Ritabrata TMC: বিধানসভায় ১০টি কমিটির মধ্যে ৯টিরই চেয়ারম্য়ান 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবিরের, নেই কালীঘাট তৃণমূল
Kolkata News: শুক্রবার দিল্লি থেকে কলকাতা দেখা গেল এই দুই ছবি! সকালে যেদিন প্রধানমন্ত্রী প্রাতরাশ সারছেন সুদীপ, কাকলি, শতাব্দীদের সঙ্গে ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে বৈঠক করছেন ঋতব্রত-তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।

কলকাতা: দিল্লিতে NCPI সাংসদরা যেদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট সারলেন, সেদিনই মুখ্য়মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর ১৩ জন প্রতিনিধি। সেখান থেকে বেরিয়ে সরকারের ভূমিকার প্রশংসা শোনা গেল ফিরহাদ হাকিম, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের গলায়। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কুণাল ঘোষ। এদিকে, বিধানসভায় ১০টি কমিটির মধ্যে ৯টিরই চেয়ারম্য়ান করা হয়েছে 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবির থেকে। কোথাও নেই কালীঘাট তৃণমূল।
শুক্রবার দিল্লি থেকে কলকাতা দেখা গেল এই দুই ছবি! সকালে যেদিন প্রধানমন্ত্রী প্রাতরাশ সারছেন সুদীপ, কাকলি, শতাব্দীদের সঙ্গে ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে বৈঠক করছেন ঋতব্রত-তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার দুপুরে SIR-সহ নানা বিষয়ে, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন, ঋতব্রত-তৃণমূলের ১৩ জনের প্রতিনিধি দল। যার মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অরূপ রায় ছাড়া বাকি ১১ জনই সংখ্য়ালঘু বিধায়ক।
কালীঘাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে শোনা গেল বিগত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চড়া সুর! বর্তমান সরকারের প্রশংসা! বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, 'আমাদের পরিষদীয় দল আমরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলাম, যে SIR-এ যে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বিচারাধীন রয়েছে, ট্রাইব্রুনালে সেই নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই। উনি আমাদের সময় দিয়েছিলেন। যে প্রশাসনিক মুখ্যমন্ত্রী তার সঙ্গে বিরোধী দলনেতা তাঁর কথা হবে, এটা গণতান্ত্রিক দস্তুর। কিন্তু ফ্য়াসিবাদে এটা তো হওয়ার কথা নয়। তো স্বাভাবিকভাবে হয়নি। সেই সরকার থাকলে, সেই সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললে প্রাণ চলে যেত। হাউসের ভিতরেও কথা বলা যাচ্ছে।'
২০১১ সাল থেকে যিনি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সরকারে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন! মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কিচেন ক্য়াবিনেটের সদস্য় ছিলেন, সেই ফিরহাদ হাকিম বৈঠকের পর যা বললেন, তা তো আরও গুরুত্বপূর্ণ! ফিরহাদ বলেন, 'আমরা শুনেছি যে বিরোধীদের সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার সরকারপক্ষের সবসময় থাকে। এটা আমরা শুনেছি, ডঃ বিধানচন্দ্র রায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন জ্যোতি বসুকে সেইভাবেই দেখতেন এবং তার পরেও সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় জ্যোতি বসুর সেই সম্পর্ক ছিল। আমরা যখন কংগ্রেস করেছি তখনও দেখেছি, যে আমাদের সুব্রতদা, সোমেনদা, এদের সাথে তখন জ্য়োতি বসু বা তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুর একটা সৌজন্যমূলক সম্পর্ক ছিল।'
বৈঠক নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। কুণাল ঘোষ বলছেন, 'বিধানসভা থেকে বিজেপির B টিম নম্বর ২, গদ্দার। তারা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। বিজেপির দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে। রাজনৈতিক সঙ্কট। বেরোতে হবে। আরে সমস্য়া নিয়ে বিধানসভায় একদিন বললেন না, তার জন্য নবান্ন যেতে হয়?'
বিধানসভায় মোট কমিটি ৪১। তার মধ্য়ে ১০টির মাথায় বসানো হয়েছে বিজেপি বিরোধীদের। এরমধ্য়ে ৯টি কমিটির চেয়ারম্য়ানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর বিধায়কদের। ১টির চেয়ারম্য়ান করা হয়েছে ISF-র নৌশাদ সিদ্দিকি-কে। অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি'র চেয়ারম্য়ান করা হয়েছে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়াল। এই পরিসংখ্য়ান দেখিয়েই কালীঘাট-তৃণমূল-এর দাবি, তাদের বাদ দেওয়া মানেই, সেটিং স্পষ্ট! বেলেঘাটার বিধায় বলছেন, 'বিধানসভায় বিরাট গটআপ। দিল্লিতেও গটআপ।+সেটিং চলছে। যে ক'টা কমিটির বিরোধীদের দেওয়া হল সেগুলো তো সব যাদেরকে বিজেপি আশীর্বাদ করছে, বিজেপি খাঁড়া করছে ঢাল হিসেবে যে প্রকৃত বিরোধীদের জায়গা দিও না। বকলেস পরানো বিরোধীদের দাও। যারা কিছু করবে না সেইরকম বিরোধীদল তৈরি করতে চাইছেন। সমস্তটা এই বালিশচাটাদের দিয়ে পুরো সেটিং করেছে।'























