Agnimitra Paul: 'যে বাচ্চাগুলোর প্রাণ গেল...', মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে আগের সরকারকে তোপ অগ্নিমিত্রা পালের
Murshidabad School Bus Accident: স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা। আর ওই ট্রেনের ধাক্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫। আহত আরও কয়েকজন।

মুর্শিদাবাদ: ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটা বাচ্চা স্কুলগাড়িতে পেরোচ্ছিল কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি লেভেল ক্রসিং। আর সেই সময়ই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Accident)। নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধাক্কা মারে ওই স্কুলগাড়িতে। রেল সূত্রে খবর, ওই স্কুলগাড়িটি লেভেল ক্রসিং পেরোনোর সময় দ্রুতগতিতে আসা নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন সেটিতে বেশ জোরে ধাক্কা মারে। আর এই সংঘর্ষের জেরেই স্কুলগাড়িটি এক্কেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল বহরমপুরের (Berhampur) কাছে স্কুলের পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বার সেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৫। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
দুর্ঘটনাস্থলে দিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "বাইরের দেশগুলোতে তো এইরকম রেললাইনের ওপর দিয়ে লোক যায় না। সেখানে আরও ভিড় থাকে। রেললাইনের ওপর দিয়ে রেল ওভারব্রিজে যাতায়াত করে। আগের সরকার করতে দেয়নি যে কোনও উন্নয়নের কাজ। আজ এই আমরা এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছি আবার একটি স্টিল কারখানার শিলান্যাস করা হবে। আমাদের এই সরকারের ৬০দিন বয়স। উন্নয়ন করার মানসিকতা থাকলেই সবকিছুই হত। একটা সামান্য ওভারব্রিজ করতে দেয়নি আগের সরকার বিভিন্ন জায়গাতে।"
দুঃখপ্রকাশ করে অগ্নিমিত্রা পাল আরও বলেন, "যে বাচ্চাগুলোর প্রাণ গেল, একজন সাইকেল চালক, বাচ্চাগুলোকে যে নিয়ে যাচ্ছিল, যে কারপুলের ড্রাইভার... খুবই দুর্ভাগ্যজনক। যে দায়িত্বে ছিল ওখানে, তাঁর তো ব্যবস্থা করাই হবে। কিন্তু এই যে প্রাণগুলো চলে গেল, ছোট ছোট প্রাণ, এটা নিয়ে বলার কোনও ভাষা নেই আমার। আসানসোলে প্ল্যান হয়ে গেছে, অর্থ অনুমোদন মিলেছে, তারপরও আসানসোলের কোর্ট মোড়ে ওভারব্রিজ করতে দেয়নি। আমি এটাকে অনুমতি করিয়ে দিয়েছিলাম। অনধিকার প্রবেশ হয়েছে। আগের সরকার কোনও উদ্যোগই নেয়নি।"
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে রেলের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি আলাদা করে মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা রাজ্যের। ওই দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিং খোলা ছিল, এমনই দাবি আহত পুলকার চালকের পরিবারের। 'একটি ট্রেন যাওয়ার পর লেভেল ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছিল। স্কুলগাড়িটি সেইসময় রেললাইন পেরোতে গেলে উল্টোদিক থেকে আরেকটি ট্রেন চলে আসে।' এই দুর্ঘটনার দায় যে গেটম্যানের, এমনই দাবি করেছেন আহত গাড়িচালকের ভাইয়। ইতিমধ্যেই গেটম্যানকে সাসপেন্ড করে তদন্ত শুরু করেছে রেল। আর ওই অভিযুক্ত গেটম্যানকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তেজিত স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত ওই গেটম্যানকে লেভেল ক্রসিং-সংলগ্ন কেবিনে আটকে রাখেন। তারপর পুলিশের হাতে তুলে দেন। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে আরও ১ রেলকর্মীকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।






















