Debraj Chakraborty : 'তেরশো কোটির সম্পত্তি' দেবরাজের ! কীভাবে ? মুখ খুললেন বিজেপির কৌস্তভ ও তরুণজ্যোতি
Debraj Chakraborty Assets : কলকাতা থেকে দার্জিলিং, তোলাবাজির টাকায় তেরশো কোটির সম্পত্তি তৈরির অভিযোগ। কীভাবে এত সম্পত্তির মালিক দেবরাজ ? সবটাই কী তলবাজির টাকায়?

কলকাতা : সম্পত্তির নয়ছয় থেকে তোলাবাজি, ভুরি ভুরি অভোযোগ। বুধবার পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে। ভোটের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগ ওঠে তাঁরদের বিরুদ্ধে। এমনকি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি কম দেখানোর অভিযোগও ওঠে অদিতির বিরুদ্ধে। এখন প্রশ্ন, এত কম সময়ে এত সম্পত্তির মালিক কীভাবে? কোথা থেকে এই টাকা আসত প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলরের কাছে? মুখ খুললেন বিজেপির দুই বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী ও তরুণজ্য়োতি তিওয়ারি।
কলকাতা থেকে দার্জিলিং, তোলাবাজির টাকায় তেরশো কোটির সম্পত্তি তৈরির অভিযোগ। STF-এর জালে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তী।শুধু দেবরাজ নন, তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও নাম জড়িয়েছিল দেবরাজের। এর আগে, সেই বিষয়ে দেবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল CBI। স্বামী এবং স্ত্রী, ২ জনের সম্পত্তিই নাকি বেড়ে গিয়েছে হিসাব বহির্ভূতভাবে, আদালতে এমনই অভিযোগ করা হয়েছিল। সওয়াল জবাব পর্বে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, শেষ ৫ বছরে দম্পতির আয় ১ কোটি টাকা, অথচ গাড়ি কিনছেন ৬০ থেকে ৭০ লাখের! কীভাবে সম্ভব? অভিযোগকারীর আইনজীবী কুমার জ্য়োতি তিওয়ারি সওয়াল করেন, শেষ ৫ বছরে অবৈধ ভাবে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা আয় করেছেন এই দম্পতি।
আরও পড়ুন - রকেট গতিতে রাজনৈতিক উত্থান ! দেবরাজ কীভাবে অভিষেক ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন ? হতবাক সকলে
রাজারহাট গোপালপুর বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্য়োতি তিওয়ারি জানান, ''আমি যেটা অভিযোগ করেছিলাম। ৬০ হাজার টাকা স্য়ালারি, আর বাদবাকি এদিক ওদিক মিলে এক লক্ষের কাছাকাছি বেতন। জিপ মেরিডিয়ান চলে আসছে। কোথা থেকে আসছে? কেউ জানে না।'' পাশাপাশি, বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী জানান, ''দেবরাজ শুধুমাত্র সাধারণ জনগণ, ব্য়বসায়ীদের থেকে তোলাবাজি করতেন না। তৃণমূল নেতাদের থেকেও তোলাবাজি করতেন । তৃণমূল নেতাদের থেকেও টাকা তুলতেই দেবরাজ। ওখান থেকে বলে দিত ক্য়ামাক স্ট্রিটের নির্দেশ আছে, এত টাকা দিতে হবে। পঞ্চায়েতে ভোটে লড়তে হবে, ক্য়ামাক স্ট্রিটের নির্দেশ, এত টাকা দিতে হবে। টাকাগুলো তো কালেকশন করত দেবরাজ।''
২০১১ সালে প্রাক্তন মন্ত্রী ও রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পূর্ণেন্দু বসুর সেক্রেটারি ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। ভোটে টিকিট না পাওয়া নিয়ে পূর্ণেনদু বসুর সঙ্গে মনোমালিন্য়ের জেরে তৃণমূল ছেড়ে দেন দেবরাজ। যোগ দেন কংগ্রেসে। ২০১৫ সালের পুরভোটে দেবরাজকে প্রার্থী করে কংগ্রেস। বিধাননগর পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু কংগ্রেস প্রতীকে জিতে, ৬ মাসের মধ্যেই কংগ্রেস ছেড়ে দেন দেবরাজ। নিজের ফায়দা বুঝে নিতে তৃণমূলের সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু। পরে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হাত ধরে ফিরে আসেন তৃণমূলে। ২০২২-এর পুরভোটে তৃণমূলের টিকিটে জিতে ফের কাউন্সিলর হন দেবরাজ চক্রবর্তী। বিধাননগর পুরসভার মেয়র পরিষদও করা হয় তাঁকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার যুব তৃণমূল সভাপতি ছিলেন তিনি।























