(Source: ECI/ABP News)
Gold Rate Today : ভোটের আবহে সোনার দামে বড় বদল? কী বলছে সোমবারের রেটচার্ট?
২৫ এপ্রিল ২০২৬ এবং ২৭ এপ্রিল ২০২৬—এই দুই দিনের দামেকিছু ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা থাকলেও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

কলকাতায় সপ্তাহ শুরুতে সোনার দামে বড় পরিবর্তন হয়নি। শনি ও সোমবার সোনার দামে সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গিয়েছে । স্বর্ণশিল্পীদের সংগঠন SSBC-র প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ এবং ২৭ এপ্রিল ২০২৬—এই দুই দিনের দামেকিছু ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা থাকলেও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
২৫ এপ্রিল বনাম ২৭ এপ্রিল: দামের তুলনা
২৫ এপ্রিল এবং ২৭ এপ্রিল ২০২৬ এ প্রকাশিত রেটচার্টে দেখা যাচ্ছে, ফাইন গোল্ড (৯৯৫) প্রতি গ্রামে ₹১৫,১৪২-ই স্থির রয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ে খাঁটি সোনার দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
২২ ক্যারেট (৯১৬) সোনার ক্ষেত্রেও একই ছবি। বিক্রয়মূল্য ₹১৪,৩৮৫ এবং ক্রয়মূল্য ₹১৩,৭৭৯—দুটিই অপরিবর্তিত রয়েছে এই দুই দিনে।
১৮ ক্যারেট (৭৫০) সোনার দামও স্থির রয়েছে ₹১১,৮১০ প্রতি গ্রামে। ফলে বোঝা যাচ্ছে, সোনার বাজারে আপাতত কোনও বড় ওঠানামা হয়নি এবং বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
রুপোর দামে ঊর্ধ্বগতি
তবে সোনার বাজার স্থির থাকলেও রুপোর ক্ষেত্রে পরিবর্তন স্পষ্ট। ২৫ এপ্রিল যেখানে ১ কেজি রুপোর দাম ছিল ₹২,৪৬,৯৯০, সেখানে ২৭ এপ্রিল তা বেড়ে হয়েছে ₹২,৪৮,০৯৬। অর্থাৎ মাত্র দু’দিনে রুপোর দামে ₹১,১০৬ বৃদ্ধি হয়েছে।
GST বাদে দাম
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সমস্ত দামই ৩% জিএসটি (GST) ছাড়া নির্ধারিত। ফলে গয়না কেনার সময় গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত কর মাথায় রাখতে হবে।
সোনার গয়না কেনার সময় প্রথমেই হলমার্ক বা বিশুদ্ধতার নথি যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। BIS হলমার্ক থাকলে তবেই সেই গয়নার মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। সাধারণত ২২ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে “৯১৬” চিহ্ন থাকে, যা সোনার বিশুদ্ধতার প্রমাণ। তাই গয়না কেনার আগে এই বিষয়টি ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
এর পাশাপাশি, সোনার দৈনিক বাজারদর সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। প্রতি গ্রামে সোনার দাম প্রতিদিন ওঠানামা করে, তাই কেনার আগে সেই দিনের রেট জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে দোকানভেদে দামের পার্থক্য বুঝতে সুবিধা হয় এবং অতিরিক্ত দাম দেওয়ার ঝুঁকি কমে।
গয়নার ওজন এবং ক্যারেট নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন। ২৪ ক্যারেট সোনা সবচেয়ে খাঁটি হলেও তা নরম হওয়ায় গয়না তৈরির জন্য সাধারণত ২২ ক্যারেট সোনা ব্যবহার করা হয়। কেনার সময় বিলের সঙ্গে গয়নার ওজন এবং ক্যারেট মিলিয়ে দেখা উচিত, যাতে কোনও ভুল বা প্রতারণা না হয়।
মেকিং চার্জ বা গয়না তৈরির খরচ সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। অনেক সময় ডিজাইনের উপর নির্ভর করে মেকিং চার্জ বেশি হতে পারে, যা মোট দামের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এটি শতাংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে নাকি নির্দিষ্ট পরিমাণ—সেটা আগে থেকেই জেনে নেওয়া উচিত।
গয়না কেনার সময় অবশ্যই বৈধ বিল নেওয়া উচিত। সেই বিলে সোনার ওজন, ক্যারেট, দাম, মেকিং চার্জ এবং GST-এর বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে। ভবিষ্যতে গয়না বিক্রি বা বদল করার ক্ষেত্রে এই বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া, যে দোকান থেকে গয়না কেনা হচ্ছে, তাদের buyback বা exchange নীতি সম্পর্কেও আগেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন। পুরনো সোনা বদলে নতুন গয়না নেওয়ার ক্ষেত্রে কত শতাংশ কাটা হবে বা কী নিয়ম প্রযোজ্য, তা স্পষ্ট জানা থাকলে পরবর্তীতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।
সবশেষে, যদি গয়নাতে পাথর বা ডায়মন্ড থাকে, তবে তার মূল্য আলাদা করে নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। অনেক সময় পাথরের দাম সোনার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়, যা ক্রেতার জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তাই সম্পূর্ণ ব্রেকআপ জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
সেরা শিরোনাম























