Baruipur News: 'মার্ডারের পরের দিন এরা ইলিশ উৎসব করেছে..' ! বারুইপুরে BJP নেতাকে 'খুনে' হাইকোর্টে যাচ্ছে দল
Baruipur Murder Case : বারুইপুরে বিজেপির বুথ সভাপতিকে খুনের ঘটনায় এবার হাইকোর্টে যাচ্ছে বিজেপি। তোলা হবে সিবিআই তদন্তের দাবিও।

পার্থপ্রতিম ঘোষ, সুদীপ্ত আচার্য ও রাজীব চৌধুরী, কলকাতা: বারুইপুরে বিজেপির বুথ সভাপতিকে খুনের ঘটনায় এবার হাইকোর্টে যাচ্ছে বিজেপি। তোলা হবে সিবিআই তদন্তের দাবিও। বিজেপির অভিযোগ নিহতকে বেধড়ক মারধরের দিন তাদের বাড়িতে যান তৃণমূল কাউন্সিলরের এক ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলরের দাবি গোটাটাই পারিবারিক ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক হত্যা বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা মিথ্যে।
আরও পড়ুন, পুশব্যাকের পর 'অনুপ্রবেশকারী' বলে সন্দেহ, বাংলাদেশের পুলিশের হাতে গ্রেফতার বীরভূমের ৬ বাসিন্দা !
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, মঙ্গলবার দিন পরিবার উচ্চ আদালতে যাচ্ছে। আমি সব ব্যবস্থা নিচ্ছি। নির্মমভাবে বাঁশপেটা। দেখলে, গা শিউরে উঠতে বাধ্য। বারুইপুরে বিজেপির বুথ সভাপতি খুনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে বিজেপি। CBI তদন্তের দাবিও তুলতে চলেছে তারা। প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের ভূমিকা নিয়েও! ৮ অগাস্ট মধ্যরাতে, বারুইপুরে ১২৯ নম্বর বুথের বিজেপির সভাপতিকে বেধড়ক বাঁশপেটা করা হয়।
বিজেপির অভিযোগ, সেদিন সকাল ও সন্ধেয় নিহত রাজীব বিশ্বাসের বাড়িতে যেতে দেখা গেছে তৃণমূল কাউন্সিলরের এক ঘনিষ্ঠকে!বারুইপুর ১ বিজেপির মণ্ডল সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী বলেন, কাউন্সিলরের অফিসটা যে তিনজন ব্যক্তি চালায়, তাদের মধ্যে অশোক হালদার, স্বপন সর্দার এবং উৎপল নন্দী। এরা তিনজন রীতিমতো এই ৪-৫ মাস ধরে নিতাই বাবুর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এদের মধ্যে স্বপন সর্দার যিনি আছেন, তিনি যেদিন রাজীব বিশ্বাস আমাদের বুথ সভাপতি খুন হয়, সেদিন সকালবেলাও তাঁকে দেখা গেছে নিতাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে গেছে এবং বিকেল বেলাও। একটু তদন্ত করলে বোঝা যাবে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কী ভূমিকা আছে।
৮ অগাস্ট এইভাবে মারধর করার ১৮-২০ ঘণ্টা পর রাজীব বিশ্বাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বারুইপুর হাসপাতালে। সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিজেপির আরও অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে যান নিহত বিজেপির বুথ সভাপতির দাদা ও খুনে অভিযুক্ত সন্দীপ বিশ্বাস।বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা বলেন, যেদিন মার্ডার হয়েছে তারপরের দিন এরা ইলিশ উৎসব করেছে, বসে বসে খেয়েছে। কাউন্সিলর তো সব জানতেন। মার্ডার করে ওর কাছে গেছে। বলেছে ডেডবডিটা কী করে সেটিং করব বলুন। উনি অ্যাম্বুল্যান্সে করে ডেডবডি পাঠিয়েছেন হাসপাতালে।
বারুইপুর পুরসভা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর অর্চনা মল্লিক বলেন, 'ঘটনার পর ৯ তারিখে আমার কাছে এসেছিল ওরা। নিতাই বিশ্বাসের ছোট ছেলে এবং ওর বন্ধু কেউ হবে হয়তো। বলল, দাদার একটুখানি ইয়ে হয়েছে কাকিমা, তুমি একটু দেখবে? আমি বললাম যে কী হয়েছে, তখন বলছে কে মেরেছে, তারপরে নড়াচড়া করছে না। আমি বললাম যে শোন, আমি তো ডাক্তার নই, তোরাও ডাক্তার নয়। তাহলে এক কাজ কর। হাসপাতালে নিয়ে যা। এই ঘটনা সম্পূর্ণ পারিবারিক। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটা নিয়ে রাজনীতি করে বেড়াচ্ছে বিজেপি এটা ঠিক নয়। '
একই দাবি করেছে পুলিশও। বারুইপুর SDPO অভিষেক রঞ্জন বলেন, 'কিছু ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে যেখানে এটিকে রাজনৈতিক হত্যা বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সেটা মিথ্যে কথা।' মৃতের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় আছে? প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিজেপির স্থানীয় নেতা ছিল।' বাবা বা ভাইরা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিল? তিনি আরও বলেন, না না। সক্রিয় অংশগ্রহণ কারও নেই। উল্টোদিকে বিজেপির দাবি, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে এই বুথেই তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল বিজেপি।
গত মার্চ মাসে, শুভেনদু অধিকারীর বারুইপুর কর্মসূচির আগে রাত জেগে এলাকায় বিজেপির পতাকা, ফেস্টুন লাগিয়েছিলেন নিহত রাজীব বিশ্বাস। অভিযোগ, এরপরই তৃণমূলের টার্গেটে চলে আসেন বিজেপির এই বুথ সভাপতি!এই ঘটনায় এখনও দুই অভিযুক্ত পলাতক।






















