Ratan Tata: ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেন TCS-এ, দিনে দিনে রতন টাটার আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন, Tata Sons থেকে কেন পদত্যাগ করলেন এন চন্দ্রশেখরন?
N Chandrasekaran: কৃষক পরিবারের ছেলে। টাটা সন্সের মাথায় অধিষ্ঠিত হন। সুসম্পর্ক ছিল রতন টাটার সঙ্গে। কেন পদত্যাগ করলেন এন চন্দ্রশেখরন?

নয়াদিল্লি: মতবিরোধের খবর উঠে আসছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। শেষ পর্যন্ত টাটা সন্স থেকে পদত্যাগ করলেন নটরাজন চন্দ্রশেখরন। চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, কার্যকালের মেয়াদ পূর্ণ করবেন। তবে আর টাটা গোষ্ঠীতে ফিরতে চান না। টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটার সঙ্গে তাঁর বিরোধের খবর সামনে আসছিল লাগাতার। সেই আবহেই পদত্যাগ করলেন এন চন্দ্রশেখরন। যদিও প্রয়াত রতন টাটার সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাঁর। (N Chandrasekaran)
তামিলনাড়ুর নমাক্কল জেলার কৃষক পরিবারে জন্ম চন্দ্রশেখরনের। টাটা পরিবারে জন্মও নয় তাঁর, চেনাশোনাও ছিল না একেবারে। তা সত্ত্বেও টাটা গোষ্ঠীতে তাঁর উত্তরণ আটকায়নি। রতন টাটার পর একসময় তাঁকেই টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু তার আগেই টাটা গোষ্ঠী থেকে বিদায় নিতে চলেছেন চন্দ্রশেখরন। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, কেন টাটা গোষ্ঠীতে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। (Ratan Tata)
১৯৬৩ সালে জন্ম চন্দ্রশেখরনের। বাড়ির খামারেই কাটে শৈশব। তবে কৃষি ভিত্তি হলেও, শিল্প হয়ে ওঠে তাঁর ভবিষ্যৎ। কম্পিউটার এবং প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আকর্ষণ জন্মায় চন্দ্রশেখরনের। সরকারি স্কুল থেকে সোজা কোয়েম্বাত্তূর ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে পড়াশোনার সুযোগ পান। অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সে স্নাতক হওয়ার পর তিরুচিরাপল্লির রিজিওনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে স্নাতকোত্তর পাঠ, বর্তমানে যা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি নামে পরিচিত।
পরবর্তীতে চন্দ্রশেখরন জানান, কৃষিকাজে বাবাকে সাহায্য় করতেন তিনি। কিন্তু কৃষিকাজকে জীবিকা হিসেবে বেছে নেওয়ার আগ্রহ পাননি। মা মীনাক্ষিকে এর কৃতিত্ব দেন চন্দ্রশেখরন। জানান, পরিশ্রমের বিকল্প নেই বলে গোড়া থেকেই তাঁকে শিখিয়েছিলেন মা। তাই গ্রাম থেকে শহরে পড়তে যাওয়ার সাহস পান।
১০৮৭ সালে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসে (TCS) ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেন চন্দ্রশেখরন। দেখতে দেখতে সংস্থায় দীর্ঘ তিন দশক কাটিয়ে ফেলেন তিনি। প্রযুক্তি বিভাগ থেকে সংস্থার মাথায় আসীন হন। ২০০৭ সালে TCS-এর চিফ অপারেটিং অফিসার নিযুক্ত হন চন্দ্রশেখরন। ২০০৯ সালে CEO এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিযুক্ত হন। ২০১৬ সালে টাটা সন্সের বোর্ডে জায়গা পান প্রথম। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। টাটা পরিবারের বাইরে সেই প্রথম কেউ টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব হাতে পান।
চন্দ্রশেখরন যে সময় টাটা সন্সের দায়িত্ব হাতে পান, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সাইরাস মিস্ত্রির অপসারণ ঘিরে সেই সময় নেতৃত্ব সঙ্কট চরমে। অন্তর্বর্তিকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে আসতে হয় রতন টাটাকে। সেই অবস্থায় টাটা গোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় চন্দ্রশেখরনের উপর আস্থা রাখেন তিনি।
রতন টাটার সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল চন্দ্রশেখরনের। ২০১৭ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার সময় রতন টাটার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, টাটা গোষ্ঠীকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি। কিন্তু সংস্থার মূল চেতনা, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখতে সমান ভাবে বদ্ধপরিকর। দিনে দিনে রতন টাটার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ৮৬ বছর বয়সে মারা যান রতন টাটা। তাঁর মৃত্যুতে দৃশ্যতই ভেঙে পড়েন চন্দ্রশেখরন। রতন টাটাক নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, অভাবনীয় নেতৃত্বগুণ ছিল রতন টাটার। শুধুমাত্র টাটা গোষ্ঠী নয়, দেশ গঠনেও তাঁর অবদান রয়েছে। সেই সময় তিনি বলেন, “যে বা যাঁরা শ্রদ্ধেয় রতন টাটার সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আন্তরিকতা, ভারতকে নিয়ে লালিত কোনও স্বপ্ন, কোনও স্মৃতি বা কাহিনি নিয়ে ফিরেছেন। তিনিই সত্যিই অতুলনীয় ছিলেন। তিনি কেমন মানুষ ছিলেন, তা নিয়ে অনেক কিছুই বলা যায়। আপাতত তাঁর অনুপস্থিতি মেনে নিতে হচ্ছে। চোখ দিয়ে সবকিছু দেখতেন যেমন, মন দিয়ে সব কিছু উপলব্ধি করতেন তিনি।”
আরও পড়ুন: নসীরুদ্দিন শাহকে বেনজির আক্রমণ কঙ্গনা রানাউতের, পাশে পেলেন বলিউডের আর এক অভিনেতাকে?
সাইরাস পর্বের পর যখন টাটা সন্সের দায়িত্ব হাতে পান চন্দ্রশেখরন, সেই সময় রতন টাটার সঙ্গে শুধুমাত্র ব্যবসাকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে উঠলেও, সময়ের সঙ্গে তা গভীর থেকে গভীরতর হয়ে ওঠে বলে জানান তিনি। চন্দ্রশেখরন যে সময় টাটা সন্সের দায়িত্ব হাতে পান, সেই সময় প্রযুক্তি থেকে অটোমোবাইল, বৈদ্যুতিন সামগ্রী থেকে এভিয়েশন, পরিষেবা–সব ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রসার ঘটছে টাটার। উৎপাদন এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়। এয়ার ইন্ডিয়াও ফিরে পায় তারা। TCS সবচেয়ে লাভজনক শাখা হয়ে ওঠে।
তবে বহু ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলেও, সেগুলি কতটা লাভজনক সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে এয়ার ইন্ডিয়ার পরিষেবা আতসকাচের নীচে চলে আসে। টাটা ট্রাস্টসের বর্তমান চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং শেয়ার হোল্ডারদের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় চন্দ্রশেখরনের। চন্দ্রশেখরনের কার্যকালের মেয়াদবৃদ্ধিতে নোয়েল টাটা আপত্তি জানান বলে শোনা যায়। টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভার বৈঠকে পরিস্থিতি আরও তেতে উঠতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে এগজিকিউটিভ কমপেনসেশন বাবদ ২০২৬ অর্থবর্ষে চন্দ্রশেখরনে ১৫৮.৬৬ কোটি টাকা প্রাপ্তি ঘিরে গুঞ্জন শুরু হয়।
মুম্বইয়ে চন্দ্রশেখরনের বিলাসবহুল ডুপ্লে নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ২০২২ সালে চন্দ্রশেখরন, তাঁর স্ত্রী ললিতা এবং ছেলে প্রণব ৯৮ কোটি টাকা দিয়ে সেটি কেনেন। ১১ এবং ১২ তলা নিয়ে তৈরি ওই ডুপ্লের কার্পেট এরিয়া ৬০০০ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুটের দাম পড়ে ১.৪ লক্ষ টাকা। জানা যায়, আগে থেকেই ইজারায় নেওয়া ওই ডুপ্লেতে বসবাস করছিল চন্দ্রশেখরনের পরিবার। পরবর্তীতে সেটি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। তার আগে পর্যন্ত মাসে ২০ লক্ষ টাকা করে ভাড়া মেটাতেন। তবে কোনও দিনই সেভাবে জনসমক্ষে আসেননি চন্দ্রশেখরন। ব্যক্তিগত জীবনও আড়াল করে রেখেছিলেন।
যতদূর জানা যায়, চন্দ্রশেখরনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। খেলাধুলোর শখ রয়েছে তাঁর। ম্যারাথনে অংশও নিয়েছেন।
সেরা শিরোনাম






















