Suvendu Adhikari : আজই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, হবে ৫ মন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন, দিলীপ, অগ্নিমিত্রারা কোন দফতর পাচ্ছেন?
BJP Govt In West Bengal : 'আমাদের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে। ৫ জন মন্ত্রীকে দফতর বরাদ্দ করব। প্রশাসনিকভাবে কাজ শুরু করব।' বললেন শুভেন্দু

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের পথচলা শুরু হয়েছে জোরকদমে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ( Suvendu Adhikari) নেতৃত্বে আজ নবান্নে বসছে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। বিকেলে সর্বস্তরের পুলিশকর্তাদের নিয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকও। আর তার আগেই নতুন সরকারের মন্ত্রীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। সোমবারের আগেই শুভেন্দু বললেন, 'সোমবার দিন আমি অফিস করব। আমাদের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে। ৫ জন মন্ত্রীকে দফতর বরাদ্দ করব। প্রশাসনিকভাবে কাজ শুরু করব।'
শপথের পরই ‘কাজে নামার’ বার্তা দিলীপ ঘোষের
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ ( Dilip Ghosh ) । খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি বিধায়ক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দেন। শপথের পরদিন সকালেও অবশ্য চেনা ছন্দেই দেখা গেল দিলীপ ঘোষকে। রবিবার সকালে তিনি নিয়মমাফিক প্রাতঃভ্রমণে বেরোন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং জনসংযোগও সারেন। নেতা থেকে বিধায়ক, তারপর মন্ত্রী— রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি বলেই মনে করছেন অনেকে। প্রাতঃভ্রমণের সময় তাঁর সঙ্গীরা নতুন মন্ত্রীকে সংবর্ধনাও জানান। আয়োজন করা হয়েছিল ইডলি-সাম্বরের প্রাতরাশের। পার্কের বেঞ্চে বসেই সেই খাবার খেতে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে। এমনকি এক সমর্থক তাঁকে নিয়ে গানও বাঁধেন।
কোন দফতর পাচ্ছেন দিলীপ?
দিলীপ ঘোষ বলেন, “শুরু হয়েছে, শপথগ্রহণ হয়েছে খালি, ঢোকা হয়েছে খালি। চার্জ যতক্ষণ না আমাদের হাতে আসছে, আমরা কাজ শুরু করতে পারব না। দফতর ভাগ হবে, আরও অনেক মন্ত্রী শপথ নেবেন। দুই-চার দিন সময় লাগবে।” দিলীপ ঘোষের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন কত মিথ্যে কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। তাই আমাদের কর্মীরা প্রথমেই বাঙালিকে মাছ-ভাত খাওয়াচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মাছ খাওয়াচ্ছি আমরা, অন্ধ্রের মাছ নয়। পশ্চিমবঙ্গের চাল আর পশ্চিমবঙ্গের মাছ দিয়েই মাছ-ভাত খাওয়াব।”
‘সেবা করতে এসেছি, শাসন নয়’, বার্তা অগ্নিমিত্রার
শনিবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল ( Agnimitra Paul ) ও। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি বিধায়ক রবিবার সকালে পৌঁছে যান কালীঘাটে মা-কালীর মন্দিরে ( Kalighat Kali Temple) । সেখানে পুজো দেন, আরতি করেন এবং মন্দির চত্বরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন। অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “সেবা করতে এসেছি, শাসন নয়।” তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ভরসা IN, ভয় OUT। আজ মা কালীর মন্দিরে গিয়ে দেখলাম চারদিকে জয় শ্রীরাম ধ্বনি উঠছে। এতবার এসেছি, আগে কখনও এমন শুনিনি।” কালীঘাট মন্দিরের পাশাপাশি পাশের শিবমন্দির ও জগন্নাথ মন্দিরেও পুজো দেন তিনি। অগ্নিমিত্রা বলেন, “শান্তি আসুক পশ্চিমবঙ্গে। সব মানুষের উন্নয়ন হোক। সবাই যেন মাথা উঁচু করে, ভয় ছাড়া বাঁচতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেখানো পথেই আমরা মানুষের জন্য কাজ করব।”
আরও পড়ুন : গোটা অপারেশনের পিছনে তাহলে এই ব্যক্তিই ? চন্দ্রনাথ খুনের পর্দাফাঁস হল?
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে প্রশাসনিক তৎপরতা
নতুন সরকার গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আজ প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক হওয়ার কথা। পাশাপাশি বিকেলে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও রয়েছে। তার আগে নবান্ন সংলগ্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। রাজনৈতিক মহলের মতে, শপথ গ্রহণের পরদিনই সাধারণ মানুষের মধ্যে গিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছেন বিজেপির নতুন মন্ত্রীরা। কেউ জনসংযোগে, কেউ মন্দিরে, কেউ আবার মাছ-ভাতের আসরে— নতুন সরকারের প্রথম দিনেই আলাদা রাজনৈতিক ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।






















