ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
India US Relations: ভারতের বিদেশনীতির জয়, আমেরিকা বাধ্য হল এই ঘোষণা করতে, 'রাশিয়া থেকে তেল কিনুক ভারত'
India Russian Oil : ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তথা ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের (US Israel Iran War) আবহে এই ঘোষণা করেছে খোদ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।

India Russian Oil : আমেরিকার (India US Relations) এক ঘোষণায় বিরোধীদের মুখে কুলুপ এঁটে গেল। এবার রাশিয়ার থেকে ভারতকে তেল কেনার কথা বলল খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তথা ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের (US Israel Iran War) আবহে এই ঘোষণা করেছে খোদ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
কী ঘোষণা করেছে আমেরিকা
সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় (Waiver) দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। ইরান যাতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলতে না পারে সেই কারণে এই ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বাজারের বর্তমান চিত্র
গত এক সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু মার্কিন ঘোষণার পর চিত্র বদলেছে:
Brent Crude: ১.৫২% কমে প্রতি ব্যারেল $৮৪.২১ ডলারে নেমেছে।
WTI Crude: ২.১০% কমে প্রতি ব্যারেল $৭৯.৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ?
১. সমুদ্রে আটকে পড়া তেল: এই ছাড় শুধুমাত্র সেই সব রুশ তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে জাহাজে লোড করা হয়েছে এবং বর্তমানে সমুদ্রে আটকা পড়ে আছে।
২. হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৬০টি তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল করত, গত ১ মার্চ সেখানে মাত্র ৫টি ট্যাঙ্কার চলাচল করেছে।
৩. ভারতের জন্য সুবিধা: ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৯০% তেল আমদানি করে। রাশিয়ার তেল সস্তা হওয়ায় ভারতের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ও ভারতের অবস্থান
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর থেকে ২৫% অতিরিক্ত ট্যারিফ তুলে নিলেও একটি শর্ত দিয়েছিলেন। আমেরিকার তরফে বলা হয়েছিল, মার্কিন প্যানেল ভারতের রাশিয়ার থেকে তেল কেনার দিকে নজর রাখাছে। তারা দেখছে, ভারত আবার রাশিয়ার থেকে বড় আকারে তেল কেনা শুরু করে কি না। তবে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি স্পষ্ট জানিয়েছেন, "জাতীয় স্বার্থ" মাথায় রেখেই ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করত, যা গত ফেব্রুয়ারি মাসে কমে ১.০৪ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছিল। এই নতুন ছাড়ের ফলে আমদানির পরিমাণ আবার বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Frequently Asked Questions
আমেরিকা কেন রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে ছাড় দিয়েছে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় কাদের জন্য প্রযোজ্য?
এই ছাড় শুধুমাত্র সেই রুশ তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে জাহাজে লোড করা হয়েছে এবং বর্তমানে সমুদ্রে আটকা পড়ে আছে।
তেলের দামের উপর এই ঘোষণার কী প্রভাব পড়েছে?
মার্কিন ঘোষণার পর তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১.৫২% এবং WTI ক্রুড প্রায় ২.১০% কমেছে।
এই ছাড়ের ফলে ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৯০% তেল আমদানি করে। রাশিয়ার তেল সস্তা হওয়ায় ভারতের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।























