DA Case: অল্প কিছু ডিএ দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হল না, DA নিয়ে ফের অভিযোগ
কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, 'উনি তো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশই মানলেন না।'

কলকাতা: রবিবার ভোটের দিন ঘোষণার ৫৫ মিনিট আগে সোশাল মিডিয়ায় বকেয়া DA দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে DA দেওয়ার কথা জানিয়ে অর্থ দফতরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি সামনে এল। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বকেয়া DA দেওয়ার যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে তার ভিত্তিতে নোটিফিকেশন জারি করল অর্থ দফতর।
২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৪ বছরের বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে ২টো কিস্তিতে। চলতি বছরের মার্চে প্রথম কিস্তি ও সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় কিস্তি মিলবে। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া DA-এর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট যে কমিটি তৈরি করে দিয়েছে, সেই কমিটির সঙ্গে রাজ্য সরকার আলোচনা করে ঠিক করবে বকেয়া DA কবে, কত কিস্তিতে দেওয়া হবে। পরবর্তীকালে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, 'উনি তো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশই মানলেন না। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে আগে ২৫% দিয়ে দিতে হবে কিন্তু এটা কী হল। ভোটের আগে কিছুটা দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।'
রাজ্য সরকারি কর্মী এবং যাঁরা ২০০৮ সালের এপিল মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়কালে কাজ করেছেন এবং এখন অবসর নিয়েছেন তারা সকলেই বকেয়া DA পাবেন। গ্রুপ A, B, C কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া DA-র টাকা যাবে সরাসরি GPF অ্যাকাউন্টে। বকেয়া DA জমা পড়ার ২ বছর পরে টাকা তুলতে পারবেন সরকারি কর্মীরা। এরমধ্যে কেউ অবসর নিলে তিনি সেই সময়ে পুরো টাকা তুলতে পারবেন। গ্রুপ D কর্মীদের বকেয়া DA-র টাকা জমা পড়বে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। পেনশনভোগীরাও বকেয়া DA-র টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায় ছিল, বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ টাকা সঙ্গে সঙ্গে মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ টাকা সুপ্রিম কোর্টের গঠন করে দেওয়া কমিটির সঙ্গে রাজ্য় সরকারকে আলোচনা করে সেই টাকা, কবে, কত ধাপে দেওয়া হবে সেটা ঠিক করতে হবে। তারমধ্যে প্রথম কিস্তি দিয়ে দিতে হবে এই বছরের মার্চ মাসের মধ্যে।
রাজ্য সরকারের জারি করা নোটিফিকেশনের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সূত্রের খবর, এই নিয়ে রাজ্য সরকারে ব্যাখ্যা, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের স্পিরিট সেটাকে ধরে এই বকেয়া টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই রায় সম্পূর্ণ কার্যকর করার জন্য যে পরিমাণ হিসেব করতে হবে এবং যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন, সেই নিয়ে একাধিক জটিলতা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও প্রথমে বকেয়া DA দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করছিল রাজ্য সরকার। নির্দেশ কার্যকর করার সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেছিল রাজ্য সরকার।তারমধ্যেই রবিবার ভোট ঘোষণার আগে বকেয়া DA নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।























