Belur Math: ক্রিসমাস ইভে হুগলীতে স্বামী বিবেকানন্দের সেই ঘটনাকে মনে করে আজও বিশেষ আয়োজন হয় বেলুড় মঠে!
Ramakrishna Math Puja at Christmas Eve:শ্রীরামকৃষ্ণের প্রয়াণের পরে একবার নিজের সঙ্গীদের নিয়ে হুগলী জেলার আঁটপুরে এক গুরু ভ্রাতার বাড়ি গিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। সেখানে তিনি বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিলেন

ভাস্কর ঘোষ, হাওড়া: প্রত্যেক বছরের মতো, এই বছরেও বেলুড় মঠে আয়োজন করা হয়েছিল যীশুখ্রীস্টের আরাধনার। বেলুড় মাঠে যেমন মহা সমারোহে পালন করা হয় দুর্গাপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোর মতো পুজো, তেমনই প্রত্যেক বছরই এখানে ক্রিসমাস ইভে, অর্থাৎ ২৪ ডিসেম্বর আয়োজন করা হয় যীশুখ্রীস্টের বিশেষ আরাধনার। এই বছরও তার অন্যথা হল না। ক্রিসমাস ইভে নিয়ম মেনে আয়োজন করা হল যীশু পুজোর। দর্শনার্থীদের এই পুজো ঘিরে আলাদা আকর্ষণ থাকে। মূল মন্দির চত্বর বিশেষভাবে সাজানো না হলেও, সাজিয়ে তোলা হয় মন্দিরের বাইরের অস্থায়ী অংশ। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই উদযাপনের পিছনে রয়েছে একটি গল্প, যার শিকড় হুগলী জেলায়।
শোনা যায়, শ্রীরামকৃষ্ণের প্রয়াণের পরে একবার নিজের সঙ্গীদের নিয়ে হুগলী জেলার আঁটপুরে এক গুরু ভ্রাতার বাড়ি গিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। সেখানে তিনি বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিলেন। সেখানে থাকাকালীন প্রত্যেকদিন অগ্নিকুণ্ডের চারিদিকে বসে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হত। এভাবেই একদিন, সেই অগ্নিকুণ্ডের ধারে বসেই স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর সঙ্গীদের বলেছিলেন যীশুখ্রীস্টের আত্মত্যাগের ইতিহাস। বুঝিয়েছিলেন তাঁৎ গুরুত্ব আর তাঁর অপার মহানুভবতা আর সাহসে গাথা। ঘটনাচক্রে সেই দিনটি ২৪ ডিসেম্বর। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলেও স্বামীজীকে ছুঁয়ে গিয়েছিল যীশুখ্রীস্টের আত্মত্যাগ, সাহসিকতা আর মহানুভবতা। সেই ঘটনার কথা মনে রেখেই আজও বেলুড় মঠে আয়োজন করা হয় যীশু পুজোর।
মূল মন্দির অর্থাৎ শ্রীরামকৃষ্ণের মন্দিরের বাইরে, ডানদিকে তৈরি করা হয় একটি অস্থায়ী মঞ্চ। সেখানেই স্থাপন করা হয় মা মেরি আর যীশুখ্রীস্টের মূর্তি। গোটা চত্বরটাকেি সাজিয়ে তোলা হয়। সাধারণভাবে ফুল আর মিষ্টির পাশাপাশি, বিশেষ এই পুজোর আয়োজনে থাকে কেক। প্রসাদে দেওয়া হয় বিভিন্ন রকমের কেক। বিশেষ এই আয়োজনে সন্ন্যাসীরা কেরল গান পরিবেশন করেন ও উপস্থিত ভক্তকূলের সামনে বর্ণনা করা হয় যীশুখ্রীস্টের ত্যাগ, মহানুভবতা ও সাহসীকতার গল্প। বর্ণনা করা হয় যীশুখ্রীস্টের জীবনী। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। পুজো শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয় ভক্তদের মধ্যে।
অন্যদিকে ক্রিসমাস ইভে সেজে উঠেছে গোটা শহর থেকে শুরু করে শহরতলি ও। পার্ক স্ট্রিটে প্রত্যেক বছরের মতো ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি চলছে উৎসবের আমেজ গায়ে মেখে নেওয়া। শহরের পাশাপাশি, শ্রীরামপুর, চন্দননগর ও সেজে উঠেছে ক্রিসমাসের সাজে। সেজে উঠেছে বহু বছরের পুরনো ব্যান্ডেল চার্চ ও।






















