Tapas Roy : তৃণমূল উঠে যাবে ? 'মমতাকে মানছে না, ওই ডেঁপো ছেলেটাকে...', কাকে আক্রমণ তাপস রায়ের ?
TMC News : বিধানসভার পর সংসদেও ভাঙল তৃণমূল। যমুনা পাড়ে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখলেন তাঁর সাংসদরা তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন। তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে বড় মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়।

কলকাতা : বিধানসভার পর সংসদেও ভাঙল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে বসে, তখনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেনদু অধিকারীর উপস্থিতিতে বৈঠক করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। NDA-এর সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়ে ইতিমধ্য়েই লোকসভার অধ্যক্ষকে চিঠিও দিয়েছে লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের 'ব্লক'। কিন্তু প্রশ্ন কেন এই হাল তৃণমূলের? বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের দুর্দশা নিয়ে সরাসরি আইপেক ও ভাইপো অভিষেকের দিকে অঙ্গুল তুলেছে অনেকেই। এবার এক বড় মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়।
একা কালীঘাটে বসে বিধায়ক-কাউন্সিলদের ভাঙন দেখেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়! এবার যমুনা পাড়ে বসে দেখলেন তাঁর সাংসদরা তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া সবাই ছেড়ে দিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে। সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে 'INDI' জোটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আর সেখান থেকে মেরেকেটে ১ কিলোমিটার দূরে, ৯ মতিলাল নেহরু মার্গে নরেন্দ্র মোদি সরকারের পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি। সেখানেই বৈঠক করলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। তাঁরা স্পষ্ট জানালেন, তাঁদের রাশ এখন আর মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হাতে নেই। তাঁরা এবার থেকে বিজেপি জোটকে সমর্থন করবেন! বসতেও চান লোকসভায় অন্য় জায়গায়!
লোকসভায় তৃণমূলের মোট সাংসদ ২৮ জন। তারমধ্য়ে ২০ জন আলাদা 'ব্লক' হতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিলেন। এই ২০ জনের মধ্য়ে রয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, অরূপ চক্রবর্তী, জুন মালিয়া, দেব, কালীপদ সোরেন, জগদীশ বাসুনিয়া, অসিত মাল, আবু তাহের, খলিলুর রহমান, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও পার্থ ভৌমিক। আর এই বিষয় নিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় জানান, ''তাঁরা যদি মনে করে থাকেন তাঁরা NDA ব্লককে সমর্থন করছেন, রাজনীতিতে... আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক দেশ। এটা মৌলিক অধিকার।''
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের এই দুর্দশা ও ভাঙন নিয়ে বড় মন্তব্য করেন তাপস রায়। তিনি জানান, তৃণমূলে নির্বাচনের পর ভাঙন অব্যাহত। নিয়ে এটাই তৃণমূলের ভবিতব্য, এটাই হওয়ার ছিল। সেটাই হচ্ছে। তার কারণ, মমতাকে মানুষ মেনে নিচ্ছে না, মানুষ পরিত্যাগ করেছে। MLA, MP-রা মমতাকেই মেনে নিতে পারছে না। সেখানে অভিষেককে কী করে মেনে নেবে। ওই ডেঁপো ছেলেটাকে কী করে মেনে নেবে? সে নাকি লিডার পার্লামেন্টের। সুতরাং যার সেল্ফ রেস্পেক্ট ও ডিগনিটি রয়েছে তার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তারপর আবার মমতা নাকি মিটিং-এ বলছেন অভিষেক এলে উঠে দাঁড়াও, উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাও। যদি কারোর আত্মমর্যাদা থেকে থাকে তবে সে তৃণমূল করবে না।''
বন্দিদশায় যমুনা নদীর ওপারে স্ত্রী মমতাজের স্মৃতিস্তম্ভ ‘তাজমহল’ দেখে জীবনের বাকি দিনগুলো কাটিয়েছিলেন শাহজাহান। আর এখন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় চোখের সামনে দেখছেন কীভাবে ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে তাঁর তৈরি তৃণমূল! অনেকের মনে প্রশ্ন এভাবে দুই ভাগে টুকরো হয়ে যাওয়া তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে। দিলটা কী আদৌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে?






















