Anubrata Mondal: আগাম জামিনে গেলেনই না, কুকথা-কাণ্ডে SDPO অফিসে অনুব্রত, দু'ঘণ্টা পর বেরোলেন হাসিমুখেই
Bolpur News: বার বার তলব এড়িয়ে যাওয়ায় অনুব্রত সরাসরি জামিনের আবেদন করবেন কিনা, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।

বোলপুর: ফোনে IC-কে হুমকি দিতে শোনা গিয়েছিল। সেই নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে তোলপাড় হলেও, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের সামনে হাজিরা দেননি। অবশেষে বৃহস্পতিবার, সাত দিন পর বোলপুর SDPO অফিসে হাজিরা দিলেন বীরভূমে তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। দু'-দু'বার তলব এড়ানোর পর এদিন পিছনের ফটক দিয়ে SDPO দফতরে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের স্নেহধন্য 'কেষ্ট'। সেখানে প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। এর পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান অনুব্রত। (Anubrata Mondal)
বার বার তলব এড়িয়ে যাওয়ায় অনুব্রত সরাসরি জামিনের আবেদন করবেন কিনা, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই আবহেই এদিন দুপুর ৩টে বেজে ২৫ মিনিট নাগাদ হঠাৎই বোলপুরে SDPO অফিসে হাজির হন অনুব্রত। সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে SDPO অফিসের পিছনে পুলিশ লাইনের ফটক দিয়ে ভিতরে ঢোকেন তিনি। সাধারণত নিজের সাদা-কালো ইনোভা গাড়িটির পরিবর্তে এদিন টোল ব্যবসায়ী নাসিরের স্ত্রী সালমা বিবির নামে নথিভুক্ত বলে জানা গিয়েছে। বাড়ি থেকে বেরনোর সময় যাতে কেউ বুঝতে না পারে, তার জন্যই অন্যের গাড়ি নেন বলে মনে করা হচ্ছে। (Bolpur News)
শুধু তাই নয়, বাড়ি থেকে SDPO অফিস যাওয়া নিয়েও যথেষ্ট সাবধানী ছিলেন অনুব্রত। বাড়ি থেকে বেরিয়ে গলি রাস্তা দিয়ে গাড়িতে ওঠেন তিনি। সঙ্গে কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন না। ছিলেন শুধু ব্যক্তিগত সচিব বিশ্বরূপ। গাড়ির পিছনের আসনে ছিলেন অনুরূপ, সামনে বিশঅবরূপ এবং গাড়ি চালাচ্ছিলেন সুকুমার। পিছনে আরও একটি গাড়ি ছিল। সকলের নজর এড়িয়ে অনুব্রত যাতে SDPO অফিসে পৌঁছতে পারেন, তার জন্য বিশেষ তৎপর ছিল পুলিশও।
এদিন পিছনের ফটক দিয়ে যখন SDPO অফিসে ঢোকেন অনুব্রত, সেখানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল এসপি রানা মুখোপাধ্যায়, SDPO রিকি আগরওয়াল। প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় অনুব্রতকে। সূত্রের খবর, হঠাৎ IC-কে কেন ফোন করেন অনুব্রত, ফোনে ওই ধরনের ভাষা কেন প্রয়োগ করেন, তা জানতে চাওয়া হয়। IC কী কী বলেছিলেন, এর বাইরে কিছু কথা হয় কিনা, তাও জানতে চান তদন্তকারীরা।
বোলপুরের IC-র সঙ্গে কথোপকথনে সুদীপ্ত বলে একজনকে মিটিং ডাকতে বলেন অনুব্রত। থানা ঘেরাও করতে বলেন। সুদীপ্ত সেই সময় অনুব্রতর সঙ্গে ছিলেন কিনা, এদিন তাও জানতে চাওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। সূত্রের খবর, মন্ত্রী কথা বলেছেন বলে যে দাবি করা হয়, সেই চন্দ্রনাথ সিনহার ব্যাপারেও জানতে চাওয়া হয়। চন্দ্রনাথের ফোনের কথোপকথনও রেকর্ড করা হয় বলে জানা যাচ্ছে। সেই সময় অনুব্রতর পাশে আর কে ছিলেন, তা-ও জানতে চান তদন্তকারীরা।
অনুব্রত আইফোনের ফেসটাইম অ্যাপ ব্যবহার করেই বোলপুরের IC-কে ফোন করেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগে, জেলা পুলিশের সুপার আমনদীপ জানিয়েছিলেন, অনুব্রতর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোট চারটি ধারায় অনুব্রতর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে দু'টি জামিনযোগ্য নয়। তাই অনুব্রত জামিনের আবেদন জানাতে পারেন বলে জল্পনা শোনা যায়। কিন্তু সেই রাস্তায় না গেলে তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন অনুব্রত।
SDPO অফিস থেকে বেরনোর পরও অনুব্রত কোনও কথা বলেননি। তিনি কি সত্যিই IC-কে ফোন করেছিলেন, ফোনের ওই গলা কী তাঁর, জানতে চাইলেও নিরুত্তর ছিলেন আগাগোড়া। তবে সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি যাননি অনুব্রত। বরং সটান তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হাজির হন। সেখানে হাসিমুখেই দেখা যায় তাঁকে।






















