Honeymoon Crime: বিয়ের তিন মাসের মধ্যে স্বামীকে খুন, প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র, রাজস্থানে নয়া ‘হানিমুন মার্ডার’
Rajasthan Honeymoon Crime: বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে।

নয়াদিল্লি: মধুচন্দ্রিমার রেশ কাটার আগে ভয়ঙ্কর অপরাধ ঘটানোর অভিযোগ। আবারও কাঠগড়ায় এক নববিবাহিত বধূ। সোনম রঘুবংশীর স্মৃতি উস্কে দিল রাজস্থানের তরুণী অঞ্জলী। প্রেমিকের জন্য বিয়ের তিন মাসের মাথায় স্বামীকে খুনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এই ঘটনাকে আরও একটি 'হানিমুনে খুন' বলে উল্লেখ করছেন কেই কেউ। (Rajasthan Honeymoon Crime)
রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরের ঘটনা। রাবলা থানা এলাকার বাসিন্তা, ২৩ বছর বয়সি অঞ্জলী তার স্বামী, অশিস কুমারকে খুন করেছে বলে অভিযোগ। স্বামীকে খুন করে অঞ্জলী নিরাপরাধ সাজছিল বলে অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপরাধের পর্দাফাঁস করা গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। (Honeymoon Crime)
পুলিশের দাবি, গত ৩০ জানুয়ারি আশিসকে অঞ্জলী খুন করে। রাতের খাবার খাওয়ার পর হাঁটতে বেরোতেন আশিস। সেই মতো ওই দিন নানা বাহানায় আশিসের সঙ্গে হাঁটতে বেরোয় অঞ্জলী। এর পর নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে, প্রেমিকের সঙ্গে মিলে সে স্বামীকে খুন করে। প্রথমে গলা টিপে খুন করা হয় আশিসকে। এর পর গোটা ঘটনাকে লুঠপাট এবং 'হিট অ্যান্ড রান' বলে চালানোর চেষ্টা হয়।
নিজে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকার ভান করে অঞ্জলী। রাস্তায় এক দম্পতি পড়ে রয়েছে বলে খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে আশিসকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। জ্ঞান ফিরলে পুলিশকে অঞ্জলী জানায়, একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারে। তার গয়না খুলে নেয় দুষ্কৃতীরা আশিসের কাছ থেকেও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
অঞ্জলীর বয়ান অনুযায়ী ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেন্সিক টিমও। কিন্তু সেখানে কিছুতেই হিসেব মিলছিল না। এর পর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলে দেখা যায়, আশিসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলা টিপে ধরার প্রমাণও মেলে। অথচ অঞ্জুর শরীরে তেমন কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এতেই পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। অঞ্জুর ফোনের কল লিস্ট খতিয়ে দেখতেই এর পর খুনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যায় তারা।
এর পর চেপে ধরতেই অপরাধ কবুল করে অঞ্জলী। পুলিশ জানিয়েছে, সাত বছর আগে, একটি বিয়ে বাড়িতে বেয়ারা হিসেবে কর্মরত সঞ্জয় নামের এক যুবকের সঙ্গে আলাপ অঞ্জলীর। সেই সময় কথা হয় দু'জনের মধ্যে। সঞ্জয়ের ফোন নম্বরও হাতে পায় অঞ্জলী। কিন্তু সেই সময় অঞ্জলীর কাছে ফোন ছিল না। ফলে যোগাযোগ থাকেনি। ২০২৪ সালে শেষ পর্যন্ত ফোন কেনে অঞ্জলী। নতুন ফোন হাতে পেয়েই সঞ্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। তাদের মধ্যে কথাবার্তা বাড়ে। ক্রমশ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
কিন্তু অঞ্জলীর পরিবার এই সম্পর্কে রাজি ছিল না। রাবলার আশিসের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেলে তারা। অঞ্জলীর আপত্তি ধোপে টেকেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আশিসের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তার। অঞ্জলী নিজে বি.কম পাশ। স্বামী আশিসও শিক্ষিত, মিতভাষী। কিন্তু এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি অঞ্জলী। ফোনে সঞ্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে সে।
আশিসকে খুন করার ১৬ দিন আগে বাপের বাড়িও ঘুরে যায় অঞ্জলী। সেই সময়ই সঞ্জয়ের সঙ্গে মিলে সে আশিসকে খুনের পরিকল্পনা করে বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের পর সঞ্জয়ের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা হয়নি অঞ্জলীর। তবে হোয়াটসঅ্যাপ কলে নিয়মিত কথা হতো তাদের। খুনের দিনও পাঁচ-সাতবার কথা হয় তাদের মধ্যে।
৩০ জানুয়ারি একরকম জোর করেই আশিসের সঙ্গে হাঁটতে বেরোয় সে। ফোনে সেই মতো লোকেশন পাঠিয়ে দেয় সঞ্জয়কে। নিজের দুই সহযোগী রোহিত ওরফে রকি এবং বাদল ওরফে সিদ্ধার্থকে নিয়ে আগে থেকে রাস্তার পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিল সঞ্জয়। অঞ্জলী এবং আশিস সেখানে পৌঁছলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। অঞ্জলীই তাদের ইশারা করেছিল বলে জানা গিয়েছে। লাঠি নিয়ে প্রথমে আশিসকে বেধড়ক মারধর করে তারা। তার পরও শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে দেখে মাফলার দিয়ে গলা চেপে ধরে হত্যা করে।
লুঠ এবং হামলার ঘটনা সাজাতে এর পর নিজের কানের দুল, আশিসের মোবাইল সঞ্জয়দের হাতে তুলে দেয় অঞ্জলী। এর পর অজ্ঞান হওয়ার ভান করে রাস্তায় শুয়ে পড়ে নিজে। পথচলতি মানুষ ওই অবস্থায় দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

























