Mamata Banerjee: শুভেন্দুর সঙ্গে কি মতবিরোধ ছিল? মুখ খুললেন সিভি আনন্দ বোস, মমতার সঙ্গে কী কথা জানালেন
CV Ananda Bose: বুধবার এবিপি আনন্দকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ খোলেন বোস।

কলকাতা: হঠাৎ রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা। তার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ। পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সেই আবহে নিজে সেই জল্পনা আরও উস্কে দিলেন তিনি। তাঁর প্রতি 'অবিচার' হয়েছে বলে মমতা যে দাবি করেছেন, সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়। জবাব বোস জানালেন, মমতা যখন কিছু বলেছেন, নিশ্চয়ই তার পিছনে কোনও কারণ রয়েছে। (CV Ananda Bose)
বুধবার এবিপি আনন্দকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ খোলেন বোস। তাঁর প্রতি 'অবিচার' হয়েছে, মেয়াদ শেষের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে যে দাবি করেছেন মমতা, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়। জবাবে বোস বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী খবর আছে, তা আমি জানি না। তবে তিনি যখন কোনও মন্তব্য করেছেন, তার পিছনে নিশ্চয়ই কিছু কারণ আছে। আমি শুনেছি। কিছু বলার নেই।" (Mamata Banerjee)
গতকাল মমতার সঙ্গে সাক্ষাতে কী কথা হয়েছে, জানতে চাইলে বোস বলেন, "উনি আসতেন, দেখা করতেন। সৌজন্যমূলক এবং পেশাদার সম্পর্ক ছিল আমাদের। আমি চলে যাচ্ছি বলে, বাংলার শিষ্টাচার মেনে উনি আমার সঙ্গে দেখা করার কথা ভেবেছিলেন, বিদায় জানাতে এসেছিলেন।" পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থাকাকালীন মমতা সরকারের সঙ্গে বার বার সংঘাত বাঁধে বোসের। কিন্তু লোকভবনের পরিবর্তে বর্তমানে রাজ্য সরকারের গেস্ট অফিসেই রয়েছেন তিনি। সেই নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, "টক-মিষ্টি সম্পর্ক মিষ্টত্ব পেয়েছে।" পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হিসেবে রাজ্যে ভোটও দেবেন বলে জানিয়েছেন বোস।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বোসের মতবিরোধ দেখা দেয় বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সেই নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, "বিরোধী দলনেতার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল আমার।" কিন্তু হঠাৎ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কেন? বোস বলেন, "খেলার নিয়মই এটা, থামতে জানতে হয়। আমি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে ৪০ মাস কাজ করেছি। এমন পরিস্থিতি এল, যেখানে বিবেকের কাছ থেকে জবাব এল, পদত্যাগের সময় এসেছে। বিদায় জানানোর শেষ এসেছে। রাজ্যপাল হিসেবে আমি সবসময় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলাম। রাজনৈতিক চাপ কোনও প্রভাব ফেলেনি আমার উপর। আমার মনে হয়েছিল বিদায় জানানোর সময় এসেছে।"
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সম্প্রতি রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেন বোস। মেয়াদ শেষ হতে দেড় বছর বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নাম ঘোষণা হয় আর এন রবির, যিনি এতদিন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন, যাঁর সঙ্গে এম কে স্ট্যালিন সরকারের সংঘাত আদালতেও পৌঁছয়। হঠাৎ কেন পদত্যাগ করলেন বোস, কেন তাঁর জায়গায় রবিকে আনা হচ্ছে, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কিন্তু সেই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বোস। বরং সম্প্রতি তিনি জানান, সঠিক সময়ই তাঁর পদত্যাগের কারণ জানা যাবে।
সেই আবহেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন মমতা। জানান, 'অবিচার' করা হয়েছে বোসের সঙ্গে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মঙ্গলবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে সটান বোসের সঙ্গে দেখাও করতে চলে যান মমতা। জানান, লোকভবনে উঠতে চাননি বোস। তাঁর আবেদনে শেষ পর্যন্ত আলিপুরের গেস্ট হাউসে থাকতে রাজি হন।
বোসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মমতা বলেন, "ওঁর প্রতি যে অবিচার হয়েছে, অন্যায় হয়েছে...পাঁচ বছরের মেয়াদ সত্ত্বেও, দেড় বছর বাকি থাকতে, নির্বাচনের আগে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমি মনে করি এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার মনের কথাটা আমি ওঁকে বলে এসেছি। আমি ওঁকে অনুরোধ করেছি যে, 'আপনি বাংলায় এতদিন ছিলেন, বাংলাকে ভাল বোঝেন, বাংলায় আবার আসুন'।"
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর মমতা সরকারের সঙ্গে গোড়ার দিকে সুসম্পর্কই ছিল বোসের। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এমন হয় যে, প্রকাশ্যে কটাক্ষ, পাল্টা কটাক্ষও উড়ে আসতে শুরু করে। কিন্তু বোসের পদত্যাগে কি সেই সমীকরণ বদলে গেল? গত কয়েক দিনে জোরাল হয়েছে এই প্রশ্ন। সেই আবহেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন বোস।
যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিজেপি-র দেবজিৎ সরকার বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাসভবনে গিয়ে ভাইফোঁটা দেবেন, অ-আ-ক-খ কতটা শিখেছেন, দেখবেন। কারণ তখন অনন্ত সময় পাবেন তিনি। কারণ আর তৃণমূলের সরকার সামলানোর ঝক্কি পোহাতে হবে না তাঁকে। বিজেপি-র সরকার থাকবে তখন।"























