব পড়বে ভারতে ! ফিচের রিপোর্টে চরম উদ্বেগের সংকেত
Indian Economy : এই পরিস্থিতির মাঝেই আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ (Fitch) এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করে ভারতকে সতর্ক করেছে।

Indian Economy : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা যত বাড়ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে ভারতের অর্থনৈতিক সংকট। ইরান, ইজরায়েল আমেরিকার (Iran Israel War) সংঘাত এখন এক ভয়ংকর মোড়ে দাঁড়িয়ে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও পাল্টা ইরানের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে—যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। এই পরিস্থিতির মাঝেই আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ (Fitch) এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করে ভারতকে সতর্ক করেছে।
ফিচের রিপোর্টে কেন ‘ধাক্কা’ খেল ভারত ?
সোমবার প্রকাশিত ‘ইরান কনফ্লিক্ট পোজেস নিউ ক্রেডিট রিস্কস ফর এমার্জিং ইকোনমিকস’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলি তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে:
জ্বালানি সংকট: ভারতের মোট জিডিপি-র প্রায় ৩ শতাংশ খরচ হয় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আকাশছোঁয়া হতে পারে।
ডলারের দাপট: বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে মার্কিন ডলার আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে ভারতীয় টাকার দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে, যা আন্তর্জাতিক ঋণ গ্রহণকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে।
প্রবাসীদের আয় হ্রাস: পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি চললে সেখানে কর্মরত ভারতীয়দের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার (Remittance) ওপর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালী ও ভারতের দুশ্চিন্তা
ফিচ স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ যদি এক মাসের বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকে, তবে তার ফল হবে মারাত্মক। ভারতের মতো দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং সরকারকে তেলের ওপর অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হতে পারে, যা দেশের রাজকোষে বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
রেটিং সংস্থার পর্যবেক্ষণ: "যদি জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটে, তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াবে এবং ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রেডিট রিস্ক বা ঋণ নেওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।"
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
তেলের দাম ১১৪ ডলারে পৌঁছানো মানেই ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে এবং আমজনতার পকেটে টান পড়বে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ককেও মুদ্রাস্ফীতি রুখতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয় । কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না। )
Frequently Asked Questions
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বাড়ায় ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের কী সমস্যা হতে পারে?
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আকাশছোঁয়া হতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে ভারতের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে?
হরমুজ প্রণালী এক মাসের বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকলে ভারতের মতো দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং সরকারকে তেলের ওপর অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হতে পারে।
যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে এবং আমজনতার পকেটে টান পড়বে।























