Asish Banerjee: আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর উভয়ের দিকে দোষারোপ করছে তৃণমূলের দুই শিবির
Asish Banerjee Updates: ২রা জুন, বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান এবং জেলা কোর কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর ২২ শে জুন নিউটাউনের একটি হোটেলে বৈঠক করে ঋতব্রত শিবির।

রামপুরহাট: দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাওয়া তৃণমূলেও পদ পেয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তাঁকে বীরভূমের চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছিল 'কালীঘাট-তৃণমূল'। এর এক মাসের মধ্যে সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার ২০ দিনের মাথায়, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গা হয়েছিল 'আসল' তৃণমূল বলে দাবি করা 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর জাতীয় কর্মসমিতিতে। গতকাল তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর, উভয়ের দিকে দোষারোপ করছে তৃণমূলের দুই শিবির।
রবিবার বাড়ির কাছে পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে বর্ষীয়ান নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ। ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর, দু'ভাগে ভেঙে যায় দল। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদে বসায় 'কালীঘাট-তৃণমূল'। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে দিয়ে ঋতব্রত-শিবিরে যোগ দেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
২রা জুন, বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান এবং জেলা কোর কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর ২২ শে জুন নিউটাউনের একটি হোটেলে বৈঠক করে ঋতব্রত শিবির। সেখানে নিজেদেরকে আসল তৃণমূল বলে দাবি করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় কর্মসমিতিতে রাখা হয় ২৯ জনকে। যে কমিটিতে নাম ছিল আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এরপর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে একাধিকবার দেখা গেছে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এখন তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্য়ুর পর তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্য়ে শুরু হয়েছে তরজা!
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এতদিন ছাত্র অবস্থা থেকে রাজনীতি করেন, তিনি বলছেন রাজনীতিতে আসা ভুল হয়েছিল। গত ১৫ বছরে বাংলাজুড়ে যে সংগঠিত ও বৈধ লুঠ হয়েছে, তার কুশীলব তো হাতে গোনা লোক যারা কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্ত নন, যারা এই অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তারাও বাদ পড়ছেন না। আমরা যারা তৃণমূল কংগ্রেস করি, তারা কেউ দায় এড়াতে পারছি না এবং মানসিক চাপ প্রত্যেকের উপর সাংঘাতিক ভাবে পড়ছে।'
কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, 'আমাদের কাছে একাধিক সূত্রে খবর আছে, উনি কিন্তু চাপের মুখে ওদিকে গিয়েছিলেন। বীরভূমে যারা যারা নিজেদের পাপ বাঁচাতে ওদিকে গেছেন, তারা আশিসবাবুর মতো একটি লোককে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। উনি দিদির সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন। এগুলো আসছে। এগুলো পুলিশ খোঁজ নিক, সত্যি না মিথ্যে।'
এই প্রেক্ষাপটে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'যে কমিটিটা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় করেছিলেন নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরে সেখান থেকে উনি (আশিস বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) পদত্যাগ করেন ও তিনি (আশিস বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) দূরত্বও বজায় রাখার কথাও জানিয়েছিলেন যে আমি এই মমতাপন্থী তৃণমূল থেকে আমি দূরত্ব বজায় রাখছি। স্বাভাবিকভাবেই কেউ ব্ল্যাকমেলিং করে থাকতে পারেন।'






















