Yuva Sathi Scheme 2026 : নার্সিং পাস ! বসে আছি, পরীক্ষা দিয়েই যাচ্ছি ! ভাতার লাইনে দাঁড়িয়েও বললেন 'চাকরি চাই'
সরকারি চাকরি দূরের স্বপ্ন যেন। অবশেষে প্রতিকার রাজ্য সরকারের যুব সাথী প্রকল্প ! মাসে দেড় হাজার টাকার জন্য এখন অপেক্ষা।

কলকাতা : কারও একমাত্র ছেলে চাকরির খোঁজে চলে গিয়েছেন ভিনরাজ্যে। কেউ আবার গ্যাঁটের কড়ি খসিয়ে ফর্ম ফিল আপ করে একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসছেন, কিন্তু ভাঁড়ে মা ভবানী। বেকারদের জন্য রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প 'বাংলার যুব সাথী'-ই এখন ভরসা তাঁদের। তবে ভাতার লাইনে দাঁড়িয়েও তাঁদের গলায় প্রশ্ন...চাকরি হবে না? চাকরিই চাই। কোচবিহারে আবার দেখা গেল, ডাক্তারি পড়ুয়ার মা দাঁড়িয়েছেন বেকার ভাতার লাইনে। ছেলে শুভ্রনীল দে ভর্তি হয়েছেন হলদিয়া বিসি রায় মেডিক্যাল কলেজে। ছেলের হয়ে মা ক্যাম্পে এসে সংগ্রহ করলেন যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম।
মহিষাদলের বাসিন্দা কেয়া জানা, 'যুব সাথী'র আবেদনকারী । স্বপ্ন ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানো। তাই প্রথাগত পড়াশোনা না করে, ভাল চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে নার্সিং পড়া। বিএসসি নার্সিং পাস করেছেন ২০২১ সালে। তারপর থেকেই চলছে লড়াই। দেখতে দেখতে প্রায় ৫ টা বছর হতে চলল। কিন্তু চাকরি জোটেনি। সরকারি চাকরি দূরের স্বপ্ন যেন। অবশেষে প্রতিকার রাজ্য সরকারের যুব সাথী প্রকল্প ! মাসে দেড় হাজার টাকার জন্য এখন অপেক্ষা।
কেউ আবার দৈনন্দিন খরচের হিসেব দিয়ে বলে দিচ্ছেন মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা যথেষ্টই কম। কিন্তু হাতে যখন চাকরি নেই, তখন ওই মাসে দেড় হাজার টাকা এখন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা !
আবার হলদিয়ার বাসিন্দা সন্তোষ লাইয়া। বাড়ির কাছেই হলদিয়া শিল্পাঞ্চল, অথচ কাজের খোঁজে তাঁকেই বছরভর ঘুরতে হয় বিভিন্ন রাজ্যে। হাহাকার ! বাড়ির এত কাছে শিল্প অথচ বেকার বসে থাকা। শিল্পাঞ্চল আছে, কিন্তু কাজ পাচ্ছি না। কিন্তু টাকা তো দরকার। পরিষ্কার বলছেন, 'সন্তুষ্ট তো নই ভাতায়। কিন্তু কী করব, সরকার দিচ্ছে মানে তো নিতেই হবে।'
৫ ফেব্রুয়ারি, রাজ্য সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। 'বাংলার যুব সাথী' নামে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ন্যূনতম মাধ্যমিক উত্তীর্ণরা। প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে এই 'বেকার ভাতা' পাওয়া যাবে ৫ বছরের জন্য। রবিবার থেকে শুরু হল আবেদন জমা দেওয়ার ক্যাম্প। কিন্তু এই ভাতা নিতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন কারা? কেউ ভবিষ্যতের ডাক্তার, কেউ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে লেখাপড়া করছেন, কেউ মাস্টার ডিগ্রিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, কেউ ডাক্তারি পড়ুয়া ! কিন্তু কবে এই ভাতা-নির্ভরতা ছেড়ে চাকরি হবে, তাকিয়ে সকলে।
























